somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোহাম্মদ আলী আকন্দ
আমি ময়মনসিংহ জেলা স্কুল থেকে ১৯৭৭ সালে এস.এস.সি এবং আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ১৯৭৯ সালে এইচ.এস.সি পাশ করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৪ সালে এলএল.বি (সম্মান) এবং ১৯৮৫ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল.এম পাশ করি।

বিংশ শতাব্দীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র -- সপ্তম পর্ব

২৬ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তোলপাড় করা বিশের দশক -৩

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মদ নিষিদ্ধ
বিশের দশকে অনেক ক্ষেত্রে স্বাধীনতা বাড়লেও, এই দশককে নিষেধাজ্ঞার যুগও বলা হয়। ১৯১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র সংবিধানের ১৮ তম সংশোধনীর মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মদ (alcoholic beverage) উৎপাদন, আমদানি, পরিবহন এবং বিক্রি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। সংবিধান সংশোধনীর আলোকে প্রণীত ন্যাশনাল প্রহিবিশন এক্ট (National Prohibition Act) বলে ১৯২০ সালের ১৬ জানুয়ারী মধ্যরাত থেকে সারা যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরণের শুঁড়িখানা, মদের দোকান এবং মদের সেলুনগুলি বন্ধ করে দেয়া হয়। ঊনবিংশ শতাব্দীতে মদ্যাশক্তি, পারিবারিক সহিংসতা ও গোষ্ঠীকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দুর্নীতি ব্যাপকভাবে বেড়ে গেলে পেটিস্টিক প্রোটেস্টান্ট খ্রিস্টানরা মদ্যপানকে এর প্রধান কারণ হিসাবে চিহ্নিত করে মদ নিষিদ্ধ করার জন্য আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলনের ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান আইন পাস হওয়ার আগেই নিজ থেকেই তাদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানে মদ খাওয়া বন্ধ করে দেয়। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে মদ নিষিদ্ধ করার পক্ষে বিপক্ষে জোরালো বিতর্ক শুরু হয়। মদ নিষিদ্ধ করার পক্ষের লোকেরা জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার স্বার্থে মদ নিষিদ্ধ করার দাবি জানায়।

মদ নিষিদ্ধ করার পর জনগণ নিজেরাই অবৈধ ভাবে মদ তৈরী করতো এবং চোরাকারবারিদের দ্বারা পরিচালিত অবৈধ মদের দোকানে যেয়ে মদ খেতে শুরু করে। মদ নিষিদ্ধ করার পর পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যায়। সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলি চোরাই পথে মদের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে। এরমধ্যে সবচাইতে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ছিল এল ক্যাপনে; তার অধীনে এক হাজার স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী ছিল। সে শিকাগোর অধিকাংশ পুলিশকে তার পক্ষে কাজ করার জন্য মাসে মাসে বেতন ভাতা দিতো। এতে আইন শৃঙ্খলার আরো অবনতি হয়। ১৯৩৩ সালে ৫ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সংবিধানের ২১ তম সংশোধনীর মাধ্যমে মদের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

সাংস্কৃতিক গৃহযুদ্ধ
বিশের দশকে শুধুমাত্র মদ নিষিদ্ধের কারণেই না, আরো কিছুকিছু কারণে সামাজিক অস্থিরতা দেখা দেয়। এই সময়ে হাজার হাজার কালো আমেরিকান দক্ষিণের রাজ্যগুলি থেকে উত্তরের রাজ্যগুলিতে এবং বড়বড় শহরগুলিতে চলে আসতে থাকে, যাকে অভ্যন্তরীণ অভিবাসন বলে। তাছাড়া কালোদের নিজস্ব সংস্কৃতি প্রকটভাবে দৃশ্যমান হয়ে উঠে, যেমন-জ্যাজ সংগীত, ব্লুজ সংগীত ইত্যাদি। এছাড়াও কালোদের মাঝে শিক্ষা আন্দোলন যাকে হারলেম রেনেসাঁস বলে, ইত্যাদি কারণে সাদা আমেরিকানরা অস্বস্তি বোধ করতে থাকে। তাই বিশের দশকে ইন্ডিয়ানা এবং ইলিনয়েস রাজ্যের হাজার হাজার সাদা আমেরিকান কু ক্লাক্স ক্লান (Ku Klux Klan) নামের বর্ণবাদী সংঘটনে যোগ দেয়। তারা এক দিকে যেমন কালোদেরকে দমন করার চেষ্টা করে, অপরদিকে পুরানো মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে।

অনুরূপভাবে কমিউনিস্ট বিরোধী "রেড স্ক্যার " সংঘটন অভিবাসন বিরুধী জোরদার আন্দোলন শুরু করে। যার ফলশ্রুতিতে ১৯২৪ সালে ন্যাশনাল অরিজিনস এক্ট (National Origins Act) নাম অভিবাসন সংক্রান্ত একটা কঠোর আইন পাস হয়। ঐতিহাসিকরা সামাজিক এই সংঘাতগুলিকে সাংস্কৃতিক গৃহযুদ্ধ বা Cultural Civil War হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। এই সাংস্কৃতিক গৃহযুদ্ধ ছিল মফস্বলের অধিবাসী বনাম বড়ো শহরবাসী, প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিষ্টান বনাম ক্যাথলিক খ্রিষ্টান, কালো আমেরিকান বনাম সাদা আমেরিকান; বিশেষ করে নতুন মহিলা সমাজ বনাম পরানো মূল্যবোধ সম্পন্ন সমাজ।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১:৪৭
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরিয়াতন্ত্রের নিষ্ঠুরতা, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও নৈতিক দেউলিয়াপনা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৭


পৃথিবীজুড়ে মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা বাড়ছে। এই বিদ্বেষ শুধু ইসরায়েল বা তার পৃষ্ঠপোষক ডানপন্থী দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কানাডার মতো তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী এবং ফিলিস্তিনের প্রতি জোরালো রাজনৈতিক সমর্থন থাকা আয়ারল্যান্ডের মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×