somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের 'ডাক্তার ভিজিট' নিষিদ্ধ কোন আইনে?

১৭ ই অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ১:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পেশা হিসেবে সাংবাদিকতা সবসময়ই বিপদসঙ্কুল! সা.কা'র রায়ের বিষয়ে প্রধান বিচারপতিকে 'জড়িয়ে' লেখায় গত কয়েকমাস আগে জনকণ্ঠের স্বদেশ দা'কে আদালতে ডেকেছিলেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। এ বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করে লিখেছিলাম। বলেছিলাম, প্রধান বিচারপতি হলেও আপনার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ খণ্ডন না করেই আপনি একজন সিনিয়র সাংবাদিককে নিজের 'কার্যালয়ে' ডাকতে পারেন না। আগে অভিযোগ খণ্ডন করুন, তারপর কোন প্রমাণের ভিত্তিতে তিনি আপনার বিরুদ্ধে লিখেছেন, তা জানতে চান। সামান্য এ অধমের লেখা কংক্রিটের দেয়াল টপকে হয়তোবা গিয়ে পৌছায়নি তার দপ্তরে। অথবা পৌছেছে! পরে অন্যান্য বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে যখন প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাকা'র পরিবারের আলোচনার ফুটেজ প্রচার হয়েছে, তখন থেমে গেছে সবকিছু...।



তবে সাংবাদিকতার পাশাপাশি ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধি'র চাকরিও এখন 'ঝুঁকিপূর্ণ'! কারণ, সম্প্রতি ঔষধ কোম্পানির দু'জন প্রতিনিধিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের চিকিৎসকের কক্ষে যাওয়ার 'অপরাধে' নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুনিবুর রহমান ও মুশফিকুল আলম হালিম সাজা হিসেবে তাদেরকে শার্ট খুলে প্রকাশ্যে কান ধরে উঠবস করান!

জানতে চাই, মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা ডাক্তার ভিজিট করতে পারবে না, এটা বাংলাদেশের কোন আইনে আছে? কোন আইন মোতাবেক তথাকথিত 'বিচারক'রা এ সাজা দিয়েছেন? নাকি কোনো মতে 'পাওয়ার' পেলেই তার 'সদ্ব্যবহার' করতে ইচ্ছে হয়?

আইনের মহান একটি বাণী হচ্ছে, 'আইনের মারপ্যাচে হাজারো অপরাধী পার পেয়ে যাক, কিন্তু একজন নিরপরাধও যেনো সাজা না পায়।' কিন্তু যাদেরকে আজ সাজা এমন সাজা দেয়া হয়েছে, তারা কোনো অপরাধ করেননি। ডাক্তারের কাছে কোম্পানীর প্রতিনিধি হয়ে তিনি গিয়েছেন। এটা তার পেশা। আর এ পেশা এখনো পর্যন্ত কোনো 'অবৈধ' পেশা না। তারা ভুলে গেছেন, 'মেধাহীন' এ প্রতিনিধিরা দিনরাত পরিশ্রম করে ঔষধ বিক্রি করার ফলে সরকারের কোষাগারে যে ভ্যাট আসে, সে ভ্যাটের টাকায় ওই ম্যাজিস্ট্রেটরা বেতন পান।

এ দুই 'ম্যাজিস্ট্রেট'র পারিবারিক শিক্ষাটাই হয়তোবা এমন! এমন কোয়ালিটির শিক্ষার্থীরাই ছাত্রজীবনে রিকশাওয়ালা, বাসের কন্ট্রাক্টরকে ভাড়া কম দিয়ে চড়, থাপ্পড় মেরে নিজের 'হনুমানগিরি' জাহির করেন। কিন্তু 'পলিটিক্যাল পাওয়ারফুল'দের কাছে গিয়ে কানে ধরে উঠ-বস করা, স্বার্থের জন্য পায়ে ধরতেও দ্বিধা করেন না। পরবর্তীতে মামু, খালু, আর প্রশ্নপত্র ফাঁস করে কেউ, কেউ বিসিএসে টিকে যান! চাকরিটা হওয়ার পরেও এ বদভ্যাসগুলো ছাড়তে পারেন না। রক্ষকের বদলে হয়ে ওঠেন ভক্ষক। যেমনটা হয়েছিলেন, গাইবান্ধার এমপি লিটন।

সংবাদপত্রের ভাষ্যমতে, 'এম.পি লিটনের ভাই, বোনদের মধ্যে সে ছিলো বখাটে টাইপের।' আর সেই বখাটে লিটনই হয়েছে জনপ্রতিনিধি! ওনাদের বিষয়ে ঘাটলেও হয়তোবা বেরিয়ে আসবে এমন কিছুই। তবে অন্যায় করার পর নিজের সরকারের এম.পি হলেও বাংলাদেশের মানুষের একান্ত আপনজন জননেত্রী শেখ হাসিনা তার অন্যায়কে সহ্য করেননি। তার ফলে এম.পি লিটন এখন কারাগারে। আইনের অপব্যবহার করায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ দুই ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধেও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে আইনের অপপ্রয়োগ করায় মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের সংগঠনের উচিত তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা। যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ আইনের অপপ্রয়োগ এভাবে করতে না পারে।

আহসান কামরুল
১৭.১০.২০১৫ খ্রি.
ঢাকা।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ১:৫৯
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০০১ থেকে ২০০৬ / ২০২৬শে এসে আবারও দেশ ফিরে গেলো খাম্বার খপ্পরে ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৪

তারেক জিয়া “ ২০০১ থেকে

২০০৬ পর্যন্ত যা করে গিয়েছিলেন। তিনি ঠিক সেখান থেকেই ২০২৬ শুরু করলেন। অনেকেই তার অনেক ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা বলছেন। ছোট ছোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে AI, গণমাধ্যম, এবং জনস্বার্থের প্রশ্ন

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৩২

বাংলাদেশে AI নিয়ে আলোচনা এখন আর শুধু “নতুন প্রযুক্তি” নিয়ে উত্তেজনা বা ভয় নয়। এখন বিষয়টা অনেক বড়। AI ধীরে ধীরে গণমাধ্যম, সরকারি কাজ, জনবিশ্বাস, ভাষা, এবং নীতিনির্ধারণের অংশ হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাল্যবিবাহে আমারও আপত্তি নেই, তবে…(একটু প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য)

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৩০



১. প্রথমেই সেসব ফেসবুক যোদ্ধাদের কাছে প্রশ্ন, যারা লুবাবা‘র বাল্যবিবাহ নিয়ে খুব উৎসাহ দিচ্ছেন, তেনারা নিজেদের ১৪/১৫ বছরের কন্যা সন্তানকে বিয়ে দিবেন কিনা। বিয়ে মানে কিন্তু শুধু জীবনসঙ্গীর সাথে এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন ওরফে সংবিধান সালাহউদ্দিন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০


ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন যিনি দীর্ঘসময় ভারতের তত্ত্বাবধানে শিলংয়ে সংবিধানের ওপর পিএইচডি করেছেন ফলে উনি এখন সংবিধান সালাহউদ্দিন যার সুফল এখন আমরা পেতে চলেছি। ইতোমধ্যেই আপনারা লক্ষ্য করেছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের জন্য কি জাপানের পরিণতি অপেক্ষা করছে?

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ০৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:২৮


ইরানের মোল্লাতন্ত্র নিয়ে অনেক সমালোচনা থাকলেও একটা বিষয় কিন্তু ঠিক, ওরা ভাঙে, তবে মচকায় না৷পৃথিবীর কত কত দেশের সরকার ও সেনাবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে কাপড় নষ্ট করে ফেলে, অথচ ইরান সগর্বে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×