somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়তে এখনো অনেক কাজ বাকি

০৬ ই আগস্ট, ২০১৫ সকাল ৮:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের মানুষকে অসম্ভব ভালবাসতেন। অনেকেই বঙ্গবন্ধুকে সাবধান করতেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কোনদিন ভাবতেও পারেননি বাঙালি কেউ তাঁর কোন ক্ষতি করবে। যে জাতির জন্য বঙ্গবন্ধু সারাটা জীবন সংগ্রাম করলেন, ভাষা থেকে স্বাধীনতা এনে দিলেন, অর্থনৈতিক মুক্তির দিকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, জাতির দুর্ভাগ্য সেই বাঙালি জাতির হাতেই বঙ্গবন্ধুকে জীবন দিতে হলো। আসলে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার মাধ্যমে একাত্তরের বিজয়ী জাতি বিশ্বের কাছে ঘাতকের জাতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। বাঙালি জাতির সকল অর্জন ও গৌরবকে একে একে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাঙালি জাতির হারানো সেই গৌরব ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

গতকাল বুধবার বিকালে ধানমন্ডিস্থ আবাহনী মাঠ প্রাঙ্গণে ক্লাবটির প্রতিষ্ঠাতা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠপুত্র শহীদ শেখ কামালের ৬৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আবাহনী লিমিটেড আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে আমরা অনেক অর্জন করেছি। তবে এখনো অনেক কাজ বাকি আছে। বাংলাদেশকে আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলবো ইনশাল্লাহ। শেখ কামালের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, শেখ কামাল আমার দু’বছরে ছোট হলেও সে ছিল আমার খেলার সাথী, ঝগড়াঝাটি-মারামারিসহ সবকিছুর সঙ্গী। একজন প্রধানমন্ত্রী ও জাতির পিতার সন্তান হলেও অত্যন্ত সাদামাটা জীবন যাপন করতো শেখ কামাল। বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী শেখ কামালের কোন লোভ-লালসা ছিল না। তার একটিমাত্রই লক্ষ্য ছিল ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উন্নয়ন। আমৃত্যু শেখ কামাল তা করে গেছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা তাকেও নির্মমভাবে হত্যা করলো। কামাল বেঁচে থাকলে জাতিকে অনেক কিছুই দিতে পারতো।

বঙ্গবন্ধু এদেশের মানুষের স্বাধীনতা এনে নিতে জীবনের অধিকাংশ সময় জেল-জুলুম নির্যাতন সহ্য করেছেন উল্লেখ করে আবেগ-আপ্লুত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩১ মে সবাইকে রেখে শেখ রেহানাকে নিয়ে জার্মানীতে গেলাম। মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেল। মাত্র এক রাতেই বাবা-মা, তিন ভাই, আত্মীয়-পরিজন সবাইকে হারালাম। তিনি বলেন, জার্মানীতে যাওয়ার আগে শেখ কামালকে জিজ্ঞাসা করলাম তোর জন্য কী আনবো? অন্যরা হলে সদ্য বিবাহিত স্ত্রীর জন্য কিছু আনতো বলতো। কিন্তু শেখ কামাল আমার ডাইরিতে কী আনতে হবে তা লিখে দিল। পড়ে দেখলাম শেখ কামাল লিখেছে- জার্মানী থেকে আবাহনীর খেলোয়াড়দের জন্য এ্যাডিডাস বুট আনতে হবে। এই ছিল শেখ কামাল। তিনি বলেন, শেখ কামাল পড়াশুনায় ছিল মেধাবী। পড়াশুনার পাশাপাশি সে গান, নাটক, খেলাধুলা এবং অসম্ভব সুন্দর সেতার বাজাতে পারতো। রাতে যখন ৩২ নম্বর বাসার তিন তলায় শেখ কামাল একমনে সেতার বাজাতো, সেই সেতারের সুমধুর ঝংকার যেন ধানমন্ডির ওই এলাকার প্রতিটি জিনিষকে আলোড়িত করতো। তিনি বলেন, শেখ কামাল একজন দক্ষ রাজনৈতিক কর্মীও ছিল। ঢাকা কলেজে পড়ার সময় ঐতিহাসিক ৬ দফার আন্দোলনসহ প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে সে ছিল সর্বাগ্রে।

প্রধানমন্ত্রী চরম দুঃসময়েও আবাহনী ক্রীড়া চক্রকে টিকিয়ে রাখতে জড়িতদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এই আবাহনীকে টিকিয়ে রাখতে অনেককে অনেক ঝড়ঝাপটা সহ্য করতে হয়েছে। এখানে আন্তর্জাতিক মানের শেখ কামাল ক্রীড়া কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হচ্ছে। এটা হলে শুধু এই এলাকার জনগণই নয়, গোটা দেশের ক্রীড়াক্ষেত্র উপকৃত হবে। এই অত্যাধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স গড়ার কাজে আবাহনী ভক্ত ও অনুরাগীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্রীড়া ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৬ জনকে আবাহনী লিমিটেডের পক্ষ থেকে শেখ কামাল স্বর্ণ পদক প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে এবার শেখ কামাল স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম, ক্রিকেটে বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান, বাংলাদেশ হকি দলের অধিনায়ক অসীম কুমার গোপ, সেরা পৃষ্ঠপোষক কাজী আনিস আহমেদ, সেরা সংগঠক নাজমুল হাসান পাপন। আবাহনী লিমিটেডের প্রয়াত পরিচালক শামসুল ইসলাম খানও স্বর্ণপদক পেয়েছেন। শামসুল ইসলামের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন তাঁর পুত্র প্রকৌশলী মইনুল হক শান্ত। এছাড়া আবাহনী লিমিটেডের টেবিল টেনিস দল পরপর তিনবার হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় শেখ জাহাঙ্গীর আলমকে বিশেষ ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঐতিহ্যবাহী এই ক্রীড়া সংগঠনটির চেয়ারম্যান ও দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান। বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেই প্রথমে প্রধানমন্ত্রী আবাহনী লিমিটেডের সকল পরিচালক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে প্রতিষ্ঠিত শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর ক্লাব প্রাঙ্গণে নির্মিতব্য শেখ কামাল বয়সভিত্তিক একাডেমির ভিস্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে ক্রীড়া সংগঠক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও রাজনীতিক শেখ কামালের জীবনভিত্তিক একটি প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। স্মতিচারণ অনুষ্ঠানে আবাহনী মাঠ প্রাঙ্গনে নির্মিতব্য আন্তর্জাতিক মানের শেখ কামাল ক্রীড়া কমপ্লেক্সের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সালমান এফ রহমান এবং আবাহনী লিমিটেডের পরিচালক ও বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন কাজী নাবিল আহমেদ এমপি, বিশিষ্ট শিল্পপতি অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, সাবেক এমপি হারুন অর রশিদ, আবাহনী সমর্থক গোষ্ঠীর সভাপতি মীর নিজামউদ্দিন আহমেদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০১৫ সকাল ৮:০৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি মুমূর্ষু কবিতা

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১১



আমি আর কবিতা লিখব না বলেও
লিখে ফেলি একটি মুমূর্ষু কবিতা–
জন্ম নেয়ার আগেই যারা অবিরাম
মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, লাথি মারছে
পদ্যের চিরায়ত চোয়ালে !
পঙক্তিতে পঙক্তিতে পথ হেঁটে
প্রচণ্ড পিপাসায় আমি পান করি
কবিতার স্নিগ্ধ জল; আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ এসেছে শরৎ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৩১



শরৎ-প্রাতে শিউলি ঝরা ক্ষণে
দিবাকর ছড়ায় হাসি।
দিঘির জলে রক্তিম পদ্ম
ফুটেছে রাশি রাশি।

ছাতিম গাছের নিভৃত নির্জনে
সবুজ পাতার ঘ্রাণ।
সুখ আহ্লাদে ডাকছে নিসর্গ
উচাটন মন প্রাণ। 

স্নিগ্ধ  বাতাস দোলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইনকা চিপা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬


এখন পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে চলে আসা। যে সময়ে শ্রেণীকক্ষে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করার কথা, সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×