somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আধুনিকতার বাঁধুনি(হাল-আমলের বাংলা ভাষা নিয়ে একটি নীরস কচকচি)

০১ লা নভেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৫:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


জ্ঞানীরা বলেন ভাষা বয়ে চলে। কিন্তু আমি বলি, যত না বয়ে চলতে হয়—তারচে বেশি তাকে সয়ে চলতে হয়।ভাষা নিয়ে মানুষের জ্ঞান এত ভাসা-ভাসা যে তাকে সর্বংসহা হওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।

হাল আমলের ‘হুদাই’ শব্দটার কথা ধরা যাক—“কিছু-কিছু পাবলিক এখন ‘হুদাই’ লাইক মারে।” মানে,‘হুদাই’ বলতে এখন আমরা বুঝাচ্ছি খামোখা, এমনি, অকারণ ইত্যাদি।

বিশ বছর আগের একটা বাক্য দেখি—‘বেহুদা কথা বলবে না তো! ’ এখানে বেহুদা বলতে কী বুঝানো হচ্ছে? খামোখা, এমনি-এমনি, অকারণ —তাই তো?

তাহলে আগে ‘বেহুদাই’ বলতে যা বুঝানো হতো, এখন তা আমরা ‘হুদাই’ দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছি!আমাদের ‘বোধ’ কতটা ‘বেবোধ’ হলে এমন করা সম্ভব?

এই যে ভাষাকে অ্যায়সা করে একটা আছাড় দিয়ে মানেটাকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে দিলাম, তারপরও সে আমাদের সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে! সয়ে যাওয়ার চরম পরাকাষ্ঠা!

আরেকটা উদাহরণে আসা যাক—“দোস্ত! তোর জামাটা তো ‘জট্টিল’ হইছে!”এই বাক্যে ‘জটিল’ বলতে বুঝানো হলো ‘দারুণ’!
শব্দের অর্থকে কতটা জটিল করলে ভাষার প্রতি এই নিদারুণ আচরণ সম্ভব!

“দোস্ত! তোরে তো আজ ‘অস্থির’ লাগছে!”—বক্তার দোস্ত যে অস্থির হয়ে ছটফট করছেন, এই বাক্যে বক্তা আসলে তা বুঝাচ্ছেন না। তিনি বলতে চাইছেন—তার দোস্তকে আজ চমৎকার লাগছে, সুন্দর লাগছে!ভাষার প্রতি আমাদের এই অস্থিরতা আদৌ লোপ পাবে বলে মনে হয় না।

পরবর্তী উদাহরণে আসা যাক—‘সেই, মামা! সেই!’ বন্ধু বা সহপাঠীকে মামা বলা হচ্ছে—আমার আপত্তি এখানে নয়। আপত্তি হলো ‘সেই’টা দ্বারা উনি ‘কোনটা’কে বুঝাচ্ছেন?উনি আসলে ‘সেই’ দ্বারা বুঝিয়েছেন ‘অস্থির’, ‘জটিল’, নাইস! সেই পুরাতন মানেগুলো প্রয়োগের গ্যাঁড়াকলে পড়ে মানে-মানে কেটে পড়তে শুরু করেছে!

তো, ভাষা সম্পর্কে এত এত ভাষণ দিয়ে আমি আসলে কী বুঝালাম?কাউকে ‘অস্থির’ লাগলে তাকে কি আমরা অস্থির বলব না?কারও জামা জট্টিল লাগলে সেটাকে জটিল বলা যাবে না?

অবশ্যই যাবে।ভাষা তো আর আমার বাপ-দাদার সম্পত্তি নয়, যে আমার ইচ্ছেমতো পাবলিক সেটাকে ব্যবহার বা অপব্যবহার করবে। ভাষা হলো ভাব আদান-প্রদানের মাধ্যম।তাই অন্যরা যে শব্দ দিয়ে যে-ভাব প্রকাশ করছে, আমাকেও বাধ্য হয়ে সেটাকে সেই ভাবেই নিতে হবে। ভাব ধরে বসে থাকলে তো আর চলবে না। হাজার হলেও এখন গণতন্ত্রের যুগ।পাল্লা যেদিকে ভারি,সেদিকেই পাড়ি দিতে হবে। নইলে, চিল্লাপাল্লায় তিষ্ঠানো দায় হবে।

—আধুনিকতার বাঁধুনি
স্নিগ্দ্ধ মুগ্দ্ধতা
৩১ অক্টোবর, ২০১৭।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা নভেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৪১
২৬টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সী পার্ল এবং চারপাশ

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৪


খুব ভোরে ঘুম ভাঙ্গল। সূর্য তখনও জাগেনি। ব্যালকুনিতে গিয়ে বসলাম কিছুক্ষন। সামনে সাগর আপনমনে ঢেউ তুলে নাচছে। একজন মানুষও নাই সাগরপাড়ে। এমন নিরিবিলি সাগরপাড়ই চেয়েছিলাম। যেখানে পুরোটাই আমার থাকবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয়

লিখেছেন এমএলজি, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪০

= ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয় =

বিশ্বখ্যাত আমেরিকান বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি এনভিডিয়া (NVIDIA)-তে কর্মরত, বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং অত্যন্ত সম্ভাবনাময় তরুণ বিজ্ঞানী ড.... ...বাকিটুকু পড়ুন

জলসার আসর

লিখেছেন নিচু তলাৱ উকিল, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:১০

রঙ্গিন শহররের বুকে তাম্বু টাঙিয়ে বসিয়েছি জলসার আসর।
ধর্মীয় বয়ানের ফাঁকে;
গলির মাথায় বেজে উঠছে উলুধ্বনি।
এদিকে তুমি আর আমি ডুবে আছি কলকির ধোঁয়ায়।
নোনতা ঘামের ব্যবচ্ছেদে পুটিমাছের বুক চিরে মেখে দিয়েছি পাঁচ প্রহরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ শেষ জীবনে

লিখেছেন সামিয়া, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৯



ঘুমিয়ে থাকা একজন মানুষ কখনো কখনো জেগে থাকা একজন মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ভালো থাকতে পারে? কথাটা শুনতে অদ্ভুত। কিন্তু বয়স হলে মানুষ অনেক অদ্ভুত কথাই বিশ্বাস করে চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতি পদে আনভীর সোবহানকে দেখতে চাই।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২


সায়েম সোবহান আনভীর। এক বিশাল বিজনেস টাইকুন, বসুন্ধরা গ্রুপের যোগ্য কান্ডারী। আহা, কী তার ব্যক্তিত্ব! দেখতে যেমন সুন্দর, চরিত্রও যেন মাশাআল্লাহ্ ফুলের মতো পবিত্র। আর বসুন্ধরা গ্রুপের কথা তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×