somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হাসির কথায় হাসি পায়--শেষ পর্ব

৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৫:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাস্তবতাকে ভুলে যাওয়া। আবার যে মুহূর্তে পরিবেশটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে তখন হাসি যায় মিলিয়ে, শরীর মন বাস্তবের দিকে ধাবিত হয়। মানুষ বাস্তবের কাঠিন্য থেকে খোঁজে মুক্তি। হাসাহাসি কৌতুকের মাধ্যমেই সে সেই মুক্তি অর্জন করে।

যদি প্রশ্ন ওঠে আনন্দ কেন হাসির মাধ্যমে প্রকাশ পায়? কেন অন্য কোন উপায়ে প্রকাশ পেতে পারে না? এর উত্তরে বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী স্পন্সর বলছেন, 'হাসি মানুষের উদ্বৃত্ত এনার্জি বা শক্তির বহিঃপ্রকাশ।' তাঁর মতে, সে সব ক্ষেত্রেই এটা ঘটে থাকে, যেমন_কোন সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিকে মোকাবিলা করার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি যা হঠাৎ করেই সহজ হয়ে গেল বা আমরা একটা আবেগ প্রকাশের জন্যে উন্মুখ হয়ে আছি, কিন্তু সেই মুহূর্তেই এর প্রাসঙ্গিকতা নষ্ট হলো_এ দু'টি ক্ষেত্রেই আমাদের যথেষ্ট পরিমাণ শক্তি ব্যয় হবে বলে মনে মনে এক ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে কিন্তু যে মুহূর্তে সে প্রয়োজন ফুরিয়ে গেল সে মুহূর্তে এ শক্তি নির্গত হতে চায়। যেহেতু স্বরযন্ত্র ও শ্বসন যন্ত্রের পেশী সর্বাধিক স্পর্শকাতর এবং সহজেই উদ্দীপিত হয় সেজন্যে ওই বাড়তি শক্তি এই দুই প্রণালীর মধ্য দিয়ে নির্গত হয় এবং নির্গত হওয়ার সময় স্বরযন্ত্রের শব্দ এবং মুখের পেশীতে সংকোচন ও প্রসারণ ঘটে যা আমাদের কাছে হাসি হিসেবে পরিচিত। সুড়সুড়ির কারণে যে হাসি উৎপন্ন হয় তাকেও স্পন্সর ব্যাখ্যা করেছেন এইভাবে_কোন ব্যক্তির উঁচিয়ে আসা হাত বা আঙুলী সম্ভাব্য বিপদকেই নির্দেশ করে। শরীর সাথে সাথে আসন্ন বিপদ ঠেকানোর প্রস্তুতি নেয় এবং সেজন্য প্রয়োজনীয় শক্তিরও জোগান দেয়। এ শক্তি কল্পিত আক্রমণ প্রতিহত করা অর্থাৎ সুড়সুড়ির রূপ নেয়। সে কারণে যে শক্তি ব্যয়িত হবার কথা ছিল বিপদ ঠেকাতে তা হাসি রূপে ব্যয়িত হয়।

হাসির প্রকারভেদও রয়েছে। তাই তো হাসিতে হাসিতে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। যেমন: সরব ও নীরব বা মৃদু হাসি। শিশু বয়সেই মানুষের মাঝে সরব ও নীরব বা মৃদু হাসির উন্মেষ ঘটে। পরবতর্ীতে সরব হাসি নীরব হাসির অনুগামী হয়ে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, যে শিশু আগে মৃদু হাসে সে-ই আগে সরবে হাসতে শেখে। এ সরব বা নীরব হাসি সামাজিকভাবে নয় জৈবিকভাবেই নিয়ন্ত্রিত। এটা মানুষের প্রবৃত্তিগত ব্যাপার। যেজন্য একজনকে হাসতে দেখে আমরা হাসি। একটা জনশ্রুতি আছে, যে হাসতে জানে সে দীর্ঘ জীবন লাভ করে। এর একটা বৈজ্ঞানিক সত্যতাও আছে। সেটা হলো, হাসি শরীর ও মনকে সতেজ করে। হাসলে রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায়। মস্তিষ্কের কোষে কোষে এই রক্ত নিয়ে গিয়ে আমাদের সজীব করে তোলে। হাসির পরে সমস্ত রক্তনালী, পেশী এবং দেহ সুস্থ ও সতেজ হয়ে ওঠে। হাসির ফলে পেটের পেশীর যে সঞ্চালন হয় তা নিঃসন্দেহে হজমে সাহায্য করে। শারীরিক দিক থেকেও তাই হাসি খুবই উপকারী।

হাসি নিয়ে এরকম অনেক মতবাদ ও চিন্তাভাবনা প্রচলিত আছে যা জৈবিক, মানসিক, সামাজিক দিকগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন যুক্তি-তর্কের ভিত্তিতে দাঁড় করানো হয়েছে। সামগ্রিকভাবে বা সর্বসম্মতিক্রমে এখনও কোন মতবাদ দাঁড় করানো সম্ভব হয়নি। তাই হাসির কারণ অনেকটা রহস্যমণ্ডিত রয়ে গেছে। বিচিত্র এ হাসি নিয়ে অনেক গবেষণাই হয়েছে, হচ্ছে এবং হবেও। তারপরও এর প্রকৃত কারণ নিয়ে মতদ্বৈততা রয়ে গেছে এবং এর নিরসন হবে বলে মনে হয় না। তারপরও গবেষণা চলছে। অভিন্ন মতবাদ খুঁজে পাওয়া যাক না যাক তাতে কিছু এসে যায় না বরং হাসি আমাদের মাঝে চিরঞ্জীব হোক এটাই হোক আমাদের কামনা
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তালেবান ঢাকায়, রাষ্ট্র ঘুমায়

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩২

জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে অনেক কিছু নতুন হইছে। নতুন সরকার, নতুন মুখ, নতুন বুলি। কিন্তু একটা জিনিস খুব চুপচাপ, খুব সাবধানে নতুন হইতেছে, যেইটা নিয়া কেউ গলা ফাটাইতেছে না। তালেবানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেড ইন বাংলাদেশ ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:২২


দেশপ্রেমের সংজ্ঞাটা আমাদের দেশে ঋতুভেদে বদলায়। তবে ২০২৪-এর জুলাই পরবর্তী সময়ে আমরা এক নতুন ধরনের সিজনাল দেশপ্রেম দেখলাম। একে বলা যেতে পারে "রিটার্ন টিকিট দেশপ্রেম"। যারা দেশে বিদেশে আরাম-আয়েশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়ন রোডম্যাপ: একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিপত্র রূপরেখা : পর্ব -১ ও ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১১


প্রস্তাবিত রূপরেখা: কৃষিকে জীবিকানির্ভর খাত থেকে প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহনশীল
ও বৈশ্বিক বাজারমুখী বাণিজ্যিক শিল্পে রূপান্তরের জাতীয় কৌশল প্রস্তাবনা ।

বাংলার মাঠে প্রথম আলোয়
যে ছবি আসে ভেসে
কাঁধে লাঙল, ঘামে ভেজা মুখ
কৃষক দাঁড়ায় হেসে।

সবুজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি ধার্মিক না মানুষ?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮

ধার্মিক হওয়া কোনো কাজের কথা নয়।
ধার্মিক হওয়া সহজ। বিজ্ঞানী হওয়া সহজ কথা নয়। পিএইচডি করা সহজ কথা নয়। সেই তুলনায় কোরআন মূখস্ত করা সহজ। জন্মগত ভাবে আমি বাপ মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×