somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পথশিশু আর অসহায়দেরকে নিজের পুরনো শীতবস্ত্র দিন

২৫ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৯:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বর্ষা প্রায় শেষ। এর মানে হলো আমাদের সামনে চলে এসেছে শীতে আগমনী বার্তা। শীত, সেতো এক মহানন্দের নাম! কারণ, গরমে এ জীবন অতিষ্ঠ হলেও শীত তার সম্পূর্ণ বিপরীত। খেজুরের রস, রসের তৈরি গুড়সহ আরো মজাদার কতো খাবারের নাম মনের পর্দায় ভেসে ওঠে শীতের বিষয়টি মনে হলে। গরমে পোষাকের বিড়ম্বনা থাকলেও শীতের সময় যতো খুশি পড়তে পারেন! আরামদায়ী বিভিন্ন পোষাক, যাতে শীতের তীব্রতা আমাদের শরীরে না লাগে...।

হ্যাঁ, শীতের তীব্রতা রোধে যখন আমরা নিজেদের শরীরে আরামদায়ক বিভিন্ন পোষাক জড়াই, তখন আমাদের চোখের সামনে একশ্রেণীর মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা উদোম গায়ে রাস্তায় ঘোরাঘুরি করে, ঘুমিয়ে থাকে! সাধু ভাষায় আমাদের সমাজ এদেরকে 'গরিব, বা পথশিশু' বলে! দারিদ্রের কারণে তাদের মা, বাবা শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচাতে তাদেরকে কোনো পোষাক কিনে দিতে পারেন না। অনেকের আবার এই মা, বাবাটাই নেই। তাই তাদের এ অবস্থা...।







যে বয়সে তাদের থাকার কথা স্কুলে, পাওয়ার কথা সবার ভালোবাসা আর আদর, বিকেলবেলা মায়ের হাতে গরম কাপড় পড়ে খেলতে যাওয়ার কথা, তারা সেটা না পেয়ে গরম কাপড়হীন অবস্থায় পড়ে থাকে রাস্তায়। আপনার, আমার দায়িত্ব রয়েছে এ শিশু, আর দরিদ্র মানুষগুলোর ওপর। আমাদের একটুখানি সদিচ্ছাই পারে তাদেরকে এ কষ্টের অবস্থা থেকে উত্তরণ করতে।

ভাবছেন কীভাবে সম্ভব এটা? টাকা, পয়সা দিয়ে তাদেরকে সহায়তা করার বিষয়? না, টাকা-পয়সার সরাসরি লেনদেনে আমরা যাচ্ছি না। কারণ, উপকার করতে গিয়ে এতে অনেক নেগেটিভ বিষয়ের আশঙ্কা আছে। সো, আমরা চাচ্ছি আরো সহজ একটা বিষয়ের মাধ্যমে 'গরীব, পথশিশু', বা শীতবস্ত্র কিনতে অক্ষম, সামর্থহীন মানুষদেরকে সরাসরি শীতবস্ত্র বিতরণ করতে। যেমন ধরুন, আপনার, আমার বাসায় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি, বা অপ্রয়োজনীয় পুরনো জামা, কাপড় আছে। সেগুলো যদি আমরা ঘরে ফেলে না রেখে এ শিশু, বা সামর্থহীন মানুষদের দেই, তবে আমাদের এ অপ্রয়োজনীয় পোষাকের মাধ্যমে তারা নিজেদেরকে শীত থেকে রক্ষা করতে পারবেন।

আমরা চাই, টাকা-পয়সার সরাসরি লেনদেনে না গিয়ে আপনাদেরকে নিয়ে একটা সমন্বিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আপনার বাসায় থাকা পুরনো পোষাক, বা আপনি চাইলে নতুন পোষাক, শীতের সময়ে শরীরে দেয়ার জন্য বিভিন্ন লোশন, ক্রিম ইত্যাদি কিনে সরাসরি তাদেরকে দিতে পারেন। এ ক্যাম্পেইনের আয়োজক 'মমতাজ-কালাম ফাউন্ডেশন', মিডিয়া পার্টনার প্রিয়দেশনিউজ এর ফেসবুক পেজে মেসেজ করে আমাদেরকে কনফার্ম করে আপনি আপনার অপ্রয়োজনীয় পোষাকগুলো কুরিয়ার, বা অন্য কোনো সহজ মাধ্যমে দিতে পারেন। আপনার পোষাক, বা শীত নিবারণের অন্যান্য বস্তুগুলো পেলে তার আপডেট ফেসবুকসহ অনলাইনের বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা জানাবো। সেই সঙ্গে নির্ধারিত স্পটে (আলোচনা সাপেক্ষে) পোষাক, বা শীত নিবারণের অন্যান্য বস্তুগুলো বিতরণের সময় আপনি যদি সেচ্ছাসেবক হিসেবে আমাদের সঙ্গে থাকতে চান; নাম, পরিচয়, আর মোবাইল নম্বরসহ তাও আমাদেরকে জানান। বিতরণের নির্ধারিত সময়ের আগে আমরা আপনাকে নক করবো।

এছাড়া আপনি যদি চান, আপনার এ বাড়তি পোষাক আপনার পাশের কোনো দরিদ্র শিশু, বা গরিব কাউকে দান করে তাদের মুখে হাসি ফোটাবেন, তবে সেটাও পারেন। সেক্ষেত্রে, পোষাক বিতরণের সময়কার ছবি, আপনার পরিচয়, স্পটের নাম, ঠিকানা আমাদেরকে মেসেজ করুন। ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা সেটা প্রকাশ, প্রচার করবো। কারণ, এ ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য হচ্ছে শীতে কিছু সংখ্যক হলেও অসহায় মানুষের কষ্ট মোচন করা। মনে রাখবেন, এটা কোনো ধরণের আত্নপ্রচারণার বিষয় না, মূলত: আপনার এ মহৎ কাজের ছবি দেখে যাতে মানুষের পাশে আরেকজন এসে দাড়ায়, এজন্যই আমরা আপনার ছবি প্রমোট করবো।

সুতরাং এখনই আপনি, আপনার বন্ধু ও পরিচিতজনদের সঙ্গে বিষয়টির শেয়ার করে সামনের শীতে মানুষের সেবায় আমাদের সঙ্গে থাকতে পারেন। আগেভাগে এ পদক্ষেপের কারণ, এ শীতে গরমের কাপড় দিয়ে কমপক্ষে ৫০০ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই আমরা। কয়েকজনের মুখে হাসি ফোটাতে আমার অপ্রয়োজনীয় পোষাকের তালিকা করে ফেলেছি, এবার আপনার পালা...।

আহসান কামরুল
২৫.১০.২০১৫ খ্রি.
ঢাকা।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৯:৫৮
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবন পর্ব -১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

'তুমি আমাকে এটা কোন ধরনের হোটেলে নিয়ে এলে?'

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

এ লেখাটি ম্যাচিউর পাঠকদের জন্য। সে কারণে reader discretion is advised, অর্থাৎ, অস্বস্তি লাগলে পড়বেন না।

ব্যবসায়িক কাজে চায়না গেলেন হাজি মামুন (ছদ্মনাম)।

পঞ্চাশোর্ধ বয়সের সংসারী মানুষ তিনি। ঘরে পরহেজগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



আজ শুক্রবার। শুক্রবার মুসলমানদের জন্য বিশেষ একটি দিন।
আজ বাংলা আষাঢ় মাসের ৫ তারিখ। যদিও বর্ষাকাল। আজ আকাশে মেঘ নেই। বরং রোদ উঠেছে। রোদের তাপ ভালোই। শাহেদ পথে বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফিনটেঁক কোম্পানী রিপাবলিক ইউরোপকে ছেড়ে দেওয়ার সত্য ঘটনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩

বাংলাদেশের আইটি ফার্মগুলোর মাঝে আমার ফার্মই তাঁর ইঞ্জিনিয়রাদের সবচেয়ে বেশি বেতন দিতো। আমার সিনিয়র রুবি অন রেইলস ব্যাকএন্ড ডেভেলপার ছিলো রিফাত। বয়স ৩০, সেই বয়সেই সে মাসে পেতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো পূর্ণিমায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



তুমি ছাড়া ভালো লাগে না পূর্ণিমা চাঁদ, তুমি লুকিয়ে চন্দ্রিমার হলুদ বর্ণে। মায়াবী জোছনা মাখা রাত সবই যেন নিস্ফল, মন যেন হারিয়েছে আঁধারে সব সময় কাঁদে। চারিদিকে যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×