স্থায়ী শান্তির জন্য মোহামেডান ও হিন্দুদের প্রয়োজন
পরস্পরের ধর্মকে জানা- (দুই)
দুইটি ভিন্ন ধর্ম পালনকারী মানুষের শান্তিতে বসবাসের জন্য প্রধানতঃ যা প্রয়োজন তা হচ্ছে পরস্পরের ধর্মকে শ্রদ্ধা করা । আর এই শ্রদ্ধা করতে হলে সবার আগে যা প্রয়োজন তা হলো, এক ধর্মের মানুষের অন্যের ধর্মকে জানার অবারিত সুযোগ । তবে এভাবে একটি ধর্মকে জানার পরে সেই ধর্মকে তখনই শ্রদ্ধা করা যায় যদি দেখা যায়,
(০১) এই ধর্মটিতে শ্রদ্ধা করার মতন গুন রয়েছে এবং
(০২) এই ধর্মের অনুসারীদের এমন গুন আছে যাতে তাদেরকে শ্রদ্ধা করা যায় ।
খারাপ মানুষকে ভালো মানুষ করার জন্যই ধর্ম এসেছে । যদি দেখা যায় কোন ধর্ম পালন করার পর মানুষ আগের চেয়ে খারাপ হয়ে গেছে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই মনে হতে পারে যে ঐ ধর্মেই খারাপ হবার উপাদান রয়ে গেছে । এক্ষেত্রে অধিকতর নিশ্চিত হবার জন্য প্রয়োজন ঐ ধর্মের নানা দিক ভালো ভাবে পড়া এবং পর্য্যালোচনা করা । মোহামেডান ধর্মকে ভালো ভাবে জানার ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধক এর ভাষা ।
আজকের যুগে স্বাধীন-গনতান্ত্রিক দেশে, আধুনিক জ্ঞান, বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদ প্রভাবিত দেশসমূহে অনেক মানুষ কোন ধর্ম পালন ছাড়াই ছাড়াই জীবন যাপন করছে এবং তারা কোন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে না । উন্নত দেশে নতুন কোন ধর্ম গ্রহন বা ত্যাগ করাটাও তেমন কঠিন কোন কাজ নয় । অনেক দেশেই এই উদ্দেশ্যে সহজ আইন প্রনয়ন করা হয়েছে । আমেরিকার প্রেসিডেন্ট এর পূর্ব পুরুষ মোহামেডান ছিলেন । কিন্তু তার পিতা খৃষ্টান ধর্ম গ্রহন করে এবং তার পরবর্তী প্রজন্মও এই ধর্মে রয়েছে । কোন ধর্ম যদি মানুষের জীবনকে সুন্দর ও সহজ করে দিতে পারে তাহলে তা অবশ্যই গ্রহনযোগ্য। কিন্তু তার পরিবর্তে কোন ধর্ম তা যদি মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে, ধর্মের কারনে যদি মানুষকে অন্যের সামনে লজ্জায় মাথা নত করতে হয়, তাহলে এযুগের শিক্ষিত স্বাধীনচেতা মানুষ কেন তার দায় বহন করবে? একজন মানুষের পূর্ব পুরুষ একসময় একটি ধর্মের অনুসারী ছিল শুধুমাত্র এই কারনেই কি তাকে অন্ধের মতন তা অনুসরন করে অসন্মানজনক জীবন যাপন করতে হবে ? আধুনিক এবং উন্নত বিশ্বের মানুষ এখন আর তেমনটি মনে করে না ।
উন্নত বিশ্বে এখন আর বলপ্রয়োগ করে আর কাউকে ধর্মান্তরিত করা সম্ভব নয় । মানুষ যে অনেক সময় উপযুক্ত কারন থাকা স্বত্তেও সাবেক ধর্ম ছেড়ে নতুন ধর্ম গ্রহন করতে চায় না তার একটি প্রধান কারন, 'ডিবেটেবেল ইনভেষ্টমেন্ট' বা বাংলায় 'সন্দেহজনক বিনিয়োগ'। 'সন্দেহজনক বিনিয়োগ' হচ্ছে মানুষের সময়, অর্থ এবং শক্তির এমন এক খাতে বিনিয়োগ যা থেকে কোন উপকার আসবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়, অর্থাৎ উপকার আসতে পারে আবার নাও পারে । আজকের পৃথিবীতে অনেক মানুষ আবার এই 'সন্দেহজনক বিনিয়োগ' থেকেই বিপুল অর্থ উপার্জন করে থাকে । স্বাভাবিক ভাবেই বোঝা যায়, সুবিধালাভকারী মানুষ 'সন্দেহজনক বিনিয়োগ' অব্যাহত রাখতে প্রাণপণ চেষ্টা করবে ।
খৃষ্টান এবং মোহামেডান ধর্মে ধর্মীয় নানা বিধি বিধান বেশ কড়াকড়ি ভাবে মানা হয় । যেমন, খৃষ্টানদেরকে সপ্তাহে একদিন চার্চে যেতে হয় এবং প্রতি রাতে খাবার আগে প্রার্থনা করতে হয় । হিন্দুদের ধর্মের তেমন কোন বিধান মানতে হয় না । আগে প্রতিদিন গীতা পাঠ, গায়ত্রী জপ এবং সন্ধ্যা আহ্নিক তাদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। এখন এগুলি উঠে গেছে । এখন শুধুমাত্র হিন্দুর ঘরে জন্মালে এবং অন্য ধর্ম গ্রহন না করলেই হিন্দু থাকা যায় । গোমাংস খাওয়া, কোন কোন বিশেষ ধর্মের মানুষের সাথে বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হওয়া ইত্যাদিকে এক সময় "ধর্মত্যাগ" করার মতন কাজ হিসেবে দেখা হতো । এটিও এখন লুপ্ত হয়েছে । কারন শিক্ষিত হিন্দুরা বই পড়ে জেনেছে, তাদের আদি পুরুষ আর্য্যরা গরুর মাংস খেত । আর অন্য ধর্মের মানুষকে বিয়ে করা সম্বন্ধে হিন্দু ধর্ম কোন বিধান দিতেই পারে না । কারন এই ধর্ম যখন প্রবর্তিত হয় তখন ভারতে অন্য ধর্মের কোন অস্তিত্বই ছিল না । গীতায় লিখিত "স্বধর্মে মরনং শ্রেয়, পরধর্ম ভয়াবহ" দ্বারা পুরানো পন্ডিতেরা বোঝাতে চাইতো যে অন্য ধর্ম গ্রহন করা উচিত নয় । এটি ছিল তাদের ভুল ব্যাখ্যা । আসলে ঐ সময় ধর্ম দ্বারা মানুষের পেশা বা কাজকে বোঝানো হতো, এবং গীতায় এই বাক্য দ্বারা অর্জুনকে তার ধর্মযুদ্ধ ত্যাগ না করার কথা বলা হয়েছে । তবে হিন্দুরা সাধারনভাবে পুরোহিতের নিয়ম মেনে বিবাহ এবং পারলৌকিক কাজ করে থাকে ।
মোহামেডানদেরকে খুব ছোট বেলা থেকেই ধর্মীয় পুস্তক মুখস্ত করতে হয়, প্রতিদিন পাঁচ বার উপাসনা করতে হয়, বৎসরে এক মাস বিশেষ উপবাস রাখতে হয় । শিশুদেরকে এসব কাজ তখনই শুরু করতে হয় যখন জীবন, সমাজ, ধর্ম ইত্যাদি বোঝার মতন জ্ঞান বা বুদ্ধি তাদের হয় নি । বড় হয়ে তারা তখন নানা বিষয় মুক্তভাবে চিন্তা করতে পারে, তখন তারা দেখে যে ইতিমধ্যেই তারা অনেকটা অর্থ, সময় ও শক্তি ধর্মের কাজে ব্যয় বা বিনিয়োগ করে ফেলেছে । ইতিমধ্যে আধুনিক শিক্ষা ও বিজ্ঞান তাদেরকে ধর্মের বলা নানা কথা অবিশ্বাস করতে প্ররোচিত করে । তখন তাদের মনে ইতিমধ্যে ব্যয়িত অর্থ, সময় ও শক্তি “সন্দেহজনক বিনিয়োগ” কি না এ প্রশ্ন জাগে ওঠে ।
মানুষের মনের একটা স্বাভাবিক প্রবনতা এই যে কেউই নিজেকে বোকা ভাবতে চায় না । সেই সঙ্গে সে এটাও চায় না যে অন্য কেউ তাকে বোকা মনে করুক । ধরা যাক, একজন মানুষ “খুব ভালো বিনিয়োগ” মনে করে ছোটবেলা থেকাই ধর্মের জন্য বিপুল শক্তি, সময় ও অর্থ ব্যয় করে এসেছে । বড় হয়ে উচ্চতর শিক্ষা ও বিজ্ঞানের জ্ঞান লাভ করার পর কিন্তু তার মনে হতে পারে, "আমার এই বিনিয়োগ একেবারে বিফলে যাবে না তো?" এখন সময় সে যদি প্রকাশ্যে বলে, "আমি ভুল করেছি। এত অর্থ, সময় ও শ্রম সন্দেহজনক খাতে বিনিয়োগ করা আমার ঠিক হয় নি । আমার মৃত্যুর পর যদি দেখি, আমি নতুন শরীর নিয়ে আবার আবির্ভূত হই নাই, যদি দেখি আমার জীবনের ভালো মন্দ উপাসনার সব হিসাব কেউ লিখে রাখে নি, যদি দেখি সেই ভালো কাজের ভিত্তিতে আমাকে ভালো জায়গায় রাখার ব্যবস্থা করে রাখা হয় নি, তাহলে তো আমার সব বিনিয়োগই তো জলে গেল । আগে তো মৃত্যুর পরের জীবন সম্বন্ধে একরকম কথা শুনেছিলাম । কিন্তু এখন তো দেখছি বিজ্ঞান অন্য কথা বলে । মৃত্যুর পর আর কোন জীবন আছে বিজ্ঞান তো এটাই স্বীকার করে না । তাহলে কি সবই ভূল করলাম?" এমন কথা মনে এলেও অনেকেই কিন্তু তা প্রকাশ্যে তা বলতে চাইবে না । কারন, সে জানে এটা বললে সবাই তাকে বলবে "তুমি এত বোকা?"
উপরে যাকে সন্দেহজনক বিনিয়োগ বলা হয়েছে তা বিশ্লেষন করলে তাহলে আমরা দেখব, খৃস্টানদের ক্ষেত্রে এই বিনিয়োগ কম । আর হিন্দুদের ক্ষেত্রে এটা প্রায় নেই । সাধারণভাবে দেখা যায় যে, যে ধর্মে এই বিনিয়োগ যত বেশী সেই ধর্মের লোকের ধর্মবিশ্বাস তত বেশী প্রবল হয়ে থাকে । হিন্দু এবং খৃষ্টান ধর্মের শিশুরা ধর্মশিক্ষা পায় প্রধানতঃ সংস্কৃত, বাংলা বা ইংরেজীতে লেখা বই থেকে । এগুলি অনেকের মাতৃভাষা হওয়ায় ছোট বেলায় এগুলি পড়তে গিয়ে তারা এগুলি ভালোভাবে বুঝতে চেষ্টা করে এবং বুঝতে না পারলেই নানা প্রশ্ন করে । অপর পক্ষে মোহামেডানদের ধর্মগ্রন্থ আরবীতে লেখা, যা অনেকেরই মাতৃভাষা নয় । তাই ধর্মগ্রন্থে যা লেখা তার অর্থ শিশুরা জানতে পারে মূলতঃ তাদের আরবী ভাষার শিক্ষকের কাছ থেকে । তার মানে তারা এর অর্থ জানবে যদি শিক্ষক তার অর্থ বুঝিয়ে বলেন । আবার তারা সেটাই জানবে যা তাদের শিক্ষক তাদের বলবেন । তাদের পক্ষে শিক্ষককে প্রশ্ন করে সব জেনে নেবার সুযোগ তেমন থাকে না ।
হিন্দু ধর্ম ঃ
এখন আমরা হিন্দু ধর্মের কিছু বিষয় অত্যন্ত সংক্ষেপে আলোচনা করবো । হিন্দু ধর্ম যে সব প্রধান প্রধান উপাদানের সমন্বয়ে বর্তমান রূপ পেয়েছে সেগুলি হলো -
(ক) আর্য্যদের অবদান - (১) বেদ, (২) জাতিভেদ প্রথা, (৩) ‘যজ্ঞ’ নামের বিশেষ উপাসনা প্রথা এবং (৪) দক্ষিন ভারতে (প্রধানতঃ শৃলংকায়) কৃষ্ণবর্ণ দ্রাবিড়দের পরাজিত করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধের চিন্তা এবং এজন্য যুব সমাজকে সংঘটিত করার উদ্দেশ্যে রচিত এপিক কাহিনী 'রামায়ন', যা থেকে এসেছে হিন্দুদের অন্যতম প্রধান দেবতা 'রাম'।
(খ) দ্রাবিড়দের অবদান - (১) প্রাচীন উপাস্য শিবলিঙ্গ থেকে দেবতা শিব, যা পরে অন্যতম প্রধান দেবতা হরি বা 'হরে'-তে পরিনত হয়, (২) রামায়নে দ্রাবিড়দের কল্পিত পরাজয়ের কাহিনীর প্রত্যুত্তরে তৈরী করা ভারতের বিভিন্ন প্রাচীন রাজাদের কাহিনী নিয়ে রচিত এপিক "মহাভারত", যা থেকে এসেছে অর্জুনের সারথি ও প্রধান দেবতা কৃষ্ণ ।
(গ) মথুরায় স্থাপিত গ্রীক ভাস্করদের মূর্তি তৈরীর কারখানা ও দেশী 'কবয়'দের অবদান - গ্রীক ভাস্করদের দেবতার মূর্তি তৈরী এবং এই মূর্তির উপাসনা প্রবর্তন করার জন্য দেশী 'কবয়'দের কৃষ্ণের এর জন্ম, রাধাকৃষ্ণের প্রেমকাহিনী ইত্যাদির প্রচার।
(ঘ) বুদ্ধদেবের অবদান – তাঁর কিছু চিন্তাধারা ও শিক্ষা ।
(ঙ) শঙ্কারাচারযের অবদান - ভাগবতগীতা ও তার বিশ্লেষন ।
(চ) চৈতন্যদেবের অবদান – মোহামেডান আমলে প্রতিকূল অবস্থায় হিন্দু ধর্মকে যুগোপযোগী করার জন্য ‘মন্দিরে যজ্ঞের মাধ্যমে উপাসনা’র পরিবর্তে দেবতার ক্ষুদ্র সংস্করণ ‘গৃহ দেবতা এবং গৃহে সামান্য উপাচার এর মাধ্যমে উপাসনা’ প্রবর্তন এবং যজ্ঞের সম্পূরক হিসেবে তিনটি প্রধান দেবতার নাম দিয়ে সংকলিত গানের প্রবর্তন ।
স্থানাভাবে এখানে এগুলির আলোচনার সুযোগ নেই । অনেক সংস্কারের মধ্য দিয়ে এগুলি হিন্দু ধর্মকে যা দিয়ে গেছে এক কথায় সেগুলি হলো -
(১) বহু দেবতায় বিশ্বাস ও তাদের উপাসনা ।
(২) তিনটি প্রধান দেবতা - কৃষ্ণ, রাম এবং হরে ।
(৩) তিনটি প্রধান দেবতার নাম নানা ভাবে সংযোজিত করে এই ধর্মের সর্বাধিক প্রচলিত ধর্মীয় সঙ্গীত ।
(৪) মৃত্যুর পর ভালো কাজ ও দেবতার উপাসনার জন্য পুরস্কার (অর্থাৎ স্বর্গ লাভ) এবং খারাপ কাজ ও উপাসনা না করার জন্য শাস্তি ( অর্থাৎ নরক যন্ত্রনা) এই বিশ্বাস।
(৪) ভগবানের মূর্তি, মন্দির, খাবার, পোষাক ইত্যাদি এবং ভগবানের সন্তুষ্টির জন্য সঙ্গীত, নৃত্য ইতাদির মাধ্যমে এই সব বিষয়ে পারদর্শীতা অর্জন ইত্যাদি ।
একসময় হিন্দু ধর্মে গুরুবাদ প্রবল ছিল । তখন "গুরুর সন্তুষ্টিতে স্বর্গ এবং অসন্তুষ্টিতে নরক” এমন একটা বিশ্বাস প্রচলিত ছিল । বর্তমানে এই বিশ্বাস বিলুপ্ত হয়েছে । এর বাইরে কীর্তন ধরনের গানে টপ্পা নামক আদি রসাত্মক গান এবং বৈষ্ণব সেবা আদিরস ভিত্তিক প্রথা চালু হয়েছিল । শিক্ষিত হিন্দুদের প্রভাবে এগুলি পরিত্যাক্ত হয়েচে । তবে নতুন ব্যাধি হিসেবে অনেক জায়গায় “ব্যক্তি-ভগবান” এর সৃষ্টি হয়েছে যে গুলির অনেক খারাপ দিক আছে ।
যাই হোক, উপরের উপাদানগুলি দিয়ে যে হিন্দু ধর্ম তৈরী হয়েছে তা জানার সবচেয়ে ভালো পথ হচ্ছে এই সংক্রান্ত বইগুলি পড়ে ফেলা । বর্তমানে হিন্দুরা ধর্ম পালনের জন্য যা যা করে থাকে তা হলো-
(ক) বিভিন্ন মন্দিরে যে দেবতার উপাসনা হয় তাতে অংশ গ্রহন ।
(খ) ধর্ম পুস্তক বা পুরোহিতের নির্দেশিত পন্থায় জন্ম, মৃত্যু, বিবাহের মতন অনুষ্ঠানগুলি পালন । তবে সব পুরোহিতকে কেবলমাত্র পুরোহিত দর্পন নামক গ্রন্থের বিধান অনুযায়ী কাজ করতে হয় ।
দীর্ঘদিন হিন্দু সমাজের প্রধান সমস্যা ছিল, সামাজিক এবং ধর্মীয় বিষয়ে পুরোহিত বা পন্ডিতদের প্রাধান্য । এরা মানুষকে ধর্ম, সমাজ ও পরিবার সম্বন্ধে নানা বিধান দিতো । এখন আর সেই অবস্থা আর নেই । শিক্ষিত হিন্দু এখন বই পড়ে ধর্মের সব কথা জানে এবং বোঝে । সমাজে তাই ধর্মীয় পন্ডিতদের সেই প্রভাব আর নেই । শিক্ষিত পুরোহিতদেরকে এখন বই দেখে সব উপাসনা করতে হয় । এমনকি অনেক ক্ষেত্রে পুরোহিতের অবর্তমানে গৃহকর্তা নিজেই বই পড়ে এসব কাজ করতে পারে । হিন্দুদের এখন কোন বিশেষ দিনের বিশেষ বিশেষ সময় ধর্মীয় কাজে ব্যয় করতে হয় না । উন্নত দেশে হিন্দুরা যে ক্রমাগত বেশী বেশী গ্রহনযোগ্যতা পাচ্ছে এর কারন তাদের ধর্মের এই উদারতা ।
এবারে মোহামেডানধর্ম জানার জন্য কি করা দরকার তা দেখা যাক । ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষকে এই ধর্ম সম্বন্ধে ভালো ভাবে জানতে হলে আরবী ভাষা জানতে হবে । তা জানা সম্ভব না হলে তারা এই ধর্মপুস্তকের ইংরেজী বা বাংলা অনুবাদ পড়ে নিতে পারে । কিন্তু অনেকেই এই অনুবাদ যথার্থ বলে মনে করে না । এক্ষেত্রে তাই একমাত্র পথ থাকে, আরবী জানা লোকদের কাছ থেকে ধর্মের কথা জেনে নেয়া । কিন্তু এটি কোন গ্রহনযোগ্য পন্থা নয় । আমরা ইতিমধ্যেই দেখেছি, বিভিন্ন টেলিভিশনে এই ধর্মের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ একই বিষয়ের বিভিন্ন রকম অর্থ করে থাকেন । তাই এক্ষেত্রে কে কতটা সত্য বলছেন অন্য ধর্মের মানুষের তা বোঝারই উপায় থাকে না ।
-বিজন বিহারী শর্মা
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে আগস্ট, ২০১৫ ভোর ৬:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



