পদ্মা সেতু বিষয়ে বিশ্ব ব্যাংকের বিবৃতি
ওয়াশিংটন, ২৯ জুন, ২০১২- পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের ব্যাপারে বাংলাদেশের সরকারী কর্মকর্তা, এসএনসি লাভালিনের কর্মকর্তা এবং বেসরকারী পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের দূর্নীতির ষড়যন্ত্র সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্ব ব্যাংকের কাছে রয়েছে যা বিভিন্ব সূত্রে দৃঢ়ভাবে প্রমান হয়েছে।
বিশ্ব ব্যাংক ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এবং ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে দুটি তদন্ত্মের তথ্য প্রমাণ প্রদান করেছে। আমরা বাংলাদেশ কর্তৃপÿকে বিষয়টির পূর্ণ তদন্ত্ম করতে এবং যথাযথ বিবেচিত হলে দুর্নীতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্ত্মি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম। আমরা আশা করেছিলাম যে সরকার বিষয়টিতে যথাযথ গুরুত্ব আরোপ করবে।
কানাডায় যেখানে এসএনসি লাভালিনের সদরদফতর অবস্থিত সেখানে বিশ্ব ব্যাংকের রেফারেলের ভিত্তিতে ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসেস কয়েকটি তলস্নাসি পরোয়ানা (সার্চ ওয়ারেন্ট) তামিল করে এবং এক বছর ব্যাপী তদন্ত্ম চালিয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পের সঙ্গে সংশিস্নষ্ট দুজন সাবেক এসএনসি লাভালিনের কর্মকর্তার বিরম্নদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দাখিল করেছে। তদন্ত্ম ও বিচার কাজ অব্যাহত রয়েছে। আদালতে পেশকৃত তথ্য এই ঘটনার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
তাস্বত্বেও, বাংলাদেশ তথা এ অঞ্চলের উনড়বয়নের ক্ষেত্রে পদ্মা সেতুর ভূমিকা বিবেচনা করে আমরা বিকল্প উপায় তথা টার্ন-কি পন্থায় প্রকল্প বাস্ত্মবায়নের প্রস্ত্মাব দিয়েছিলাম এই বিবেচনায় যে সরকার আমাদের দ্বারা উন্মোচিত উচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতির বিরম্নদ্ধে পদক্ষেপ নিবে। সুশাসন ও উন্নয়নের প্রতি এসব হুমকির ব্যাপারে পক্ষেপ গ্রহনে জোর না দেওয়া বিশ্বব্যাংকের জন্য দায়িত্বহীনতার পরিচয় হবে।
বিকল্প টার্ন-কি পন্থায় অগ্রসর হওয়ার জন্য আমরা নিম্নক্ত পদক্ষেপ সমূহ প্রস্ত্মাব করেছিলাম: (১) যেসব সরকারী কর্মকর্তার বিরূদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত্ম শেষ না হওয়া পর্যন্ত্ম তাদের ছুটি প্রদান, (২) এই অভিযোগ তদন্ত্মের জন্য দুদকের অধীনে একটি বিশেষ তদন্ত্ম দল নিয়োগ, এবং (৩) আন্ত্মর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত বিশ্ব ব্যাংকের নিয়োগকৃত একটি প্যানেলের কাছে তদন্ত্ম সংশিস্নষ্ট সকল তথ্যের পূর্ণ ও পর্যাপ্ত প্রবেশাধিকারে সরকারের সম্মতি প্রদান যাতে এই প্যানেল তদন্ত্মের অগ্রগতি, ব্যাপকতা ও সুষ্ঠুতার ব্যাপারে উন্নয়ন সহযোগীদের নির্দেশনা দিতে পারে। আমরা সরকার ও দুদকের সাথে ব্যাপক ভাবে কাজ করেছি এটি নিশ্চিত করতে যে অনুরোধকৃত সকল পদক্ষেপ সম্পূর্নভাবে বাংলাদেশের নিজস্ব আইন ও বিধি-বিধানের আওতায় থাকে
আমরা প্রস্ত্মাব দিয়েছিলাম যে প্রমবার দরপত্র আহ্বান করা হলে বিশ্ব ব্যাংক ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরা
প্যানেলের মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রকল্প অর্থায়নের ব্যাপারে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত্ম নিবে যদি পূর্ণ ও সুষ্ঠু তদন্ত্ম
চলছে এবং যথাযথ অগ্রগতি হচ্ছে তা প্রতীয়মান হয়।
বাড়তি প্রয়াস হিসেবে, আমরা বিশ্ব ব্যাংকের অবস্থান ব্যাখ্যা করা এবং সরকারের জবাব জানার জন্য ঢাকায়
একটি উচ্চ পর্যায়ের দল পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সরকারের কাছ থেকে সন্ত্মোষজনক জবাব মিলেনি।
বিশ্ব ব্যাংক দুর্নীতির ঘটনায় চোখ বন্ধ করে থাকতে পারে না, তা উচিত নয় এবং থাকবেও না। কেননা আমাদের
শেয়ারহোল্ডার ও আইডিএ দাতা দেশগুলোর প্রতি আমাদের নৈতিক দায়বদ্ধতা এবং সুষ্ঠু আর্থিক ব্যবস্থাপনা
সংক্রান্ত দায়িত্ববোধ রয়েছে। আইডিএ সম্পদ কাঙ্খিত লক্ষে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।
এবং কেবল তখনই কোন প্রকল্পে আমরা অর্থায়ন করবো যখন আমরা পুরোপুরি নিশ্চিত হবো যে আমাদের অর্থ
স্বচ্ছ ও সঠিক ভাবে ব্যবহৃত হবে। বাংলাদেশ সরকার থেকে পর্যাপ্ত বা ইতিবাচব সাড়া না মেলায় বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা
বহুমুখী সেতু প্রকল্পের সহায়তায় ১.২ বিলিয়ন ডলার ঋণ বাতিলের সিদ্ধান্ত্ম গ্রহন করেছে যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
পিডিএফ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


