লাদেনের নিহত হওয়াকে আমি খুব বিচ্ছিন্নভাবে দেখতে পারছি না। কাজের সুবাদে আমি আজ সারাদিন লাদেনের নিউজ নিয়ে আপডেটেড ছিলাম। তাই মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য আমার কাছে পরস্পর বিরোধী লেগেছে।
বিবিসির একটি খবরে বলা হচ্ছিল যে স্থানে লাদেন অবস্থান করছিল সেটা মোটামুটি অনেকদিন ধরেই। আর এটা পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পাশে তাই এটা বিশ্বাস করে নেওয়া কঠিন যে সে এতদিন ধরে ওখানে ছিল আর কেউ জানল না।
আরেকটি খবরে বলা হচ্ছে যে ভবনটিতে লাদেন অবস্থান করছিল সেটিতে টেলিফোন লাইন ও ইন্টারনেটের লাইন না থাকায় সন্দেহ তৈরি হয়। দুনিয়া এত বুদ্ধিদীপ্ত গোয়েন্দা সংস্থার তাহলে এই সামান্য বিষয় ধরতে এত সময় লাগল। বিশ্বাস হচ্ছে না।
আর ঐ ভবনটি ঐ এলাকায় অপেক্ষাকৃত নতুন। ২০০৫ সালে এটা তৈরি করা হয়েছিল। আশেপাশের ভবনগুলো( ভবন না বলে বাড়ি বলাই ভালো হবে) অপেক্ষাকৃত জরাজীর্ণ। তাহলে তো মনে হচ্ছে লাদেন ২০০৫ সাল থেকেই লাদেন সেখানে আছেন।
আর লাদেনের লাশ সমুদ্রে ভাসিয়ে দেওয়া এবং সে ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য বেশ রহস্যময়। লাদেন নিহত হলে আমি নিঃসন্দেহে বেশ খুশি হব। কিন্তু ছোট ছোট এসব কিছু বিবেচনায় আনলে আমার কাছে এটা সত্য মনে হয় না। আর সত্যি হলেও একটা বিষয় নিশ্চিত যে বারাক ওবামাও জর্জ বুশের পথে হাটছেন। বুশও দ্বিতীয় বার নির্বাচিত হওয়ার আগে লাদেনের ভুতকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে। আর ওবামা এমন এক সময় লাদেনকে হত্যা করার কথা ঘোষণা করলেন যখন গত মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করার ঘোষণা দিযেছিলেন। অর্থাৎ দ্বিতীয়বারের মত হোয়াইট হাউজ মি. ওবামাকে দেখার ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
একজনকে বলতে শুনলাম লাদেনকে মেরে যুক্তরাষ্ট্র ভুল করেছে, তাদের উচিত ছিল তার আদর্শকে হত্যা করা। তবে আমি বলব লাদেন নিহত হোক বা না হোক স্নায়ুযুদ্ধের পর বিশ্বে যে শত্রুশূণ্যতা দেখা দিয়েছিল, লাদেন তার সামান্য অংশ পূর্ণ করতে পেরেছে। আর এটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন কিছু নয় নতুন শত্রু তৈরি করা তো কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


