প্রশ্ন হলো, মানুষ কেন হাসে, মানুষের এ হাসির কারণ কি? এই প্রশ্নটির উত্তর সন্ধানে বা বলা ভাল, হাসির রহস্যের উদ্ঘাটনের জন্য সমাজবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, পরিবেশবিজ্ঞান, দর্শন শাস্ত্র থেকে শুরু করে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় গবেষকগণ দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছেন। ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মানুষের হাসির রহস্য নিয়ে যে সব গবেষণা হয়েছে বা বর্তমানে হচ্ছে তাও আমাদের হাসায়। হাসির রহস্য জানতে গিয়ে হাসি পাওয়াটা আরেকটা মজার ব্যাপার নয় কি?
হাসি আমাদের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মানুষ হাসতে পারে বলেই জীবন এত মধুময়, পৃথিবী এত আকর্ষণীয় বলে মনে হয়। তাই হাসি মানুষের স্বগর্ীয় সম্পদ। মনোবিজ্ঞানী লুজেভিসি থমাস হরসের মতে, 'অন্যের দুরবস্থা বা নিজের অসুবিধাজনক অবস্থানের সাথে নিজের হঠাৎ লব্ধ উচ্চবস্থার প্রতি তুলনার ফলে মনে যে গর্বের বা আনন্দের উন্মেষ ঘটে তার ফলে হাসির উদ্রেক হয়।' ডারউইনের মতে, আমাদের ঠোঁটের সাথে চোখের গোলাকৃতি পেশীর সংযোগ রয়েছে। হাসির সময় এই পেশীগুলো একই সাথে ক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে। মুখের কোণ দুটি বিপরীত দিকে প্রসারিত হওয়ার সাথে সাথে গণ্ডদ্বয়ও পেছনে ও উপরে আকর্ষিত হতে থাকে এবং চোখের নিচের চামড়া কুঁচকে যায়। এসময় চোখ উজ্জ্বল ও সিক্ত হয়ে ওঠে। ফুসফুস থেকে শ্বাসনালীর মধ্য দিয়ে শ্বাস বেরোনোর সময় বাধা পায়। ফলে এসময় জৈবিক কারণেই এক ধরনের সবিরাম শব্দ বের হয়ে আসে। মুখ গহ্বর, দাঁত ও ঠোঁটের বিভিন্ন ধরনের ক্রিয়ার ফলে এ শব্দ বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। যেমন: হো হো, হা হা, হি হি। এটাকেই আমরা বলি হাসি। বর্তমানে গবেষণা থেকে এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে, হাসির প্রকাশটি সহজ স্বতঃস্ফূর্ত মনে হলেও এর কারণ হিসেবে নিহিত রয়েছে মানুষের শরীর ও মনের বিভিন্ন উপাদানের সাথে বিভিন্ন সামাজিক উপাদানের জটিল ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া। হাসির উৎপত্তির কারণ ও প্রকৃতি নির্ণয়ে আধুনিককালের বিজ্ঞানী বা গবেষকরা মনোবিজ্ঞানী ভ্যালেন্টাইনের মতের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। ভ্যালেন্টাইনের মতে, কমপক্ষে 15 ধরনের পরিবেশ, শারীরিক ও মানসিক অবস্থা মানুষের মাঝে হাসির উদ্রেক করে। পরম আনন্দ, অন্যকে হাসতে দেখা, কোন সুন্দর উজ্জ্বল দৃশ্য দেখা, সুড়সুড়ি, মৃদু আঘাত বা বিস্ময়, কোন কিছুর পুনরাবৃত্তি দেখা, অসামঞ্জস্যতা (কোন কোন পরিচিত পরিবেশে অপ্রত্যাশিতও কিছু দেখা), নিজের নাম অন্যের মুখে শোনা বা আয়নায় নিজের ছবি দেখা, নূতন কোন কাজ করা, অন্যকে উত্যক্ত করা, অন্যের সামান্য অসুবিধা করা, কোন দুষ্টামি করার পর অন্যকে হাসানোর জন্য আবোল-তাবোল শব্দ উচ্চারণ বা অদৃশ্য ভাবনা ভাবা, সামাজিক খেলাধুলার সময়ে হাসা, নিছক কোইনসিডেন্স থেকেও হাসি আসা ইত্যাদি কারণে মানুষ হাসতে পারে। ফ্রয়েড হাসির জন্য মনের কৌতুকপূর্ণ অবস্থাকেই চিহ্নিত করেছেন। তিনি এই কৌতুককে খেলাধুলার সাথে তুলনা করেছেন। সেখানে মূল কথাই হলো আনন্দ লাভ করা,
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


