somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানুষ বেচে খাই!

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১২ দুপুর ২:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাংবাদিকদের পক্ষে সাফাই গাওয়ার কিছুই নেই। তবে সাংবাদিক কোন স্বাধীন সত্ত্বা নয়। তাকে একটা নির্দ্দিষ্ট ছক আর কাঠামো মেনেই কাজ করতে হয়। এটা অবশ্য ভিন্ন কথা যে আমাদের দেশে সাংবাদিকরা অধিকাংশক্ষেত্রেই পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে পারেন না। আর এটা কমবেশি পুরোটাই তাদের ব্যক্তি সমস্যা। তাছাড়া মিডিয়ার মালিক কারা তাদের দিকটাও দেখা উচিত। সবাই ব্যবসায়ী কিংবা রাজনৈতিক দলের সদস্য। তাই তাদের কাছে ভালো কিছু আশা করাই ভুল। কেবল মালিকানার জোরে অনেক আগাছাকেই মিডিয়ার জগতে বড় বড় পদে আসীন থাকতে দেখা যায়। একটি উদাহরণ দেই, এখনও আনুষ্ঠানিক সম্প্রচার শুরু হয়নি এমন একটি টিভি চ্যানেলে দেখলাম ফ্যাশন শো দেখাচ্ছে। ফ্যাশন শো দেখানো খারাপ কোন বিষয় নয়, তবে ফ্যাশন শোতে কিছু মেয়ে উদ্ভট সব পোশাক পরে ক্যাট ওয়াক করছিল। আর মঞ্চের সামনে একটি মেয়ে যত ভাবে সম্ভব শরীর নাচিয়ে হিন্দি গানের সাথে তাল মিলাচ্ছিল।

ইদানিংকালে হলুদ সাংবাদিকতার কথা কমবেশ সবাই জানে। এর জন্য অবশ্য বাংলাদেশের সাংবাদিককূলের দারুন কৃতিত্ব রয়েছে। কারণ আর যাইহোক, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ আর যথাযথ নির্দেশনা না দিয়ে, সাংবাদিকতা করতে দিলে তো, কম বেশ এমনটাই ঘটবে। তো, যা বলছিলাম, হলুদ সাংবাদিকতা, এটার ইতিহাস বহুত পুরোনো। খুব সহজ করে বললে, হলুদ সাংবাদিকতা হচ্ছে, অতিরঞ্জিত আর মিথ্যা সংবাদ। উইলিয়াম রেন্ডম হার্স্টের নিউ ইয়র্ক জার্নাল আর জোসেফ পুলিৎজারের নিউ ইয়র্ক ওয়ার্ল্ডের মধ্যকার প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করেই হলুদ সাংবাদিকতার জন্ম। তাদের কৃতকর্মের কারণে আমেরিকা ও স্পেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। তাহলে বুঝুন হলুদ সাংবাদিকতা কী করতে পারে। তবে সব কিছুকেই ঢালাওভাবে হলুদ সাংবাদিকতা বলার কোন মানে নেই।

একটি গণমাধ্যমের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সংবাদ পরিবেশন করা, আর সেটা অবশ্যই বিক্রির উদ্দেশ্যে। পাশাপাশি কিছু মতাদর্শ তৈরি করা এবং ভালো-মন্দটা বুঝতে সাহায্য করা। কিন্তু আসলে কী ঘটে? ধরুন আপনি কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, যাদের কাজ হচ্ছে আইডিয়া বিক্রি করা, তো, আপনার বস কী সবসময় আপনার মতকে প্রাধান্য দেয়? বোধ করি না। আবার যখন উত্তরটা ইতিবাচক হচ্ছে, তখনও কিন্তু আপনার আইডিয়াটা পুরোপুরি আপনার মনের মত যাবে না। যাইহোক, যেটা বলছিলাম, সংবাদ প্রতিষ্ঠানগুলো নিউজ লেখে, সাথে টিকে থাকার জন্য বিজ্ঞাপনের ব্যবস্থা করে, পাশাপাশি আরও বিভিন্ন কাজ করে। তো, যে প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিয়ে সংবাদ প্রতিষ্ঠান তার কর্মচারীদের বেতন দেয়, তারা তো তাদের বিপক্ষে কখনই নেতিবাচক কিছু ছাপবে না, যেমন প্রথম আলো কখনই গ্রামীণ ফোনের বিরুদ্ধে নেতিবাচক কিছু ছাপে না। আর আগেই বলেছি যে এখন মিডিয়ার মালিকানায় রয়েছে ব্যবসায়ী গোষ্ঠী একইসাথে রাজনৈতিক দলের নেতারা। তাই সবকিছুই সংবাদাকারে আসে না। আবার এটা ধরে নেবেন না, যে আপনি যা দেখছেন বা পড়ছেন সেটাই সত্য! কারণ ঐ যে বলেছিলাম মিডিয়া মতাদর্শ তৈরি করে। নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড হারম্যান তাদের সম্মতি উৎপাদন নামক একটি বইয়ে দেখিয়েছেন, মিডিয়া কীভাবে এলিট শ্রেণীর মতাদর্শ উৎপাদন করে। অর্থাৎ মিডিয়াতে আপনি যা পাচ্ছেন, তা আপনি কী চাইছেন সেটা নয় বরং এলিট শ্রেণী যা চাচ্ছে এবং যেভাবে দেখাতে চাচ্ছে আপনি ঠিক সেভাবেই দেখছেন। আদতে কিন্তু বিশ্বের কোথাও মিডিয়া স্বাধীন নয় আর তাই বিকল্প মিডিয়ার ধারণা থেকেই ইন্টারনেট খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

উপরে এত কথা লিখলাম শুধু এটা বিষয় বলার জন্য যে, রাজধানীতে একজন ডাক্তার সম্ভ্রমহানি হওয়ার হাত থেকে নিজেকে বাচাতে গিয়ে খুন হয়েছেন। আর আদতে এটা মিডিয়ার মালিকদের (ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক) তেমন কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। বরং এসব বিষয় মিডিয়াতে না আসাটাই অনেক ভালো। আর একটা বিষয় খেয়াল করুন, আশুলিয়া ট্রাজেডির পর কি হলো? সবাই দুদিন যেতে না যেতে সব ভুলে গেছে। বরং মিডিয়াগুলো অন্যান্য রাজনৈতিক খবরগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করছে। কারণ মানুষকে এসব বিষয় নিয়ে ভাবতে দেয়া যাবে না। বরং তাদের চিন্তাভাবনা অন্য কিছুর দিকে সরিয়ে দিতে হবে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×