যদি প্রশ্ন ওঠে আনন্দ কেন হাসির মাধ্যমে প্রকাশ পায়? কেন অন্য কোন উপায়ে প্রকাশ পেতে পারে না? এর উত্তরে বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী স্পন্সর বলছেন, 'হাসি মানুষের উদ্বৃত্ত এনার্জি বা শক্তির বহিঃপ্রকাশ।' তাঁর মতে, সে সব ক্ষেত্রেই এটা ঘটে থাকে, যেমন_কোন সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিকে মোকাবিলা করার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি যা হঠাৎ করেই সহজ হয়ে গেল বা আমরা একটা আবেগ প্রকাশের জন্যে উন্মুখ হয়ে আছি, কিন্তু সেই মুহূর্তেই এর প্রাসঙ্গিকতা নষ্ট হলো_এ দু'টি ক্ষেত্রেই আমাদের যথেষ্ট পরিমাণ শক্তি ব্যয় হবে বলে মনে মনে এক ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে কিন্তু যে মুহূর্তে সে প্রয়োজন ফুরিয়ে গেল সে মুহূর্তে এ শক্তি নির্গত হতে চায়। যেহেতু স্বরযন্ত্র ও শ্বসন যন্ত্রের পেশী সর্বাধিক স্পর্শকাতর এবং সহজেই উদ্দীপিত হয় সেজন্যে ওই বাড়তি শক্তি এই দুই প্রণালীর মধ্য দিয়ে নির্গত হয় এবং নির্গত হওয়ার সময় স্বরযন্ত্রের শব্দ এবং মুখের পেশীতে সংকোচন ও প্রসারণ ঘটে যা আমাদের কাছে হাসি হিসেবে পরিচিত। সুড়সুড়ির কারণে যে হাসি উৎপন্ন হয় তাকেও স্পন্সর ব্যাখ্যা করেছেন এইভাবে_কোন ব্যক্তির উঁচিয়ে আসা হাত বা আঙুলী সম্ভাব্য বিপদকেই নির্দেশ করে। শরীর সাথে সাথে আসন্ন বিপদ ঠেকানোর প্রস্তুতি নেয় এবং সেজন্য প্রয়োজনীয় শক্তিরও জোগান দেয়। এ শক্তি কল্পিত আক্রমণ প্রতিহত করা অর্থাৎ সুড়সুড়ির রূপ নেয়। সে কারণে যে শক্তি ব্যয়িত হবার কথা ছিল বিপদ ঠেকাতে তা হাসি রূপে ব্যয়িত হয়।
হাসির প্রকারভেদও রয়েছে। তাই তো হাসিতে হাসিতে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। যেমন: সরব ও নীরব বা মৃদু হাসি। শিশু বয়সেই মানুষের মাঝে সরব ও নীরব বা মৃদু হাসির উন্মেষ ঘটে। পরবতর্ীতে সরব হাসি নীরব হাসির অনুগামী হয়ে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, যে শিশু আগে মৃদু হাসে সে-ই আগে সরবে হাসতে শেখে। এ সরব বা নীরব হাসি সামাজিকভাবে নয় জৈবিকভাবেই নিয়ন্ত্রিত। এটা মানুষের প্রবৃত্তিগত ব্যাপার। যেজন্য একজনকে হাসতে দেখে আমরা হাসি। একটা জনশ্রুতি আছে, যে হাসতে জানে সে দীর্ঘ জীবন লাভ করে। এর একটা বৈজ্ঞানিক সত্যতাও আছে। সেটা হলো, হাসি শরীর ও মনকে সতেজ করে। হাসলে রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায়। মস্তিষ্কের কোষে কোষে এই রক্ত নিয়ে গিয়ে আমাদের সজীব করে তোলে। হাসির পরে সমস্ত রক্তনালী, পেশী এবং দেহ সুস্থ ও সতেজ হয়ে ওঠে। হাসির ফলে পেটের পেশীর যে সঞ্চালন হয় তা নিঃসন্দেহে হজমে সাহায্য করে। শারীরিক দিক থেকেও তাই হাসি খুবই উপকারী।
হাসি নিয়ে এরকম অনেক মতবাদ ও চিন্তাভাবনা প্রচলিত আছে যা জৈবিক, মানসিক, সামাজিক দিকগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন যুক্তি-তর্কের ভিত্তিতে দাঁড় করানো হয়েছে। সামগ্রিকভাবে বা সর্বসম্মতিক্রমে এখনও কোন মতবাদ দাঁড় করানো সম্ভব হয়নি। তাই হাসির কারণ অনেকটা রহস্যমণ্ডিত রয়ে গেছে। বিচিত্র এ হাসি নিয়ে অনেক গবেষণাই হয়েছে, হচ্ছে এবং হবেও। তারপরও এর প্রকৃত কারণ নিয়ে মতদ্বৈততা রয়ে গেছে এবং এর নিরসন হবে বলে মনে হয় না। তারপরও গবেষণা চলছে। অভিন্ন মতবাদ খুঁজে পাওয়া যাক না যাক তাতে কিছু এসে যায় না বরং হাসি আমাদের মাঝে চিরঞ্জীব হোক এটাই হোক আমাদের কামনা
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


