না পারলাম না, ফেলানীর জন্য এক ফোটাও চোখের জল ফেলতে পারলাম! ১৫ বছরের তরতাজা একটি কিশোরী, চোখের সামনে কাটা তারের বেড়াতে ঝুলে আছে, তারপরও পারলাম না, মেয়েটার জন্য এক ফোটা চোখের জল ফেলতে! কেন পারব? কি হয়েছে? আমাদের জীবন কী থেমে আছে? যার গেছে সেই জানে সে কী হারিয়েছি, আমরা তো কেবল কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেওয়ার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকি। ফেলানীর মৃত্যুর দশদিন পর বাংলাদেশ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ করা হয়, এটা যে আসলেই আমাদের জীবনে কোন প্রভাব রাখেনি তার জন্য কী এই বিলম্ব প্রতিক্রিয়াই যথেষ্ট নয়। তারও তিনদিন পর ২০ তারিখে শেরাটন হোটেলে দুই দেশের সচিব পর্যায়ের আলোচনায় নয়া দিল্লী এই মৃত্যুর জন্য সমবেদনা জানিয়েছে। বেশ এর চেয়ে ভাল কিছু আর কী হতে পারে, আমিও কাউকে চড় মেরে বলব ভাই সরি ভুল হইয়া গেছে। এই সরি, ভুল হইয়া গেছে ধরনের ডায়ালগ সাম্প্রতিক সময়গুলোতে খুব শুনতে পাচ্ছি। আমাদের শ্রদ্ধেয় বুশ ভাই তার আত্মজীবনীতে অকপটেই তার ভুল স্বীকার করে নিয়েছেন, কিন্তু আর কী যায় আসে যা হবার তো তা হয়েই গেছে। এইতো সেদিন আমাদের অর্থমন্ত্রীও একই কথা বললেন, কিন্তু এখন আর কী হবে, যার নৌকা ডুবে গেছে সে তো আর সেটা তুলতে পারবে না।
আমরা সবাই মিথ্যাচার করি, তারপরও সরি ভুল হইয়া গেছে, ভুল করেই ভুল করে ফেলেছি। আমরা খুবই মহ্ৎ তাই কেউ ভুল করে ক্ষমা চাইলে তাকে ক্ষমা না করে পারি না। কিন্তু আমরা কী পারব ফেলানীর পিতার কাছে তার মেয়ে কে ফিরিয়ে দিতে, পারব কাটা তারে ঝুলে থাকা সেই স্মৃতি ভুলিয়ে দিতে, আমাদের কিছু যাবে আসবে না, সময়ের নিয়মে দিন, মাস গড়িয়ে বছর পার হবে আমরা ভুলে যাবো, কিন্তু দুটি চোখ কী তখনও তাকে ভুলতে পারবে, তার বুকটা কী তখনও হাহাকার করবে না।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১১ সকাল ১১:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


