somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভইঙ্গা পোয়ার কাছে মাইয়া বিয়া ন দিয়্যুম :((:(( :|

০৮ ই নভেম্বর, ২০১২ রাত ১০:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

.
,
,
,
,
,
,
,,
,
সকালেই রাকিবের ফোন।
: হ্যালো (ঘুম জরানো গলায়)
: ওই শালার পুত। *#$^#%$#%%@%@%% এত বেলা হইয়া গেসে, এখনো ঘুমাস ! X(X(
: কিরে, সকাল সকাল এত গাইল পারতাসোস কেন ? কি হইছে ?:-*
: সম্বন্ধীর নাতি, কথা কম ক, জলদি শপিং কমপ্লেক্সের সামনে আয়, আর্জেন্ট ! ১০ মিনিটের মধ্যে ! কুইক ।X(
: আচ্ছা, আসতেছি :-/
তড়িঘড়ি করে রেডি হয়ে নাস্তা না করেই দৌড় দিলাম । দেখলাম শপিং এর সামনে রাকিব দাঁড়ানো। বেশ চিন্তিত মনে হল।
: কিরে , কি হইছে ? এত আর্জেন্ট কি? নাস্তাও করতে পারলাম না তোর জন্য ।
: কথা পরে হবে, আগে রিক্সায় উঠ ।
চুপচাপ কথা না বাড়িয়ে রিক্সায় উঠে পড়লাম, বুঝলাম ঘটনা খুব একটা সুবিধার না। নিশ্চিত মারামারি বা মেয়েঘটিত ব্যপার। আল্লায় যে আজ কপালে কি রাখসে উনিই জানেন।
একটু সামনেই একটা ফাস্টফুডের দোকানের সামনে থামতে বলল ও । আমি আশার আলো দেখতে থাকি। :)
রিক্সা থেকে নেমে রাকিব বলল, তুই দোকান টা তে যা, গিয়ে বস, খাবারের অর্ডার দে, আমি বিল দিব। :D:D:D
দোস্ত, তোর মত বন্ধু হয় না, তুই আমারে ডাইকা আইনা খাওয়াইতেসিস ! তুই এত ভাল হলি কবে থেইকা ! আমি একলা খামু নি, তুই ও আয় ;)
: ফাইজলামি রাখ ! ফুডশপে ঢুইকা দেখবি দুইপক্ষ সামনা সামনি বসে কথা বারতা বলতেসে, দেখলেই বুঝবি ছেলে পক্ষ মেয়ে দেখতে আসছে। তুই ঠিক পাশের টেবিলটাতে গিয়ে বসবি আর ওদের কথা শুনবি।
: আজিব ! মাইনসের কথায় আমি কান দিমু কেন ? :|:|
: আরে আহাম্মক ! ওই পোলা সামিয়া কে দেখতে আসছে, আমি ভেতরে গেলে সামিয়ার ফ্যামিলি চিনে ফেলবে। আর সামিয়া তোকে সামনাসামনি দেখে নাই, সো তুই যা।/:)/:)
আমি ভেতরে গেলাম, ওদের সামনের টেবিলটাতে বসলাম। একটা বার্গার, একটা পেস্ট্রি, একটা মিল্কশেকের অর্ডার দিলাম। কিন্তু ওদের কথা খুব একটা শুনতে পারছিলাম না। সামিয়াকেও বেশ স্বাভাবিক মনে হলো। আমার দিকে সামিয়ার মা বেশ কয়কবার আড়চোখে তাকাল আর ফিসফিস করে সামিয়ার বাবাকে কি যেন বলল।
আমি বুঝতে পারলাম থাকা ঠিক হবে না আর সামিয়ার ভাই আশেপাশেই আছে। তাই খাওয়া শেষ হলে নিজের টাকায় বিল দিয়ে কেটে পড়ি। বাইরে বের হয়ে একটু দূরের টং দোকানে দেখি রাকিব চা খাচ্ছে। আমাকে দেখে আবার রিক্সা নিয়ে জিইসির দিকে চলে আসে। কিছু জিজ্ঞেস করল না, আর আমিও কিছু বললাম না।
রিক্সা থেকে নেমে দুইজন শফিক মামার দোকানে ঢুকলাম। এবার ও বলল, ছেলে আম্রিকা থাকে, বিশাল বড়লোক, সামিয়ার বাপ-মা-ভাই তো পারে না কালকেই বিয়ে দিয়ে দেয়।
হুম্ম, তা বুঝলাম কিন্তু তোর ব্যাপারে তো সামিয়ার বাসায় জানার কথা। আর তুই ও তো খারাপ না। ভাল রেজাল্ট করে বের হইসস। আর একটু চেষ্টা করলে তোর চাকরি পেতে তেমন কষ্ট হবে না। আর ওদের এলাকায় এতবছর থাকিস, ছেলে হিসেবে তুইতো খারাপ না ।
হুম, ওর ভাই কি বলসে জানোস , " পোয়া যত ভালা অইবো অজ্ঞুই , ভইঙ্গা ( চট্টগ্রামের বাইরের ) পোয়ার কাছে বিয়া ন দিয়্যুম " ( ছেলে যত ভাল হোক না কেন, চট্টগ্রামের বাইরের ছেলের কাছে বিয়ে দিব না)
খাইছে ! তাইলে তো কাহিনী খারাপ ! থাক বাদ দে! সামিয়া ঠিক থাকলে সব ঠিক ।
ও তো বলসে যে কোন উপায়ে ও এসব ভেস্তে দিবে। আমার ওর ওপর বিশ্বাস আছে ।
দেখ দোস্ত, তুই হাল ছাড়িস না,ও একটা ব্যবস্থা হবেই । তবে তোকে একটা কথা বলি : Uncertainty বলে একটা কথা আছে, বিশ্বাস থাকা উচিত, বিশ্বাস না থাকলে ভালবাসা হয় না । তবে অন্ধবিশ্বাস ভাল না, এই ৫-৬ বছরে আমাদের অনেক বন্ধুকেই প্রেম করতে দেখেছিস এবং পরিসংখ্যান অনুযায়ী অধিকাংশের পরিণাম সুখকর হয় নি। ওদের কারোরই বিশ্বাসে কমতিছিল না। দোস্ত , আম্রিকা প্রবাসি, দামি গাড়ি, নিজের বাড়ি এসব জিনিস ওদের ভালবাসায় চিড় ধরাতে বেশীক্ষন নেয় না ।তার উপ্রে তুমি আবার ভইঙ্গা । দোস্ত কিছুটা মানসিক প্রস্তুতি রাখিস ।
রাকিব সেদিন চুপ করে ছিল । আমার কথার অর্থ সে বুঝতে পেরেছিল
। জীবনটা সিনেমা নাটক না , আর একালের প্রেম এত মহানও না ।ও শেষ পর্যন্ত যা হবার তাই হয়েছিল ।

একই সাথে প্রকাশিত কথার নাটাই! তে
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই নভেম্বর, ২০১২ রাত ১২:০২
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭


আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতিঘর (Lighthouse)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৬



বাতিঘর (Lighthouse)

বাতিঘর নিয়ে সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমার অনেক কৌতুহল ছিল। কেন ঐ বয়সেই বাতিঘর নিয়ে আমার এতটা আগ্রহ ছিল, তার কারণ আজও খুঁজে পাই না। অথচ আমি নিজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

×