somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোহাম্মদ আলী আকন্দ
আমি ময়মনসিংহ জেলা স্কুল থেকে ১৯৭৭ সালে এস.এস.সি এবং আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ১৯৭৯ সালে এইচ.এস.সি পাশ করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৪ সালে এলএল.বি (সম্মান) এবং ১৯৮৫ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল.এম পাশ করি।

বিংশ শতাব্দীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র -- অষ্টম পর্ব

২৭ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ওয়াল স্ট্রিট ধ্বস

১৯২৯ সালে আমেরিকার অর্থনৈতিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে থাকে। মানুষের কাছে নতুন গাড়ির চাহিদা কমে আসে। নতুন বাড়ি বানানোর গতি কমে আসে। কিন্তু বিশের দশকের শেষ দিকেও পুঁজি বাজারে তেজীভাব বজায় থাকে। মানুষ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে স্টক মার্কেট থেকে শেয়ার কিনতে থাকে। এতে শেয়ার মার্কেটে শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক ভাবে বাড়তে থাকে। শেয়ারের দাম আকাশচুম্বি হয়ে উঠে। ফলে কিছু লোক এই সুযোগে তাদের শেয়ার বিক্রি করে দিতে থাকে। ১৯২৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে শেয়ারের দাম দ্রুত কমে যেতে থাকে। শেয়ার ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পরে। ১৯২৯ সালের ২৪ অক্টোবর শেয়ার বাজারে ধ্বস নেমে আসে। এই দিনকে বলা হয় ব্ল্যাক থ্রাসডে (Black Thursday) এবং এই ঘটনাকে বলা হয় ওয়াল স্ট্রিট ধ্বস (Wall Street Crash)। ফলশ্রুতিতে বিনিয়োগকারীদের ব্যবসার প্রতি আস্থা নষ্ট হয়ে যায়; অধিকাংশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে যায় এবং শিল্প উৎপাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। ১৯৩২ সালে শিল্পপণ্য উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসে। ১৯২৯ সালের তুলনায় রফতানী বাণিজ্য এক-তৃতীয়ংশে নেমে আসে। বেকারত্ব বেড়ে যায়। এক-চতুর্থাংশ কর্মক্ষম ব্যক্তি বেকার হয়ে যায়। বেকারত্ব বাড়ার সাথে সাথে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে আসে। ফলে পণ্য চাহিদা কমে আসায় উৎপাদন আরো কমে যায়, এতে আরও লোক বেকার হতে থাকে। এই ভাবে আমেরিকার অর্থনীতি খারাপ থেকে আরো খারাপের দিকে যেতে থাকে। এই অবস্থাটাকে বলা হয় মহা-মন্দা (Depression)

অর্থনৈতিক মন্দা (depression)

বিংশ শতাব্দীর ত্রিশের দশককে যুক্তরাষ্ট্র সহ সারা পৃথিবীতে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মন্দা দেখা দেয়। অনেক দিন পর্যন্ত এই মন্দা স্থায়ী হয়। এই মন্দা ছিল অনেক গভীর ও ব্যাপক। একটা সবল অর্থনীতি কি ভাবে মন্দার কবলে পড়তে পারে অর্থনীতিবিদের কাছে এটা ছিল এক জ্বলন্ত উদাহরণ। শেয়ার বাজার পতনের মাধ্যমে এই মন্দার সূচনা হয়। এই সময়ে হার্বার্ট হোভার যুক্তরাষ্ট্রের ৩১ তম প্রেসিডেন্ট হিসাবে ক্ষমতায় ছিলেন। তিনি মন্দ কাটিয়ে উঠার জন্য অনেক পদক্ষেপ নেন। তিনি প্রথমে মালিকদেরকে রাজি করতে চেষ্টা করেন যাতে কর্মচারীদের বেতন না কমিয়ে অন্ততপক্ষে যা আছে সেই পরিমান বজায় রাখতে। মানুষের যাতে কর্মসংস্থান হয় এবং আয় করতে পারে সেই জন্য রাস্তা, ব্রিজ এবং সরকারী ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন। কিন্তু তিনি বেকার ভাতা দিতে অস্বীকার করেন। তিনি মনে করতেন বিনা-পরিশ্রমে সরকারী ভাতা জনগণকে অলস ও সরকারী ভাতার উপর নির্ভশীল করে তুলবে। ফলে মন্দার সময়ে বেকারদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠে। অনেকেই লঙ্গরখানায় যেয়ে খাবার সংগ্রহ করতো। এতে প্রেসিডেন্ট হোভারের জনপ্রিয়তায় ধ্বস নামে। ১৯৩২ সালের নির্বাচনে ফ্র্যাংকলিন ডিলান রুজভেল্ট আমেরিকার ৩২ তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১:৪৯
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরিয়াতন্ত্রের নিষ্ঠুরতা, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও নৈতিক দেউলিয়াপনা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৭


পৃথিবীজুড়ে মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা বাড়ছে। এই বিদ্বেষ শুধু ইসরায়েল বা তার পৃষ্ঠপোষক ডানপন্থী দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কানাডার মতো তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী এবং ফিলিস্তিনের প্রতি জোরালো রাজনৈতিক সমর্থন থাকা আয়ারল্যান্ডের মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×