somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একত্রিভুতকরন তত্ত্ব

২০ শে এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ১১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এই বর্ষণমুখর দিনে জানালার গ্রিল দিয়ে বাইরে ২ মিনিট তাকালে আপনার মনটা নিশ্চয়ই কাব্যিক হয়ে গুন-গুন করে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাওয়া শুরু করবে! কিন্তু সমস্যা হবে আরও ১০ মিনিট পর!

যখন উৎসুক মন কাব্যিকতা থেকে দার্শনিকতার দিকে চলে গিয়ে বিচিত্র সব প্রশ্নের উদ্ভব ঘটাবে।

যেমন, আমরা মানুষরা কেন এখানে? আমরা কোথা থেকে এসেছি বা কোথায় যাব?

অথবা এই জটিল মহাবিশ্ব কি দিয়ে গঠিত হল? ইত্যাদি হাজারও প্রশ্ন।

চলুন তাহলে এই বিচিত্র প্রশ্নটির সহজ উত্তর খোজার একটু চেষ্টা করি পদার্থবিজ্ঞানের আলোকে----

প্রসঙ্গত প্রথমেই স্যার আইজাক নিউটনের কথা চলে আসে, যে কিনা সর্বপ্রথম মহাকর্ষ বল আবিষ্কার করেন। মহাকর্ষ বল আবিস্কারের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হল গ্রহ-নক্ষত্রের গতি ও তাদের কক্ষপথ, যদিও মহাকর্ষ বলের নিজের প্রকৃতি থেকে গেল রহস্যময় হিসাবে। তবে আবিষ্কারটা আমাদের মহাবিশ্বের রহস্য অনেকটা উন্মোচিত করার পাশাপাশি পৃথিবী কেন্দ্রিক মহাবিশ্বের মত অনেক ভুল ধারনা থেকে মুক্তি দেয়।

যাই হোক, নিউটনের পর আসল আলবার্ট আইনস্টাইন নতুন মাত্রার চিন্তা, তার বিখ্যাত “আপেক্ষিকতাবাদ” নিয়ে। নিউটোনিয়ান মেকানিক্স গুলিয়ে ভরকে শক্তিতে রুপান্তর করল এবং মহাকর্ষকে ব্যাখ্যা করে নতুনভাবে, স্থান-সময় এর জামিতিক বুনন হিসাবে। আর সময়কে প্রতিষ্ঠা করল চতুর্থ মাত্রা হিসাবে।

একই সাথে আসল ম্যাক্স প্লাঙ্কের ‘কোয়ান্টাম তত্ত্ব’! সবকিছুর গঠনকে বর্ণনা করল পৃথক, অদৃশ্য শক্তির একক ‘কোয়ান্টার’ মাধ্যমে, যার কিনা একইসাথে তরঙ্গ এবং বস্তুর ধর্ম বিরাজমান।

কিন্তু, কোয়ান্টাম তত্ত্ব মহাকর্ষের ব্যাপারে একেবারে নিশ্চুপ থাকল।

অপরদিকে আবার আইনস্টাইনের ‘সাধারন আপেক্ষিকতাবাদ’ গ্রহ-নক্ষত্রের গতি, তারা-গ্যালাক্সির বিবর্তন ব্যাখ্যা করলেও কোয়ান্টাম থিওরি এবং ক্লাসিক্যাল মেকানিক্সকে উপেক্ষা করে গেল।

কিছু ক্ষেত্রে এই তত্ত্বগুলার অসামঞ্জস্য সমস্যার সৃষ্টি করল। যেমন- “ব্লাক হোল”।

এখানে সাধারন আপেক্ষিকতা প্রযোজ্য বিশাল ভরের জন্য, আবার একই সাথে অতি ক্ষুদ্র আকারের জন্য কোয়ান্টাম তত্ত্বও প্রযোজ্য!

এমতাবস্থায় একটা একত্রিকরন অত্যন্ত জরুরী হয়ে গেল পদার্থবিদদের জন্য। এমন একটা নতুন মডেল প্রয়োজন যার সাহায্যে সবকিছু একসাথে বর্ণনা করা যাবে বা যাকে বলা যাবে “Theory of Everything”

এখান থেকেই উৎপত্তি “স্ট্রিং থিওরি” এর। যার অভিধানিক অর্থ ‘রজ্জু তত্ত্ব’।

এই তত্ত্বের মুল ধারনা হল এই মহাবিশ্বের সবকিছু একধরনের ‘অবিশ্বাস্য ক্ষুদ্র কম্পনশীল শক্তি বা স্ট্রিং’ দ্বারা গঠিত। পুরো মহাবিশ্বটাই যেন এক বৃহৎ মহাজাগতিক ছন্দ। একই সাথে এটি মহাবিশ্বের ১১টি ভিন্ন-ভিন্ন মাত্রা থাকার কথাও বলে।

আর আনবিক পর্যায় থেকে যথাক্রমে-

অণু > পরমাণু > মৌলিক কনিকা(ইলেকট্রন,প্রোটন,নিউট্রন)> অতিপারমানবিক কনা(ইলেকট্রন,কোয়ার্ক)> স্ট্রিং

এই স্ট্রিং থিওরিই আমাদের দেখায় যে পরমাণুর কোয়ার্ক এবং ইলেকট্রন কোন শূন্য(০) মাত্রিক বস্তু না, বরং একমাত্রিক আন্দোলিত রশি বা স্ট্রিং। যা কিনা আন্দোলিত হয় এবং কণাগুলোকে তার প্রয়োজনীয় ভর, চার্জ ও ঘূর্ণন দিক প্রদান করে থাকে। ‘Nambo-Goto Action’ এর সাহায্যে আমরা সহজেই বুঝতে পারি স্ট্রিং কিভাবে স্থান ও সময়ে প্রবাহিত হয়।

এই স্ট্রিং আবার দুধরনের-
1. I. বদ্ধ স্ট্রিং(যেমন- গ্রাভিটন)
2. II. উন্মুক্ত স্ট্রিং(যেমন- ফোটন)

স্ট্রিংগুলা নিজের ‘টানশক্তি’ এবং হাইজেনবার্গের ‘অনিশ্চয়তা নীতির’ মধ্যে ভারসাম্য করতে গিয়ে কিছুটা প্রসারিত হয়ে থাকে। এই স্ট্রিং গুলা নিজেরা ভাঙতে আবার জোড়া লাগতে পারে।

তবে যদিও স্ট্রিং তত্ত্বের কোন প্রত্যক্ষ পরীক্ষামূলক প্রমান নেই, তবুও স্টিফেন হকিং, এডওয়ার্ড ওয়াইডেন, লিওনার্ড সাসকিন্ড এর মত বিজ্ঞানীরা এতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।

পরিশেষে বলা যায় যে ‘স্ট্রিং তত্ত্বের’ সবচেয়ে বড় সাফল্য এটি চারটি মৌলিক বলকে (মহাকর্ষ, তড়িৎচৌম্বক বল, দুর্বল ও সবল নিউক্লিও বল) একত্রিত করতে পেরেছে। যা কিনা ছিল আইনস্টাইন সহ অনেক বিখ্যাত পদার্থবিদের অসমাপ্ত স্বপ্ন!
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা - প্রমাণ

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:১২



ব্লগার সাহেব আমেরিকা থেকে লিখেছেন, “অমুক আসলে মুক্তিযোদ্ধা নন।”

আমি বন্ধুকে ফোন করলাম।
বললাম, “তুমি নাকি ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা?”

সে বলল, “বুঝতে পারছি না।”

“কেন?” আমি প্রশ্ন করলাম।

“১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×