শিশির নামে আমার একটা বন্ধু ছিলো । ক্লাস সেভেনে ওর সাথে আমার সখ্যতা বেশী ছিলো । এইটে ওঠার পর যোগাযোগ, এক সাথে
ক্লাসে বসা আর হয়ে ওঠেনি । ও খালিদ হাসান মিলুর গান খুব পছন্দ করতো । বিলের ওপর বেয়ে ওঠা ব্রিজে ও আর আমি বসে থাকতাম, ও গান গাইতো আমি গলা মেলাতাম। ও খুব ভালো ব্রিলিয়ান্ট একটা ছেলে ছিলো । ওর বাসায় আমার কখনো যাওয়া হয় নাই । ক্লাস এইটের পরে ওর সাথে আমার আর কোনো স্মৃতি মনে করতে পারছিনা । আমি ক্লাস নাইনের পরে চট্টগ্রাম চলে আসি, এর পরে আর কোনো যোগাযোগ হয় নি । আমার স্কুল ফ্রেন্ডদের আমি আগে খুব খোঁজ খবর নিতাম, কিন্তু এখন আর নেই না । সবাই সব সময় এক রকম থাকেনা । সবার সময় স্রোত ই বয়ে চলে অনন্ত মহাকালের গভীর প্রবাহে । এক সময় মহাকাল টা রয়ে যাবে কিন্তু আমাদের ছিটে ফোটার অস্তিত্ব থাকবেনা । এতো এতো অহংকার এতো গর্ব, ক্যারিয়ার, টাকা আত্ম মর্যাদা এসবের কোনো মূল্যই নেই মহাকালের কাছে ।
দিন শেষে আমারা কি তা তো নিজেরাই জানি না । আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখি সেই অবয়ব, ভাবলেশ হীন মুখ, যার কোনো ভাবনার চিড় ধরে এক মুহূর্তের জন্য ।
আজ যদি শিশির বেচে থাকতো তাহলে হয়তো ওর সাথে আমার কথা হতো , আবার হতোওনা হয়তো । এখন যেমন প্রায় সবাই বেচে আছে কিন্তু কথা হয় না । শিশির ও হয়তো তেমন একজন ই হয়ে থাকতো । যাকে আমি শুধু জানতাম, তেমন স্পেশাল কেউ হয়তো থাকতো না সে । আমার বন্ধু শিশির কালো শ্যামলা গায়ের রঙ, ছোট্টো মায়াবী মুখ টা আমার এখনো মনে পড়ে , মাঝে মাঝে ও খুব মন খারাপ করে কি যেন ভাবতো ।
সেই চেহারার কথা মনে পড়লে আমার বুক টা মোচড় দিয়ে ওঠে, আমি আর কিছু ভাবতে পারি না । ক্যান্সার আমার বন্ধু কে কেড়ে নিয়েছে খুব অল্প সময়ে ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






