somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা কতো টুকু বাঘ বা বিড়াল সে প্রমান আমাদেরকেই করতে দেন।

১২ ই মার্চ, ২০১৫ রাত ৮:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রসেঞ্জিৎ ও দেব মমতা'র সফর সঙ্গী হয়ে এই তো কিছুদিন আগে বাংলাদেশে এসেছিলেন। তখন ২১ শে ফেব্রুয়ারি ছিল।

তো ২২ শে ফেব্রুয়ারি দেবের ভেরিভাইড ফেইসবুক প্রোফাইলে একটি ছবি দেখলাম, তারা শহীদ মিনারের সামনে দাড়িয়ে হাস্যজ্জল মুখে ভিক্টরি চিহ্ন দেখিয়ে ছবি তুলেছিল এবং ক্যাপশনে কিছু রেস্পেক্ট টাইপের ব্লা ব্লা বলেছিল!

সে'ই ছবিতে অনেক বাংলাদেশী কে আমি দেখেছি বাহবা দিতে, যদিও ওই ছবি আমার ভাল লাগেনি!

২১ শে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস। ঐদিন শহীদদের সম্মান দেখানোর জন্য, আর শহীদ মিনার আমাদের শোকের একটা জায়গা সেখানে দাঁত কেলিয়ে ভিক্টরি সাইন দেখিয়ে ছবি তোলা নির্বুদ্ধিতার পরিচয় বহন করে এবং ব্যাপার টা অসম্মানজনক ও বটে।
ব্যাপার টা অনেক কে দোটানায় ফেলে দিতে পারে তাই প্রসঙ্গে নিরব ছিলাম।
কিম্তু আজ আর চুপ থাকতে পারলাম না।

সে যাই হোক আজকের কথা বলা যাক...

প্রতিদিনের অভ্যাসবসত সকালে ফেসবুকে ঢুকতেই প্রসেনজিত চ্যাটার্জির পোস্ট চোখে পড়লো।

তিনি তার যৌবনের একটা ছবি পোস্ট করেছেন আর তাতে ক্যাপশন-
"বাঘের কিন্তু আলাদা জাত থাকে, তাই সবসময় বেড়ালকে বাঘ ভেবে ভুল না করাই ভালো"

আমার খানিকটা সময় লাগলো ব্যাপারটা বুঝতে; কিন্তু ভুল বুঝিনি। কারন ছবিটা পোস্ট করার কয়েক মিনিটের মাঝেই আমার চোখে পড়েছে আর অল্প সময়ের মাঝেই ১০০ এর উপর কমেন্ট দেখে বুঝলাম আমি যা বুঝেছি বাকিরাও তাই বুঝেছে।

আমার প্রশ্ন হল প্রসেনজিত চ্যাটার্জি আপনার এত সাহস কেন?
এত্তত সাহস নিয়ে আপনি ছবি পোস্ট করলেন আর সেটা ঘন্টাখানিকের ভেতর রিমোভ করতে হলো কেন?

আপনি কতটুকু বাঘ বা বিড়াল সে প্রমান নিজেই দিয়েছেন। নিজের করা পোস্ট ধরে রাখার হ্যডাম নাই আপনার... ছি ছি ছি।

আমাদের প্রত্যেকটা চা'য়ের দোকানে এখনো আপনার ছবি চলে, বাঙালিরা নিজের পকেটের টাকা দিয়ে রঙ চা খায় আর আপনার ছবি দেখে। আমরা আপনাকে বেশি সন্মান দিয়ে ফেলেছি যার কারণে আপনারা আজ এত বাড় বেড়েছেন। এবার নিশ্চয়ই বুঝেছেন আপনার পেজে কত বাংলাদেশির লাইক করা ছিল? আপনাকে বাংলাদেশিরা কত ভালোবাসত?

কয়েকদিন আগেই তো খেয়ে গেলেন। যাই হউক বুঝতে পেরেছেন বাংলাদেশী রা কি জিনিস, তাদের ভ্রাতৃত্ব টা কত শক্তিশালী !

কাজটা আপনি ইচ্ছাকৃতভাবেই করেছেন, এখন হয়তো সমালোচনার মুখে নিজের ২৫ বছর আগের ছবির ডায়লগ বলে চালিয়ে দিতে চাইলেন?

এই নোংরামিটা করে আপনি কেবল আপনার নিচু মনের পরিচয়ই দিলেন না। আপনি বিশাল একটা জনগোষ্ঠীর অনুভুতিতে আঘাত করেছেন এবং ফলশ্রুতিতে আপনি আমাদের সবার শ্রদ্ধার জায়গাটা হারালেন। যদিও তাতে আপনার কিছু যায় আসে না।

আমার খুব ইচ্ছা করেছিলো একটা কমেন্ট দেই এই টাইপের-
''আর ডায়লগ খুইজা পাইলেন না দাদা? এতো বছর আগের সংলাপ আজ মনে পড়ছে! আমাদের পাগল পাইছেন?''

কিন্তু ওখানে বাংলাদেশি ছেলেরা মোটামুটি বোম্বাদা'র ধুতি খুলে দিয়েছিলো। এর পর বিদ্রুপ করার আগে ধুঁতির উপরে বেল্ট পড়বেন!!!

যাই হোক, এটলিষ্ট বাঘ দর্শন হলো আপনার। থাবায় পড়েন নি, বেঁচে গেলেন দাদা। :)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×