somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার প্রথম চাকরী

০৫ ই মার্চ, ২০১৯ দুপুর ২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সময় টা ২০১২ সাল , আমি সবে এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করে ১ মাসের বেকার বসে আছি । বেকার বলছি কারণ পড়া লেখা আর করার ইচ্ছে ছিলো কিন্তু পকেট প্রায় সময় ই শূন্য থাকতো। খুব খারাপ সময় কাটতো । বন্ধু বান্ধব আড্ডা, গান, ধুমপান সবই নিয়ম মাফিক চলতো।
কিন্তু পকেটে অঢেল টাকা এলেও তা বেশী ক্ষণ স্থায়ী হতোনা । এভাবে কয়েক দিন চলার পর বুঝতে পারলাম পরিবারের উপর আর চাপ দেয়া উচিত হবে না । একটা চাকরী করার দরকার । আমাদের একটা আড্ডা স্থল ছিলো , বাড়ি হতে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে । সেখানে পরিচিত মানুষ কেউ থাকতোনা বললেই চলে । কিন্তু তাও মাঝে মাঝে বাসায় খবর যেত আমার ধুনপানের ব্যাপারে । কিন্তু একটা সময় এ ব্যাপার গুলো সয়ে আসে । বাবা মা ও আর কিছু বলার সময় পান না । ওনারা এক প্রকার ক্লান্তই হয়ে পড়েন ।
রেজাল্ট তখনো বের হয় নি , চা পান করতে করতে সেই দোকানের ফটকে একটা পোস্টার সাটানো দেখলাম । কোনো এক টোব্যাকো লিঃ এ কয়েক জন সেলস ম্যান জরূরী নিয়োগ দেয়া হবে , যোগ্যতা SSC, ভাবলাম একবার চেষ্টা করে দেখি ।
পরদিন ওই ঠিকানায় চলে গেলাম SSC ট্রান্সক্রিপ্ট আর HSC রেজিঃ নিয়ে । সম্ভবত ওনার নাম ছিলো মিঃ আবুল , ওনাকে সবাই স্যার বলতো । সম্ভবত উনি ওই টেরটরির প্রধাণ ছিলেন । উনি আমাকে বললেন আমার মত অনেকেই আসেন দুদিন ট্রেনিং করে নাকি চলে যান , আমি কি আসলেই চাকরী টা করবো কিনা । আমি বললাম প্রয়োজন বিধায় করতে হবে আরতো উপায় নেই । অগ্যতা উনি রাজি হলেন, আমাকে ট্রেনিং এ অংশ গ্রহণ করতে বললেন ।
পরদিন সকাল ৭ টায় আমি হাজির হই অফিসে । দেখলাম বেশির ভাগ সেলস ম্যান লেখা পড়া জানেন না । টেরিটরি অফিসার মিঃ আবুল আমাকে বললেন আমি নাকি ওভার কোয়ালিফাইড, উনি শিউর আমি জব টা করবো না । তাও একজন জোন ইনচার্জের অধীনে আমাকে ট্রেনিং এ যেতে বললেন ।
ওইদিন ছিলো হরতাল , কিন্তু শহরে গাড়ির কমতি ছিলনা । আমার তাও মনে মনে আতঙ্ক বোধ হচ্ছিল । আমার সাথে ভ্যান চালক ড্রাইভার আমাকে বললেন “ভাই আপনে কি জব টা করবেন? মনে তো হয় না” । আমি চুপ রইলাম ।
একটা লোকাল গাড়ি করে জিইসি মোড়ে নেমে ভারতীও দূতাবাসের সামনে পর্যন্ত হেটে গেলাম , তখন আট টা বাজে । ছ সাত জন পুলিশ সদস্য বসে আছেন আমিও আমার গাড়ি আর ট্রেইনারের অপেক্ষায় ১০ কি সাড়ে ১০ পর্যন্ত বসে রইলাম । একজন পুলিশ সদস্য আমার নাম আর বসে থাকার কারণ জেনে আবার তাদের অলস বসে থাকায় মনোনিবেশ করলেন । অপেক্ষা যেন শেষ ই হয় না । অবশেষে গাড়ি আসলে আমিও হাটা ধরি গাড়ির সাথে , কিভাবে প্রোডাক্ট সেল করতে হয় , বিল করতে হয় , চাবির দায়িত্ব কিভাবে পালন করতে হয় সব বুঝিয়ে দিচ্ছেন জোন ইনচার্জ ।
তখন মোটামুটি শীত কাল ছিল , ফেব্রুয়ারী মাস চলে বোধ করি, হালকা গরম হালকা শীত । জ্যাকেট টা এনে বিপদে পড়েছি গরমে গায়ে পড়তেও পারছিনা আবার হাতে রাখতে রাখতে ক্লান্ত হয়ে পড়ছি । ঝাউ তলা এলাকাটা পাশ দিয়ে ঢাকা চিটাগং রুটে রেল লাইন টা গিয়েছে । মাঝে মাঝে শহুরে নীরবতা ভেদ করে শশব্দে ট্রেন টা যখন গন্তব্যে যায় তখন মনে হয় জীবন এতো কষ্টের কেন ।

এভাবে প্রায় ৩ দিনের ট্রেনিং শেষে এক বিকেলে আমার প্রচন্ড জ্বর হয় । গায়ের ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠছিলাম । মনে হচ্ছিলো এই বুঝি পড়ে যাবো মাথা ঘুরিয়ে , ক্ষুধা পেয়েছিলো প্রচুর । দুপুরে ৩৫ টাকার ভাত আর ডিমে পেট ভরে নি এতটুকু তার ওপর কড়া রোদ আর মাইল ব্যাপি হাটা হাটি । এভাবে আনমনে কি যেন ভাবছিলাম । হঠাত কোনো এক কলেজের কিছু মেয়ে আমার সামনে পড়লো তারা কি নিয়ে যেনো আলাপ আলোচনা করছিলো , তাদের মধ্যে একজন আমার মনে গেঁথে যায় । আমার মাথায় দু লাইন কাব্য জন্ম নেয় ।
“পৃথিবীর বুকে এক টুকরো গোলাপ অবশিষ্ট থাকা অব্দি ভালবাসা রয়ে যাবে কি? নাকি তারও আগে বিলুপ্ত হবে প্রেম।“

রাতে বাসায় এসে না খেয়ে এক ঘুম দেই , তারপরে আর কোনো দিন সেই অফিসে যাওয়ার নাম নেই নি ।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০১৯ দুপুর ২:৩২
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭১-কখনোই ৫০/৫৫বছরের পুরোনো কোনো ঘটনা নয় ।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:০১




৭১-হলো আমাদের বাংলাদেশের বাঙালি জাতির প্রতিদিনের এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা । ৭১ আমাদের অস্তিত্ব,একাত্তর আমাদের আত্মপরিচয়ের ইতিহাস । একাত্তর যদি মলিন বা বিলীন হয়,তখন আমি আর আমি,আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুভ সকাল। আসসালামু আলাইকুম।

লিখেছেন রাজীব নুর, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩৪



ভোর থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে!
অবশ্য বর্ষাকাল চলছে, বৃষ্টি তো হবেই। ছাতা ছাড়াই বাসা থেকে বের হলাম। ছাতা নেই। ভেঙে গেছে। এক বছর হয়ে গেলো। কিনবো কিনবো করে আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভুল, অনুতাপ ও ভালোবাসা

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮


আজকে একটু তাড়াতাড়ি ফিরবা? আমি রান্নাঘর থেকে মাথা বের করে আনিসকে বললাম। সে জুতোর ফিতা বাঁধতে বাঁধতেই ছোট্ট করে উত্তর দিল,
- চেষ্টা করব। আমি হেসে বললাম,
- তোমার এই চেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণা, পরিকল্পনা কোথায়?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:১৯



শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ঘোষণা দিচ্ছেন, সময় পার হয়ে গেলে আবার নতুন ডেট দিচ্ছেন। তিনি কি আসলেই ফিরবেন? নাকি নিজের দলকেই কনফিউজ করে রাখছেন? অথবা শুধু জাশির ঘুম হারাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রামের বন্যায় আক্রান্তদের জন্য আমরা কি কিছু করতে পারি?

লিখেছেন সৈয়দ তাজুল ইসলাম, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ ভোর ৪:০৭


সম্মানিত ব্লগার,
বাংলাদেশের সবরকমের দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের ব্লগারদের বিশেষ অবদান রয়েছে। দুর্যোগে আক্রান্তদের সহযোগিতায় আমাদের সামু ব্লগারেরা সবসময়ই এগিয়ে এসেছেন। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আমি অনুরোধ করছি না। আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×