(গত ১৫ ই ডিসেম্বর টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ফারিদ যাকারিয়ার ‘The Year of Microterrorism’- এই লেখাটির অংশবিশেষ অনুবাদ করা হয়েছে।)
বিশ্ব অর্থনীতির এ বছর ছিল ধীর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের, ইউরোপের সমস্যা, প্রনোদনা প্যাকেজ, কর কর্তন এবং বাজেট বিতর্ক মত নানা বিষয়ের। তাই বিদেশ নীতি অপেক্ষাকৃত কম সংবাদ তৈরি করেছে। ইরাক সুস্থির ছিল, কিন্তু আফগানিস্তান অস্থির ছিল তবে আগের মত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পুরো পৃথিবীর সম্পর্ক একটা যৌক্তিক রূপলাভ করেছে। তাই এই বছরটাকে সন্ত্রাসের বছর বলাটাকে অদ্ভুত লাগতে পারে। কিন্তু এটা তাই ছিল।
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ২০১০ সালের মে মাসের একটি রিপোর্টে বলা হচ্ছে, গত নয় মাসে যে পরিমাণ এবং যে মাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের উপর আক্রমণের চেষ্টা করা হয়েছে তা এর আগের যেকোন এক বছর সময়কালের তুলনায় বেশি। ২০১০ সালের অক্টোবরে প্রিন্টারের কার্টিজে স্থাপিত বোমা ব্যবহার করে একটি কার্গো প্লেন উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, যা এই কথাটির যর্থাযর্থতা নির্দেশ করে। তাই এটা শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের বিষয় (প্রপঞ্চ) নয়। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা রিয়া (আরআইএ) নোভোস্টি জানাচ্ছে, ২০১০ সালে রাশিয়ার সীমানায় সন্ত্রাসী আক্রমণ দ্বিগুণ হয়েছে।
অতীত বছরগুলোতে আমরা নতুন ধরনের যুদ্ধের বৃদ্ধি লক্ষ্য করেছি, এই ক্ষুদ্রসন্ত্রাস বা মাইক্রোট্যারোরিজম, যেটাকে একটি ছোট পরিসরের সন্ত্রাস হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যায়, যা স্থানীয় পর্যায় থেকে পরিচালিত হয়, এবং এগুলোর চর্চাকারীরা বড় পরিসর কিংবা বড় ধরনের অপারেশন পরিচালনা করে না কিন্তু তবুও এগুলো বেশ সফলতাপূর্ণ। এ ধরনের কার্যকলাপের পথপ্রদর্শক আল-কায়েদা, এবং তাদের মতাদর্শের সাথে একমত পোষণকারী দল তবে এটা এখনও অস্পষ্ট যে এ ধরনের প্রচেষ্টার সাথে ওসামা বিন লাদেন এবং আয়মান আল যাওয়াহিরি জড়িত কিনা। তারপরও যদি তারা সম্পূর্ণভাবে এই বিষয়টির সাথে সম্পূর্ণযুক্ত না থাকে, তবুও সেটা স্বস্তিদায়ক নয়। তাহলে এটা সম্পূর্ণরূপে একটি বিষয়কে হাইলাইট করবে আর তা হচ্ছে এটা শীর্ষ থেকে নয় বরং নিচ থেকে পরিচালিত হচ্ছে।
আল-কায়েদার একটি নতুন ওয়েব ম্যাগাজিনের (ওয়েবজিন) সম্পাদকরা ক্ষুদ্রসন্ত্রাস পিছনে যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তারা বলেন, আমাদের বড় ধরনের আঘাত করার দরকার নেই। শত্রুকে আক্রমণ করা হচ্ছে রক্তপাতের মাধ্যমে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা, তারা যেটিকে “ হাজার কর্তনের কৌশল বা দ্য স্ট্রেটিজি অব এ থ্যাউজেন্ড কাট” হিসেবে নামারোপ করেছে। ক্যাটালগের আরেকটি প্রবন্ধে হতাহতের জন্য অপারেশন পরিচালনা করতে কত খরচ হয় সেটাকে হাইলাইট করা হয়েছে, যেখানে বলা হচ্ছে প্রিন্টার-কার্টিজ হামলায়, দুটো ফোন,দুটো প্রিন্টার এবং শিপিং খরচ যার মূল্য সব মিলিয়ে ৪২০০ মার্কিন ডলার। ওয়েবজিনের নামই নির্দেশ করে যে এর উদ্দেশ্য হচ্ছে ব্যাপকভাবে পশ্চিমা যুবকদের বিশেষ করে আমেরিকার যুবকদের আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী হিসেবে প্ররোচিত করা এবং দলভুক্ত করা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


