“অচল শিখর ছোট নদীটিরে
চিরদিন রাখে স্মরণে,
যতোদুরে যায়- স্নেহধারা তার
সাথে যায় দ্রুত চরণে ।
তেমনি তুমিও থাক নাই থাক
মনে কর মনে কর না,
পিছে পিছে তব চলিবে ঝরিয়া
আমার আশিষ ঝরনা ।”
( কবিগুরুর ‘উপহার’ ছড়াটির শেষ কয়েক স্তবক )
- ‘কবিগুরুর’ এই অমোঘবাণীসমৃদ্ধ ছড়াটি পঠণে ( আশির দশকে আমার ছোট মামার সংগ্রহের ত্রিশ/ চল্লিশ দশকের কলকাতা থেকে প্রকাশিত 'শুকতারা' কিশোর ম্যাগাজিনে পঠিত ছড়াটি কবিগুরুর সম্ভবত: সরাসরি পান্ডুলিপি থেকে ছাপানো যেখানে তাঁর স্ট্যাম্পসাইজ ছবিসম্বলিত বাণীও থাকতো ) কবিগুরুর প্রতি প্রথম প্রেম । দ্বিতীয়বার প্রেম- “তোমারি খেলা ঘরে শিশুকাল কাটিলরে- তোমারি ধুলামাটি অঙ্গে মাখি ধন্য জীবন মানি “ কিংবা “তোর দিন ফুরালে সন্ধ্যাকালে কী-দ্বীপ জ্বালিস ঘরে...তখন খেলাধুলা সকল ছেড়ে তোমার কোলে ছুটে আসি”... আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ অব্যবহিত পরে প্রাণের জাতীয় সঙ্গীতের সাথে আমার কৈশরিক হাইস্কুল জীবনের সাথে মিশে যাওয়া গ্রাম বাংলার প্রকৃতি ও মায়ের অতৃপ্ত ভালোবাসা তথা আমাদের সেই সময়ের প্রজন্মের জীবনযাত্রায় হুবুহু নিঁখুত মিল অন্তরে ধারণ করা ! তারপর একে একে গল্পগুচ্ছ থেকে অন্যান্য কবিতার বই পড়া । এযাবতকালে পড়া অসংখ্য ছোট গল্পের মাঝে সেরা ছোটগল্পটি হৃদয়ে অনুধাবন করা এখনও এসএসসি ক্লাসের পাঠ্যসূচীর ‘পোস্টমাষ্টার‘গল্পটি অন্তর্জালের সন্ধ্যানে মাঝে মাঝে পড়ি প্রিয় লেখকের ‘গল্পগুচ্ছের’সফট কপিতে --- ‘বালিকা রতন’ আর ‘পোস্ট মাষ্টারের’ ভালোবাসার অব্যক্ত কান্না এখনও চোখের কোণে জল এনে দেয় , বার বার পড়তে ইচ্ছে জাগে- ‘হায় বুদ্ধিহীন মানবহৃদয়.. ভ্রান্তি কিছেুতেই ঘোচেনা ...........’!


সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০২১ রাত ১০:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



