somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোহাম্মদ আলী আকন্দ
আমি ময়মনসিংহ জেলা স্কুল থেকে ১৯৭৭ সালে এস.এস.সি এবং আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ১৯৭৯ সালে এইচ.এস.সি পাশ করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৪ সালে এলএল.বি (সম্মান) এবং ১৯৮৫ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল.এম পাশ করি।

বিংশ শতাব্দীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র -- নবম পর্ব

২৭ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ৯:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নতুন নতুন পরিকল্পনা

আমেরিকার অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠার জন্য ৩২ তম প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাংকলিন ডিলান রুজভেল্ট অনেক নতুন নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তিনি প্রথমেই আমেরিকানদের হতোদ্যম মনবলকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করেন। তিনি আমেরিকানদের আশস্ত করেন এবং নিজে প্রতিজ্ঞা করেন আমেরিকার অর্থনীতিকে পুনর্জীবিত করার জন্য তিনি নতুন নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন। অনেক নতুন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নেয়ার পরও ১৯৩৩ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে খুব সীমিত সাফল্য এসেছে। ধীরে ধীরে বেকারত্বের হার শতকরা ১৫ ভাগে নেমে আসে। কিন্তু ১৯৩৭ সালে অর্থনীতি আবারো মন্দাকবলিত হয়ে পরে, বেকারত্বের হার শতকরা ১৫ থেকে ১৭ ভাগে বৃদ্ধি পায়। এদিকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে শিল্পোৎপাদন বাড়তে বাড়তে ১৯২৯ সালের পর্যায়ে উঠে আসে।

প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব নেয়ার একশ' দিনের মধ্যে অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য নতুন কিছু আইন পাস করতে প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট কংগ্রেসকে রাজি করান। সংস্কারের অংশ হিসাবে ১৯৩৩ সালের ৯ মার্চ এমার্জেন্সি ব্যাংকিং এক্ট দ্বারা আমেরিকার সব ব্যাংক বন্ধ ঘোষণা করেন। এই আইনে বলা হয় সরকার পর্যালোচনার পর যে ব্যাংককে স্বচ্ছল মনে করবে, শুধুমাত্র সেই ব্যাংককেই খোলার অনুমতি দিবে। এই আইনি পদক্ষেপের ফলে জনগণের মনে ব্যাংক ব্যবস্থাপনার প্রতি আস্থা ফিরে আসে। মানুষ আবার ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে শুরু করে।

১৯৩৩ সালের ১২ মে ফেডারেল এমার্জেন্সি রিলিফ এক্ট পাস হয়। এই আইনে বেকারদেরকে বেকার ভাতা প্রদান এবং বেকাররা যাতে কাজ পায় সেই জন্য রাস্তা মেরামত, পার্ক ও স্কুল উন্নয়ন ইত্যাদি কাজে তাদেরকে নিয়োজিত করার বিধান রাখা হয়। বেকারদের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার উদ্দ্যেশে ১৯৩৩ সালে প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষনের জন্য বেসামরিক নাগরিকদের নিয়ে একটা বাহিনী গঠন করেন। এতে অনেক বেকারের চাকরি হয়। গণপূর্ত প্রশাসন সৃষ্টি করে, এর অধীনে সরকারি ভবন, ব্রিজ, বাঁধ নির্মাণ ইত্যাদি ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করা হয়। লক্ষ্য একটাই বেকারদের কর্মসংস্থান করা।

একই সংগে কৃষকদের উন্নতির জন্য ১৯৩৩ সালে এগ্রিকালচারাল অ্যাডজাস্টমেন্ট এক্ট পাস করা হয়। এই আইন প্রয়োগ করে আমদানিকৃত পণ্যের সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে কৃষিপণ্যের দাম বাড়ানো হয় যাতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ভালো দাম পেতে পারে। যে কৃষিক্ষেত্রগুলি ইচ্ছাকৃতভাবে অব্যবরিত রাখা হয়ে ছিল সেগুলির বন্দোবস্ত বাতিল করা হয়। ১৯৩৭ সালে ফার্ম সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন আইন পাস করা হয়। এই আইনের মাধ্যমে বর্গাচাষীদেরকে ঋণ প্রদান করা হয় যাতে তারা জমিটা কিনে নিতে পারে। কিন্তু অনেক অঞ্চলে নানান প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে কৃষকের অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যায়। ক্যালিফোর্নিয়ার অনেক কৃষক কৃষিকাজ ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় চলে যায়।

১৯৩৫ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি এক্ট পাস হয়, এতে বয়স্কদের অবসরকালীন ভাতা এবং বেকারদের জন্য বীমা ব্যবস্থার বিধান রাখা হয়। শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা, সর্বনিম্ন মুজুরি নির্ধারণ ইত্যাদি অনেক ব্যাপারে ১৯৩৫ টি ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত অনেকগুলি আইন পাস করা হয় (National Labor Relations Act, 1935; Wagner Act, 1935; Fair Labor Standards Act, 1938) ।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ৯:৩৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"নিজেদের কেলেঙ্কারিই যখন নিরাপদ নয়, প্রধানমন্ত্রী কতটা নিরাপদ"

লিখেছেন রিয়াজ হান্নান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৭


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রিয় তারেক রহমান রাহিমাহুল্লাহ,আপনাকে সবার আগে বাংলাদেশের জন্য ভালোবাসি। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি আপনার আশেপাশের লোকেরা কেলেংকারির সাথে জড়িত,এরা আবার ইলিয়াসের আগেই নিজেকে নিজে এক্সপোজ করে দেয়।

এরা নিজেরাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আধিপত্যবাদী নীতি

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৫২

নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা সম্প্রতি ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশের কিছু সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি করেছে ।
গত ১৭ আগস্ট নেপালের রাজধানী... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×