somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোহাম্মদ আলী আকন্দ
আমি ময়মনসিংহ জেলা স্কুল থেকে ১৯৭৭ সালে এস.এস.সি এবং আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ১৯৭৯ সালে এইচ.এস.সি পাশ করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৪ সালে এলএল.বি (সম্মান) এবং ১৯৮৫ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল.এম পাশ করি।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা-২

৩০ শে মে, ২০১৭ রাত ১১:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনুচ্ছেদ ১
ধারা ১। এই সংবিধানে প্রদত্ত আইন প্রণয়নের সকল ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উপর ন্যস্ত করা হলো, যা সেনেট এবং প্রতিনিধি সভা নিয়ে গঠিত।
ভাষ্য
আইন প্রণয়নের ক্ষমতা একমাত্র কংগ্রেসের।
যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস (আইনসভা) দুই কক্ষ বিশিষ্ট বা "Bicameral"। নিম্ন কক্ষকে বলে প্রতিনিধি সভা বা "House of Representatives" এবং উচ্চ কক্ষকে বলে সিনেটে।

ধারা ২।

দফা ১। প্রতি দুই বছর অন্তর, রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে ভোটার হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের দ্বারা, সদস্য নির্বাচনের মাধ্যমে হাউস অফ রিপ্রেসেন্টেটিভস গঠিত হবে।

ভাষ্য
প্রতি দুই বছর পরপর হাউস অফ রিপ্রেসেন্টেটিভসের সদস্য নির্বাচন হবে। অর্থাৎ হাউস অফ রিপ্রেসেন্টেটিভসের সদস্যরা দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন। প্রতিটি রাজ্যের আইনসভা নির্বাচনের যারা ভোটার তারাই হাউস অফ রিপ্রেসেন্টেটিভসের সদস্য নির্বাচনে ভোটার হিসাবে গণ্য হবেন।

দফা ২। কোনো ব্যক্তি প্রতিনিধি (Representative) হতে পারবে না, যার বয়স পঁচিশ বছর হয়নি, এবং যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক হয়েছেন তা সাত বছর হয়নি, এবং তিনি যে রাজ্য থেকে নির্বাচন করবেন বলে ঠিক করেছেন নির্বাচনের সময় সেই রাজ্যের বাসিন্দা ছিলেন না।

ভাষ্য
এই দফায় হাউস অফ রিপ্রেসেন্টেটিভসের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার তিনটি যোগ্যতার কথা বলা হয়েছে।
(১) প্রার্থীর বয়স পঁচিশ বছর হতে হবে;
(২) যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসাবে সাত বছর অতিবাহিত হতে হবে; এবং
(৩) তিনি যে রাজ্য থেকে হাউস অফ রিপ্রেসেন্টেটিভসের সদস্য নির্বাচিত হতে চান, তাকে সেই রাজ্যের বাসিন্দা হতে হবে।

দফা ৩। যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত রাজ্যগুলির জনসংখ্যার অনুপাতে প্রতিনিধি সংখ্যা এবং সরাসরি করের পরিমান নির্ধারিত হবে; মুক্ত মানুষদেরকে জনসংখ্যা হিসাবে গণনা করা হবে, বাৎসরিক চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োজিত কর্মচারীরাও জনসংখ্যার অন্তর্ভুক্ত হবে, এবং কর প্রদান করে না এমন ইন্ডিয়ানদেরকে, অন্য সকল মানুষদের তিন-পঞ্চমাংশকে জনসংখ্যা হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের প্রথম সভার পর তিন বছরের মধ্যে প্রকৃত শুমারি হবে এবং পরে প্রতি দশ বছর পরপর আইনের বিধান মতো শুমারি অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিনিধির সংখ্যা প্রতি তিরিশ হাজারে এক জনের বেশি হবে না, কিন্তু প্রতি রাজ্যের কম করে একজন প্রতিনিধি থাকবে; এবং শুমারি হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে তিন জন, ম্যাসাচুসেটস থেকে আট জন, রোডস-আইল্যান্ড এবং প্রভিডেন্স প্লান্টেশনস থেকে এক জন, কানেক্টিকাট টি পাঁচ জন, নিউ ইওর টি ছয় জন, নিউ জার্সি থেকে চার জন, পেনসিলভানিয়া থেকে আট জন, ডেলাওয়্যার থেকে এক জন, মেরিল্যান্ড থেকে ছয় জন, ভার্জিনিয়া থেকে দশ জন, নর্থ ক্যারোলিনা টি পাঁচ জন, সাউথ ক্যারোলিনা থেকে পাঁচ জন, এবং জর্জিয়া থেকে তিন জন প্রতিনিধি বাছাই করতে পারবে।

ভাষ্য
এই দফার কতগুলি বিধান সংবিধানের পরবর্তী সংশোধনীর ফলে কার্যকারিতা হারিয়েছে। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর ফলে জনসংখ্যার অনুপাতে সরাসরি করের বিধানটি আর কার্যকর নাই। এই সংবিধানের কোথাও দাস বা দাসপ্রথা শব্দটা ব্যবহার করা হয়নি, তার পরিবর্তে 'অন্য সকল মানুষ' এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়েছে। সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই শব্দবন্ধের কার্যকারিতাও হারিয়েছে।

এই দফার কতগুলি বিধান অন্তর্বর্তীকালীন, কতগুলি বিধান স্থায়ী। নতুন সংবিধানের অধীন ১৭৮৯ সালে কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন বসে। তখন পর্যন্ত আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়নি। এই অবস্থায় ঐ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত রাজ্যগুলি থেকে অনুমান ভিত্তিতে প্রতিনিধির সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। যেমন- নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে তিন জন, ম্যাসাচুসেটস থেকে আট জন, রোডস-আইল্যান্ড এবং প্রভিডেন্স প্লান্টেশনস থেকে এক জন, কানেক্টিকাট থেকে পাঁচ জন, নিউ ইয়র্ক থেকে ছয় জন, নিউ জার্সি থেকে চার জন, পেনসিলভানিয়া থেকে আট জন, ডেলাওয়্যার থেকে এক জন, মেরিল্যান্ড থেকে ছয় জন, ভার্জিনিয়া থেকে দশ জন, নর্থ ক্যারোলিনা থেকে পাঁচ জন, সাউথ ক্যারোলিনা থেকে পাঁচ জন, এবং জর্জিয়া থেকে তিন জন।

দফা ৪। কোনো রাজ্যের প্রতিনিধির পদ শূন্য হলে, সেই রাজ্যের নির্বাহী কর্তৃপক্ষ শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন ঘোষণা করবেন।

ভাষ্য
এখানে নির্বাহী কর্তৃপক্ষ বলতে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের গভর্নরকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ যে রাজ্যের প্রতিনিধির পদ মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই যে কোনো কারণেই হউক শূন্য হয়েছে, সেই রাজ্যের গভর্নর অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচনের ঘোষণা দিবেন।

দফা ৫। হাউস অফ রিপ্রেসেন্টেটিভস তাদের স্পিকার এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের মনোনীত করবেন; এবং অভিশংসনের ক্ষমতা কেবলমাত্র হাউস অফ রিপ্রেসেন্টেটিভসের।

ভাষ্য
হাউস অফ রিপ্রেসেন্টেটিভসের প্রতিনিধিদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে হাউসের স্পিকার নির্বাচিত হবেন। সাধারণত সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রতিনিধিদের মধ্য থেকেই হাউসের স্পিকার নির্বাচিত হন। অন্যান্য কর্মকর্তা বলতে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা, সংখ্যালঘিষ্ঠ দলের নেতা, হোইপগন ইত্যাদিকে বুঝানো হয়েছে।

হাউস অফ রিপ্রেসেন্টেটিভসের আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা হচ্ছে, কোনো ব্যক্তিকে তার পদ থেকে অভিশংসনের ক্ষমতা। এই ক্ষমতা শুধুমাত্র হাউস অফ রিপ্রেসেন্টেটিভসের।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই নভেম্বর, ২০২০ রাত ১২:৫৬
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নির্ভীক অভিযাত্রা

লিখেছেন আকিব হাসান জাভেদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৩

আমি চলি ঐ প্রান্তে,
যেখানে অসৎ থেকে মানুষ হয়েছে সৎ।
আমি চলি উড়ে উড়ে,
ডানাহীন পাখির মতো,
যেখানে দুর্বলতাকে জয় করে
হয়েছে দুঃসাহস।
আমি চলি শক্তির সাথে,
দেহ যায় না ঝুঁকে।
করি না প্রণাম,
করি না চাটুকারিতা আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ - একদম চুপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



আমরা শুধু চুপ থাকবো -
আমাদের কথা বলার মুখ নেই
আমাদের দেখার মতো চোখ নেই
আমাদের শোনার মতো কান নেই
মনে হয়, মনে হয় -
আমাদের হাত-পাও নেই।

আমাদের বিবেক নেই
আমাদের চিন্তা-চেতনাও নেই
আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

তবুও বেঁচে আছি

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:১৫

এই নিথর নগ্ন শরীরের প্রতিটা পল্লবের করুণ আর্তচিৎকার
পৃথিবীর মাটি ভেদ করে কোনদিনও
ওই মৃত কানে পৌঁছাবে না
আমি জেনে গেছি ।

বিপন্ন আকাশের গায়ে লেপ্টে থাকা
দেবতাদের প্রতারণার ফাঁদ আর মিথ্যা প্রলোভনের গল্পগুলি
আমার শুনতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৩



জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

১৫ আগস্ট আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গিয়েছিলাম জুলাই মিউজিয়ামে। সেখানে গিয়ে মনে হলো- এটি শুধু একটি জাদুঘর নয়; এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের বিরুদ্ধে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×