
জীবনে সফল হতে হলে নিজের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যগুলি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে। এরপর সেই লক্ষ্যগুলি অর্জনের জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। এই পরিকল্পনা অনুসারে কাজ করা এবং অন্যের কথা বা কাজের দ্বারা প্রভাবিত হওয়া এড়াতে পারলে জীবনে সাফল্য অর্জনের সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।
নিজের পরিকল্পনা অনুসারে কাজ করা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
নিজের পরিকল্পনা অনুসারে কাজ করলে লক্ষ্য অর্জনের সম্ভাবনা বাড়ে। কারণ পরিকল্পনা লক্ষ্য অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট পথ দেখায়। এটি লক্ষ্য অর্জনের জন্য কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে তা নির্ধারণ করতে সাহায্য করে।
নিজের পরিকল্পনা অনুসারে কাজ করলে লক্ষ্যবদ্ধ থাকতে সাহায্য করে। কারণ পরিকল্পনা লক্ষ্যের দিকে মনোনিবেশ করতে সাহায্য করে। এটি অন্যদের কথা বা কাজের দ্বারা বিভ্রান্ত হতে বাধা দেয়।
নিজের পরিকল্পনা অনুসারে কাজ করলে তা আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। কারণ কেউ যখন পরিকল্পনা অনুসারে কাজ করে এবং নিদিষ্ট লক্ষ্য অর্জন করে, তখন সে নিজের সম্পর্কে ভালো অনুভব করে। এটি মানুষকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং নতুন নতুন লক্ষ্য অর্জনের জন্য অনুপ্রাণিত করে।

অন্যের কথা বা কাজের প্রতিক্রিয়া দেখাতে কিছু করা কেন ক্ষতিকর?
অন্যের কথা বা কাজের প্রতিক্রিয়া দেখাতে কিছু করলে নিদিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি হয়। কারণ যখন কেউ অন্যদের কথা বা কাজের দ্বারা প্রভাবিত হয়, তখন সে নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। সে তার মনের অজান্তেই অন্যদের চাওয়া বা আশা অনুসারে কাজ করতে বাধ্য হয়।
অন্যের কথা বা কাজের প্রতিক্রিয়া দেখাতে কিছু করলে আত্মবিশ্বাস কমে যায়। কারণ যখন কেউ অন্যদের চাওয়া বা আশা অনুসারে কাজ করে, তখন সে নিজের সম্পর্কে ভালো অনুভব করে না। এটি আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয় এবং লক্ষ্য অর্জনের জন্য অনুপ্রেরণা নষ্ট হয়ে যায়।
কীভাবে অন্যের কথা বা কাজের দ্বারা প্রভাবিত হওয়া এড়াবেন?

নিজের পরিকল্পনা অনুসারে কাজ করতে এবং অন্যের কথা বা কাজের দ্বারা প্রভাবিত হওয়া এড়াতে হলে আমাদেরকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি মনে রাখা উচিত:
১. লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যগুলি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করুন। লক্ষ্যগুলি অর্জনের জন্য কী কী করতে হবে তা স্পষ্টভাবে জানুন।
২. লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যগুলি অর্জনের জন্য একটি বাস্তববাদী পরিকল্পনা তৈরি করুন। পরিকল্পনাটি এমন হওয়া উচিত যা আপনি বাস্তবায়ন করতে পারেন।
৩. পরিকল্পনা অনুসারে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হোন। আপনার লক্ষ্যগুলি অর্জনের জন্য প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করুন।
৪. অন্যের কথা বা কাজের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার কারণগুলি বুঝুন। আপনি কেন অন্যদের কথা বা কাজের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছেন তা বুঝতে চেষ্টা করুন।
৫. অন্যের কথা বা কাজের দ্বারা প্রভাবিত না হওয়ার জন্য কৌশল তৈরি করুন। যখন আপনি অন্যদের কথা বা কাজের দ্বারা প্রভাবিত হতে যাচ্ছেন তখন নিজেকে থামান এবং আপনার পরিকল্পনায় ফিরে আসুন।
এছাড়াও আমাদের নিজেদেরকে প্রশ্ন করা উচিত যে আমরা কীভাবে এবং কি কারণে অন্যদের কথা বা কাজের প্রতিক্রিয়ায় কিছু করি।

নিজেকে প্রশ্ন করুন:
আমরা কি অন্যদের প্রশংসা বা অনুমোদন পেতে চাই?
আমরা কি অন্যদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই?
আমরা কি অন্যদের দেখাতে চাই যে আমরা কতটা ভালো?
আমরা কি অন্যদের দেখাতে চাই যে আমরা কতটা শক্তিশালী বা ক্ষমতাবান?
যদি আমরা এই প্রশ্নগুলির উত্তর দিতে পারি, তাহলে আমরা বুঝতে পারব যে আমরা কেন অন্যদের কথা বা কাজের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছি। এরপর আমরা এই কারণগুলি মোকাবেলা করতে পদক্ষেপ নিতে পারি।
নিজের পরিকল্পনা অনুসারে কাজ করা এবং অন্যের কথা বা কাজের দ্বারা প্রভাবিত হওয়া এড়াতে পারলে আমরা জীবনে সাফল্য অর্জনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলতে পারি।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২৪ রাত ১২:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


