somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানবতা-মানসিকতা

০৫ ই নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ৯:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি দেখলাম একটা ছোট কুকুরের বাচ্চার মাথা থেতলে গেছে। গলা থেকে রক্ত গড়িয়ে গড়িয়ে রাস্তার এক পাশের গর্তে একটা ছোট পুকুর তৈরি হল। কুকুরটা যখন পেছনের একটা পা একটু করে নাড়াল তখন আমার কষ্টটা বেড়ে গেল; আমি বুঝলাম তার মৃত্যু যন্ত্রণা এখনো শেষ হয় নি।
আমি মুখ থেকে ওহহ! জাতীয় দীর্ঘশ্বাস ফেলে একটা চায়ের দোকানে গিয়ে বসলাম। কুকুরটার কথা যখন আমি প্রায় ভুলেই গেছি তখন দেখলাম তিনজন যুবক তাকে কোলে নিয়ে একটা গাড়ির পেছনের সীটে বসাল। তারা একটা প্রায় মৃত বেওয়ারিশ কুকুরকে পশু হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে এই দৃশ্যটা অনেকটা আমার শার্টের কলার ধরে বুঝিয়ে দিয়েছে, মুখ দিয়ে ওহহ শব্দ করে কেটে পড়া কতটা হৃদয়হীনতার নমুনা হতে পারে।
একবার এক তুফান বৃষ্টির রাতে আমি মেডিক্যালের সামনের রাস্তায় এক বাচ্চা শিশুকে কাঁদতে দেখে দাড়িয়ে গেলাম। শিশুটির পাশে তার মা ঘুমিয়ে আছে দেখে আমার উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে গেল। কেন মানুষটা এই ঝড়ের রাতে তার শিশুকে নিয়ে অন্তত একটা সানসেডের নিচে আশ্রয় নিল না; এইসব ভেবে ভেবে আমার কাছে তার জননীকে পৃথিবীর সব থেকে হৃদয়হীন মা মনে হল।
ঝড় যখন বেড়েই চলছিল, আশে পাশের ফার্মেসী গুলো যখন সাটার লাগাতে শুরু করল, বাচ্চাটি যখন কাঁদতে কাঁদতে শীতে কাঁপার শক্তিটাও হারিয়ে ফেলছিল এবং তখনো তার মা'কে সাড়াশব্দহীন দেখার এক পর্যায় বুঝলাম আমি আসলে দাড়িয়ে দাড়িয়ে পৃথিবীর ইতিহাসের সব থেকে হৃদয় বিদারক দৃশ্যটা দেখছি।
একটা সহায়সম্বলহীন মা ঝড়ের রাতে মেডিক্যালের ফুটপাতে আড়াই তিন বছরের বছরের বাচ্চাকে ফেলে দিয়ে শীতে কাঁপতে কাঁপতে নিঃশব্দে মরে গেল !!! এর চেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য পৃথিবীতে আর কী হতে পারে ??
শুরু করেছিলাম একটা বেওয়ারিশ কুকুরের বাচ্চাকে নিয়ে। শেষ করব বেওয়ারিশ মানুষের বাচ্চার কথা লিখে।
ভোরে যখন বাচ্চাটাকে নিয়ে আমার মত কিছু আমজনতা মেডিকেল হাসপাতালে গেল তখন ডাক্তারদের ব্যবহার আমাকে রীতিমত আতংকিত করেছিল। তারা ফর্ম দিল। পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে। কাগজপত্রের ব্যাপার। বেওয়ারিশ বাচ্চার দায়িত্ব কে নিবে? তখন সেখানে ইন্টার্নি করে এরকম একজন ডাক্তার আমাকে বেশ কিছু সত্য বুঝিয়ে দিল। একটা বেওয়ারিশ বাচ্চা রাস্তা থেকে তুলে হাসপাতালে এনে দিয়ে নিজেকে মনিষী ভাবার কিছু নেই। আপনি বাচ্চাটার দায়িত্ব না নিলে এই বাচ্চাটির দায়িত্ব কে নিবে ? ডাক্তার ? ডাক্তার কতজন বাচ্চার দায়িত্ব নিবে ?
আমি এবং আমরা যখন মুখ দিয়ে ওহহ জাতীয় শব্দ করে কেটে পড়ার পায়চারা করছিলাম ঠিক তখন হাসপাতালের ব্যাডের প্রায় বয়স্ক এক মহিলা এই বাচ্চাটির সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে আমাদের শার্টের কলার ধরে বুঝিয়ে দিল, মুখ দিয়ে ওহহ জাতীয় দীর্ঘশ্বাস মানবতার না কাপুরুষতার সিম্বল।
মানুষ আসলে সামাজিক জীব না। মানুষ ব্যক্তিগত জীব। টেলিভিশনে একটা লঞ্চ ডুবে যাবার দৃশ্য দেখে আমরা মুখ দিয়ে ওহহ জাতীয় শব্দ করে ঠিকই অন্য চ্যানেলে নাটক সিনেমা দেখতে চলে যাই। একশজন মানুষের মৃত্যু সংবাদের চাইতে নিজের একশ ডিগ্রী জ্বর মানুষকে বেশি ভাবায়।
তবু পৃথিবীটা এত আশ্চর্য রকমের সুন্দর কেন জানো ? এই মানুষ গুলোর বিচরণ সব জায়গাতেই আছে। বাসে নিজের দাদার বয়সী কাউকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে তুমি যখন সীটে বসে হেড ফোন লাগিয়ে রক মেটাল গান শুনছো তখন দেখবে কেউ একজন সীট ছেড়ে তোমার বিবেগের কলার চেপে ধরে সামনের মোড়ে নেমে চলে গেছে।
ভোরের আযানের শব্দে তুমি যখন ভলিয়ম কমিয়ে মুঠো ফোনে কথা বলছিলে, জানালা খুললেই দেখবে কত গুলো মানুষ ঠিকই আছে, হাড় কাঁপা শীতে কাঁপতে কাঁপতে মসজিদের দিকে এগোচ্ছে। ভাল করে তাকালেই দেখবেই শার্টের কলার তোমার কুচকে গেছে... ! একদম কুচকে দলা মুচকে চেপ্টে থেতলে গেছে।

লেখক। হাসান মির্জা।
২০/১০/২০১৬

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ১০:০২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

I Have a plan / মুচলেকা দিয়ে যাওয়া এবং মুচলেকা দিয়ে ফেরত আসা সরকারের রাষ্ট্র ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৫:৪৬





ওয়াশিংটন – যদিও তিনি এমন একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন যার বৈধতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে, এবং শক্তিশালী মহলের প্ররোচনায় যাদের হস্তক্ষেপ কখনোই সন্দেহের বাইরে ছিল না, তারেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড় কাউকে জয়ী হতে দেয় না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১১




আমরা প্রায়ই বলি, অমুক এভারেস্ট জয় করেছেন, তমুক কে-টু জয় করেছেন, অমুক অন্নপূর্ণা জয় করেছেন। শব্দটি এতটাই প্রচলিত যে আমরা আর ভাবিই না—আসলে কি পাহাড়কে জয় করা যায়?

আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরতের প্রলোভন!

লিখেছেন শাহাবুিদ্দন শুভ, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ওয়েবসাইটের প্রচার দেখা যাচ্ছে, যেখানে প্রথম আলোর আদলে তৈরি একটি ডিজাইন ব্যবহার করে উচ্চ মুনাফার বিনিয়োগের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এমনকি তৃতীয় মাত্রা অনুষ্ঠানের ফটোকার্ড... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×