বিশ্ব মুক্ত গনমাধ্যম দিবস আজ। আবার এটাকে সাংবাদিকদের হুমকি-ধামকির, আহত আর মৃত্যুর একটা সম্মানজনক বাৎসরিক দিবস হিসেবেও বর্ণনা করা যেতে পারে। গতকাল মানবতা বিষয়ক জাতিসংঘ হাইকমিশনার এবং ইউনেস্কোর মহাপরিচালক এক যৌথ বিবৃতিতে জানাচ্ছেন, গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে ৫০০-রও বেশি সাংবাদিক নিহত এবং কেবল ২০১০ সালেই ৬০ জন নিহত হয়। গনমাধ্যমকে সমাজের প্রতিচ্ছবি বলা হয়। আর এই প্রতিবিম্বের কান্ডারিদেরই যদি এমন অবস্থা হয় তাহলে সমাজ অতলে হারিয়ে যেতে বেশি সময় লাগবে না।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বিগত বছরটা যে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের জন্য বেশ সুখকর ছিল তা বলা যাচ্ছে না। বরং গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর দেশের প্রায় প্রতিটি সংবাদপত্রের, সংসদে সংবাদপত্র সম্পর্কে যে বিষোদগার করা হয়েছিল তা নিয়েই শিরোনাস হয়েছিল। আর বিশ্ব মুক্ত গনমাধ্যমের দিবসের আগের দিন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ২০১০ সালে সারাদেশে সন্ত্রাসী/দুর্বৃত্তদের হাতে ৪ জন সাংবাদিক খুন ও দু’জন অপহরণসহ ৩০১ জন সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩৭ জন, প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে ৩৯ জনকে, সন্ত্রাসী কর্তৃক হামলা, নির্যাতন, বোমা নিক্ষেপ ও হুমকি দেওয়া হয়েছে ৬৫ জন সাংবাদিককে, প্রকাশিত সংবাদের জন্য মামলা হয়েছে ৪২ জনের বিরুদ্ধে। ২০১১ সালের প্রথম তিন মাসে এই তথ্য আরো উদ্বেগজনক। এই সময় সারাদেশে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৬৫ জন।
সাংবাদিকতা খুব সহজ কিছু নয়। কারণ মনগড়া কথা দিয়ে সাংবাদিকতা হয় না যা হয তা হচ্ছে কল্পকাহিনী। আর এটা সেবামূলক পেশা হওয়ায় সমাজের প্রতি সাংবাদিকদের দায়বদ্ধতা অনেক। যেহেতু সাংবাদিক নিজেও একজন তাই তিনি বিভিন্ন চাপের সম্মুখীন হন। এক ভালো সাংবাদিক তিনিই, যিনি যতটা সম্ভব এসব চাপ মোকাবেলা করে তার দায়িত্ব পালন করতে পারেন। বাংলাদেশে যেখানে সবার জন্য তথ্য নিশ্চিত করতে তথ্য অধিকার আইন করা হয়েছে কিন্তু বাস্তবায়নের জায়গায় যে ফাকা ঘন্টা। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের ১ও ২ ধারা মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। তবে এটা ঠিক সাংবাদিকতার নীতিমালায বলা হচ্ছে, বিচারাধীন কোন মামলা নিয়ে প্রতিবেদনে সতর্ক থাকতে হবে, বিচারক বা আদালতের রায় নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না, অভিযোগ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে ‘আসামী’ হিসেবে উল্লেখ না করা ইত্যাদি এরকম আরো বেশ কয়েকটি নীতির কথা বলা আছে।
বিশ্ব মুক্ত গনমাধ্যম দিবস, পৃথিবীতে সত্য ও সঠিক তথ্যের মুক্তি নিয়ে আসুক। কারণ ড্যানি শেকটার বলছেন, the more you see the less you know. তাই সঠিক ও সত্যটা জানতে চাই, যা আসলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক, সামাজিক, মানসিক উন্নয়নের জন্য জরুরি।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মে, ২০১১ সকাল ১১:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


