somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোহাম্মদ আলী আকন্দ
আমি ময়মনসিংহ জেলা স্কুল থেকে ১৯৭৭ সালে এস.এস.সি এবং আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ১৯৭৯ সালে এইচ.এস.সি পাশ করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৪ সালে এলএল.বি (সম্মান) এবং ১৯৮৫ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল.এম পাশ করি।

শুধু দুটি জিনিস আছে। সত্য এবং মিথ্যা। সত্য অবিভাজ্য, তাই এটি নিজেকে চিনতে পারে না; যদি কেউ এটিকে চিনতে চায় তাহলে এটাকে মিথ্যা হতে হবে।

২২ শে জানুয়ারি, ২০২৪ রাত ৮:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



There are only two things. Truth and lies. Truth is indivisible, hence it cannot recognize itself; anyone who wants to recognize it has to be a lie.

এটা ফ্রাঞ্জ কাফকার একটি বিখ্যাত উক্তি। এই কথার দ্বারা তিনি সত্যের প্রকৃতি এবং মানুষের অভিজ্ঞতার সাথে সত্যের সম্পর্কের একটি গভীর এবং রহস্যময় ধারণা দিয়েছেন।

কাফকার এই কথাটির অন্তর্নিহিত অর্থের আরও গভীরে অনুসন্ধান করা যাক:

১. সত্য ও মিথ্যার দ্বৈততা:

কাফকা প্রথমেই সত্য এবং মিথ্যার মধ্যে একটি সম্পূর্ণ বৈসাদৃশ্য স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন। বাস্তবতাকে দ্বৈত সত্তা হিসাবে দেখান। তিনি সত্যকে পরম এবং একক হিসাবে উপস্থাপন করেন। পক্ষান্তরে মিথ্যা সত্যের বিপরীত। এতে তিনি বুঝাতে চান যে বাস্তবতার ধরণ হচ্ছে বহুমুখী এবং ছলনাময়ী।

২. সত্যের অবিভাজ্যতা:

সত্য অবিভাজ্য। সত্য একটি একীভূত সমগ্র। সত্য একটি সম্পূর্ণ এবং অখণ্ডিত বাস্তবতা হিসাবে বিদ্যমান। সত্যকে কোন ছোট অংশে বিভক্ত বা পৃথক করে বিশ্লেষণ করা যায় না।

৩. সত্যের নিজেকে চিনতে অক্ষমতা:

সত্য নিজেকে চিনতে পারে না। এইখানে কাফকা একটি প্যারাডক্সিকাল ধারণার অবতারণা করেন। সত্য পরম হওয়া সত্ত্বেও এটার আত্ম-সচেতনতার অভাব রয়েছে। সত্য একটি বিশুদ্ধ রূপ হিসাবে বিদ্যমান কিন্তু এটি স্বাধীনভাবে তার নিজের অস্তিত্ব যাচাই করতে পারে না।

৪. সত্যকে চিনতে মিথ্যার ভূমিকা:

কাফকার এই ধারণাটি সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক অংশ। কাফকা মনে করেন যে সত্যের স্বীকৃতির জন্য কিছু পরিমাণ মিথ্যার প্রয়োজন আছে। এর দ্বারা তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে সত্যকে বোঝার জন্য একটি রেফারেন্সের ফ্রেম প্রয়োজন হয়। সত্যকে এমন কিছুর সাথে তুলনা করতে হবে যা সত্য নয়। অর্থাৎ মিথ্যার সাথে সত্যকে তুলনা করলে সত্য প্রকাশিত হয়। তাই মিথ্যা সত্যের প্রকৃতি প্রকাশ ও স্বীকৃতির ক্ষেত্রে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে



অর্থ ও ব্যাখ্যা:

(ক) কাফকার এই কথাটি বেশ কিছু চিন্তা উদ্দীপক প্রশ্ন মনে জাগায়। সত্য কি সত্যিই দ্বৈত সত্তা বিশিষ্ট, নাকি এটি একক সত্তার ভিন্ন ভিন্ন রূপ? কি উপাদান দিয়ে মিথ্যা গঠিত হয়? কিছু মিথ্যা কি মানুষকে সত্যের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে? সত্য সম্পর্কে বোঝার জন্য কি সবসময় আস্থা, বিশ্বাস, শ্রদ্ধা, ভক্তি বা মনোযোগ প্রয়োজন অথবা ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়?

(খ) এই কথাটি পরম সত্যকে উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে মানুষের সীমাবদ্ধতার উদাহরণ হিসাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। মানুষ বাস্তবতা বুঝানোর জন্য ভাষা, উপলব্ধি এবং বিষয়গত অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে। মানুষ এরদ্বারা সহজাতভাবে নিজেদের এবং অবিভাজ্য সত্যের মধ্যে একটি দূরত্ব তৈরি করে।

(গ) এই কথাটিকে জ্ঞান অর্জন এবং বাস্তবতাকে বোঝার জন্য মানুষের প্রচেষ্টার প্রতিফলন হিসাবেও দেখা যেতে পারে। সত্যকে স্বীকৃতি দেওয়া সাথে মিথ্যার মুখোমুখি হওয়া জড়িত, এই ধারণাটি সত্য জ্ঞান অন্বেষণে অন্তর্নিহিত জটিলতা এবং চ্যালেঞ্জগুলির উপর জোর দেন।

(ঘ) সত্য ও মিথ্যা দুটি বিপরীতমুখী ধারণা, যা একে অপরের পরিপূরক। সত্য হল বাস্তবতার যথাযথ প্রতিফলন, অন্যদিকে মিথ্যা হল বাস্তবতার বিকৃত বা অসত্য প্রতিফলন।

(ঙ) সত্য ও মিথ্যা হল দুটি ভিন্ন বাস্তবতা। সত্য হল বাস্তবতার একমাত্র বাস্তবতা, অন্যদিকে মিথ্যা হল একটি অবাস্তবতা। এই ব্যাখ্যা অনুসারে মিথ্যা সত্যকে আড়াল করে বা বিকৃত করে। কিন্তু কাফকার মতে মিথ্যা সত্যকে প্রকাশ করে।

(চ) আরেকটি ব্যাখ্যা হল যে সত্য ও মিথ্যা হল বাস্তবতার দুটি দিক। সত্য হল বাস্তবতার বাহ্যিক দিক, অন্যদিকে মিথ্যা হল বাস্তবতার অন্তর্নিহিত দিক। এই ব্যাখ্যা অনুসারে মিথ্যা সত্যের একটি অপরিহার্য অংশ।

(ছ) ফরাসি দার্শনিক জঁ-পল সার্ত্রে সত্য ও মিথ্যার দ্বৈততাকে একটি জটিল এবং দ্বন্দ্ব পূর্ণ ধারণা হিসেবে দেখেছেন। তিনি বলেছেন যে সত্য ও মিথ্যা হল দুটি "অসম" ধারণা, যা একে অপরের সাথে লড়াই করে। সার্ত্রের মতে, সত্যকে অর্জন করার জন্য আমাদেরকে মিথ্যার সাথে লড়াই করতে হবে।



শেষকথা, কাফকার এই কথাটি সত্য এবং সত্য অনুধাবন সম্পর্কে মানুষের ধারণা নিয়ে প্রশ্নের উদ্রেক করে। এই কথাটির দ্বারা সমালোচনামূলক আত্মবিশ্লেষণকে উৎসাহিত করে এবং মানুষকে বাস্তবতার সূক্ষ্ম এবং প্যারাডক্সিকাল প্রকৃতিকে গ্রহণ করতে অনুপ্রাণিত করে। বাস্তব অবস্থায় সত্য এবং মিথ্যার মধ্যে রেখাগুলি প্রায়শই ঝাপসা হয়ে যায় এবং একে অপরের সাথে জড়িত হয়ে থাকে।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জানুয়ারি, ২০২৪ রাত ৮:২১
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"তোমরা জানাযা করে দ্রুত লাশ দাফন কর।"

লিখেছেন এমএলজি, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ৭:৩০

রাসূল (সাঃ) বলেছেন, "তোমরা জানাযা করে দ্রুত লাশ দাফন কর।" বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনায় এ কাজটি করা হয়নি বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যাচ্ছে।

বিষয়টি সত্য কিনা তা তদন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যক্তি বেগম খালেদা জিয়া কেমন ছিলেন?

লিখেছেন নতুন নকিব, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১২:০৪

ব্যক্তি বেগম খালেদা জিয়া কেমন ছিলেন?

ইয়াতিমদের সাথে ইফতার অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়া, ছবি https://www.risingbd.com/ থেকে সংগৃহিত।

তিন-তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্ত্রীও তিনি। তাকেই তার বৈধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বছরশেষের ভাবনা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১২:৪৮


এসএসসি পাস করে তখন একাদশ শ্রেণিতে উঠেছি। সেই সময়ে, এখন গাজায় যেমন ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে, তখন বসনিয়া নামে ইউরোপের ছোট একটা দেশে এরকম এক গণহত্যা চলছিল। গাজার গণহত্যার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

উৎসর্গ : জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP)

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৫:৩৮



খিচুড়ি

হাঁস ছিল, সজারু, (ব্যাকরণ মানি না),
হয়ে গেল “হাঁসজারু” কেমনে তা জানি না।
বক কহে কচ্ছপে—“বাহবা কি ফুর্তি!
অতি খাসা আমাদের বকচ্ছপ মূর্তি।”
টিয়ামুখো গিরগিটি মনে ভারি শঙ্কা—
পোকা ছেড়ে শেষে কিগো খাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালেদা জিয়ার জানাজা

লিখেছেন অপু তানভীর, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১১:৩৯

আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন আমার নানীর বোন মারা যান। নানীর বোন তখন নানাবাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। সেইবারই আমি প্রথম কোনো মৃতদেহ সরাসরি দেখেছিলাম। রাতের বেলা যখন লাশ নিয়ে গ্রামের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×