কাল জয় পেলে হয়তো এত কথা আসতো না।
কারন জয় পেলে ভুলগুলো ঢেকে গিয়ে জয়ের আনন্দেই আত্নহারা হয়ে যেতাম।
(যদিও তা কখোনোই উচিৎ না।)
যদিও খেলাটা মাঠে হয়, খেলাটা একজন খেলোয়ারের মাধ্যমেই আমরা দেখতে পারি। জয় পেলে খেলোয়ারদেরই হিরো বানাই, হারলে ভিলেন। কিন্তু ম্যানেজমেন্টেরা কখনোই হিরো বা ভিলেনের খেতাবও সেভাবে পান না। তাদের হিরো না হবার সাধারন কারনও রয়েছে, কারন তাদের রোলটা হিরো হবার মত নয়, তাদের রোলটা তাদের কাজ যথাযথভাবে করতে পারার মধ্যেই সিমাবদ্ধ। আর যদি তারা তাদের কাজটুকু তারা ঠিকমতো করতে না পারেন, তবে অযোগ্যতার কারনে তাদের বের হয়ে যাওয়া উচিৎ বা বের করে দেয়া উচিৎ।
খেলাতে জয়-পরাজয় থাকবেই, পরাজয়ের কারনও সাভাবিকভাবেই একেক সময় একেক রকম হবে। এখানে প্রতিপক্ষের ভাল খেলা বাদে কখনো কোন খেলোয়ারের ভুল কিংবা মিস, কখনো কৌশলের ভুল, কখনো এক্সিকিউশনের ভূলের কারনে ম্যাচ হারতেই পারি। কিন্তু কেউ যদি একই ভুল বারবার করে! তাকে কি আর ভুল বলা উচিৎ?
বরাবরের মতোই কমন কিছু ভুল স্ট্র্যটেজিতে আমরা খেলছি, বা হয়তো ভবিষ্যতেও খেলব। আর এখানেই আমার চোখে চলে আসে ম্যানেজমেন্টের অযোগ্যতা।
আমি প্রফেশনাল স্পোর্টস এন্যালাইজার নই, তাই সাভাবিকভাবেই আমার কাছে আগের ম্যাচগুলোকে বর্ণনা করার মতো যথেষ্ট রেকর্ড নেই। তবে ফিলিংসটাতো ভুলে যাইনি! কাকে ভিলেন মনে করেছি তা তো ভুলে যেতে পারি না! মুরগির বাচ্চা যেমন জন্মের পরই চিল চেনে ফেলে, চিলকে ভুলতে পারে না, আমরাও প্রত্যেকটা বার মনে দাগ ফেলা ও অযোগ্য, মামার/চাচার/ক্ষমতাবলে পদে থাকা ম্যানেজমেন্টের লোকগুলির কথা ভুলতে পারি না।
এইতো কদিন আগেও আমরা সাউথ আফ্রিকা ট্যুর এ দেখেছি পুরোপুরি ফ্ল্যাট ব্যাটিং উইকেটে টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়ে সারাদিনে একটাও উইকেটের মুখ না দেখা।
আগের ম্যাচগুলোর কথা আলাদাভাবে বলার দরকার মনে করি না, কারন এই ম্যাচটাও আগেরগুলোরই আরেকটা রুপ।
১. ফাইনালেই আপনাদের যত গবেষনা করতে হবে??? পুরো টুর্নামেন্টে খেলালেন এনামুলকে, ফাইনালে এসে নামালেন মিঠুনকে! এনামুল আগের ম্যাচগুলোতে কিছু করতে না পারলেও তাকেই নামানোকি যুক্তিযুক্ত ছিল না? তাছাড়া আমরা দেখেছি ৪ম্যেচের মধ্যে একটিতে ৩০+ রান এসেছিল। যদি তাকে যথেষ্ট মনে নাও করি, তবুও ধারার একটা ব্যাপার অবশ্যই ছিল। এক ম্যাচও না খেলা মিঠুনকে দিয়ে ফাইনাল ওপেন করাটা কতটা যৌক্তিক ছিল? আর এটা এবারই অবশ্য প্রথম না। এরকম তুঘুলুকি কান্ড আমরা আগেও দেখেছি।
২. তামিম এ কোন স্ট্র্যাটেজিতে খেলে??? আমি দেখি সে- ওয়ানডেতে টেস্ট, টেস্টে টি২০, আর টি২০ তে গিয়ে ওয়ানডে খেলে!!! যে কেউই আগের ম্যাচগুলো পর্যালোচনা করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই অবস্থাই দেখতে পাবেন! ধরে খেলার দরকার ছিল, কিন্তু তাই বলে এতটা ডিফেন্সিভ হওয়া কি আত্নঘাতি নয়??? সাভাবিকভাবেই একজন ব্যাটসম্যান যখন এতটা চুপশে যায়, বোলাররা বাঘরুপে সামনে আসে। তামিম এর এ ধরনের ওপেন এ বোলারদের কনফিডেন্স বেড়ে যায়। যদি সে টিকে যেত, তবে হয়তো তা কভার দিয়ে দিত, আগে ২টো ম্যাচে আমরা এমন দেখেছি, তবুই এ ধরনের খেলা দলের জন্য অবশ্যই ক্ষতিকর। টিখলে ঠিক আছে, কিন্তু আউট হয়ে গেলে দলকে যে রান-রেইটের বোঝাটা হজম করতে হয়, তা কি মাথায় রেখে খেলা উচিৎ না???
বালতে পারেন এতে ম্যানেজমেন্টে দোষ কিভাবে হল?
ম্যানেজমেন্টের দোষ হত না, যদি কালই তা প্রথম হতো। কেউ কি বলতে পারেন শেষ কবে তামিম ওয়ানডেতে ১০০+ স্ট্রাইক রেটে ১০ওবার পার করেছিল??? মনে হয় না সহজে কেউ দেখাতে পারবেন। এখানেই চলে আসে ম্যানেজমেন্টের কথা। তার যেমন হবার কথা ছিল, যেমন থাকার কথা ছিল, সে তেমন নেই। তাকে চেইঞ্জ করা হয়েছে। কিংবা তাকে তার খেলার ধরন চেইঞ্জ করে খেলতে বলা হচ্ছে না।
৩. সাব্বির কি ৩নম্বরে নামার মতো ব্যাটসম্যান? দুনিয়াতে আর কোন দল আছে যাদের ৩নম্বরে স্লগ ওভারের ব্যাটসম্যান নামানো হয়??? আর কত ম্যাচ লাগবে আপনাদের এইটা বুঝতে??? "বলতে পারেন সাকিব আহত হওয়াতে নামানো হয়েছে", এর চেয়ে ফালতু কথা আর হতে পারে???
উপরে যদি ওঠাতেই হয়, কেন মুশফিক না? কেন মাহমুদুল্লাহ না???
আর কতবার ব্যর্থ হলে এরা নিজেরা নিজেদের অযোগ্যতা বুঝতে পারবে??
আর কতদিন পর তাদের মনে হবে যে আমরা পারছিনা, অন্য কেউ আসুক???
আদৌ কি কোনদিন তাদের সেই উপলব্ধি আসবে??? কখনোকি পদ ছেড়ে যাওয়ার মতো আত্নসন্মানবোধ তাদের হবে???
জানি আমার এই বক বক কোন কাজেই আসবে না। তবুও বহুদিনের রাগ কোথাও না কোথাও ঝারতে পারলে একটু পাতলা লাগে। তাই লিখার উপর দিয়েই চালালাম।
সারাজীবনে একবারও বাউন্স দিয়ে বল কোমরের উপর তুলতে পেরেছিল কি না, এমন সন্দেহ থাকা লোকের কথা যখন ভারপ্রাপ্ত কোচের নাম হিসেবে শুনেছি, তখনই রাগগুলো অনেকটা পানি হয়ে গিয়েছিল। আজকেরটা তার ছিটেফোঁটা মাত্র...
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৮ দুপুর ১২:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




