স্থায়ী শান্তির জন্য মোহামেডান ও হিন্দুদের প্রয়োজন
পরস্পরের ধর্মকে জানা- (তিন)
হিন্দু ধর্ম সম্বন্ধে সংক্ষেপে কিছু আলোচনার পর প্রসঙ্গক্রমে অন্য ধর্মগুলি সম্বন্ধেও কিছু বলতে হয় । এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য হলো "সমর্পন" বা আত্মসমর্পন মূলক ধর্মগুলি । ইহুদীদের, খৃষ্টানদের এবং মোহামেডানদের ধর্ম এই তিনটি ধর্মে পরম পিতা পৃথিবীতে যে ভাবে ধর্ম প্রচার করেছেন বলে বলা হয়েছে, অত্যন্ত সংক্ষেপে তা হলো ঃ
(ক) ইহুদীদের ধর্মে পরম পিতা নিজে একজন দ্যুতের (মোজেস) মাধ্যমে ধর্মের কথা পৃথিবীতে প্রচার করেছেন ।
(খ) খৃষ্টানদের ধর্মে পরম পিতা তার পুত্র যিসাস (সান অব ক্রাইস্ট) এর মাধ্যমে ধর্মের কথা প্রচার করেছেন এবং
(গ) মোহামেডানদের ধর্মে পরম পিতা একজন স্বর্গীয় দ্যুতের মাধ্যমে তার বার্তা মহানবীর কাছে প্রেরণ করেন এবং এই মহানবী তা আরবের জনসাধারণের কাছে প্রকাশ করেন ।
এই তিনটি ধর্মেই নীচের দুটি কাহিনী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রথমটি হলো - ‘মানুষের আদি পিতা আদম। ইভ বা হাওয়া তার পত্নী এবং শরীর থেকে তৈরী । নিষিদ্ধ গাছের ফল খাওয়ার জন্য (মতান্তরে নিষিদ্ধ কাজ করার জন্য) এরা স্বর্গ থেকে বহিস্কৃত হন । অনেক দুঃখ ভোগের পরে পৃথিবীতে তারা মিলিত হন এবং মানব জাতির সূচনা করেন ।
দ্বিতীয় গল্পটি হলো – “পৃথিবীর মানুষ পাপ কাজ করতে থাকে । তখন পরম পিতা পাপীদের নিশ্চিহ্ন করার প্রয়োজন বোধ করেন । তিনি নোয়া বা নুহ নবীকে একটি বড় নৌকা বানিয়ে তাতে পৃথিবীর সব প্রানী ও গাছ পালার একটি করে প্রজাতি তুলে নিতে বলেন । এর পর প্রবল বর্ষনে পৃথিবী ডুবে পাপীদের মৃত্যু হয় এবং নুহের নৌকায় আশ্রয় পাওয়া জীবন থেকে আবার নতুন পৃথিবীর যাত্রা শুরু হয়।“
হিন্দুদের ধর্মের প্রথম উৎস ছিল মধ্যপ্রাচ্যে প্রচলিত “জরাথুস্ত্রবাদ” ধর্ম, যা আর্য্যরা এদেশে নিয়ে আসে । উপরের গল্প দুটি হিন্দু ধর্মে অন্তর্ভূক্ত করা হয় নি। খৃটান ধর্মে ট্রিনিটি-এর দ্বারা গড, সান এবং হলি ঘোষ্টকে ধর্মের মূল বলে দাবী করা হয় । এই অসত্য তথ্য কিভাবে অতীতকালে তৈরী হয়েছিল তা জানা যায় না । খৃটান ধর্মে গডের পুত্র যীশুই মূল প্রচারক । এখানে হলি ঘোষ্ট এর কোন স্থান বা ভূমিকা নেই । হলি ঘোষ্ট এর কোন ভূমিকা যদি থেকে থাকে তবে তা ছিল গড কি ভাবে তার পুত্রকে পৃথিবীতে আনবেন সেই ব্যাপারে । সেই তূলনায় বরং মোহামেডান ধর্মে স্বর্গীয় দ্যুত জিব্রাইলের বিরাট ভূমিকা রয়েছে ।
মোজেস অত্যাচারী রাজাদের হাত থেকে একটি জাতিকে বাঁচানোর দায়ীত্ব পেয়েছিলেন । তাদের ইপ্সিত দেশ ইসরাইলে নিয়ে যাওয়ার সময় পরম পিতা একসময় তার সাথে দেখা করেন এবং মানুষের কর্তব্য সম্বন্ধে তার দশটি শর্তের চুক্তিপত্র হস্তান্তর করেন । গড এই চুক্তিপত্র একটি বাক্স বা আর্ক-এ বহন করে ইপ্সিত দেশে নিয়ে যেতে এবং তা একটি মন্দিরে স্থাপন করে উপাসনা করার কথা বলেন। এই সব কথা যে ধর্মগ্রন্থে বলা হয়েছে তার আদি নাম “তোরা” । পরে কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে এটি "ওল্ড টেষ্টামেন্ট" নামে পরিচিত হয় ।
অপরদিকে যীশুখৃষ্ট গ্যালিলি উপসাগরের কোন স্থানে মাছ পাওয়া যাবে জেলেদের তা জানিয়ে প্রথমে তাদের মধ্যে প্রসিদ্ধি লাভ করেন । পরে রোগগ্রস্থ লোকজনকে নানা উপায়ে রোগমুক্ত, বিশেষতঃ কুষ্ঠ রোগ থেকে মুক্ত করার মাধ্যমে জনপ্রিয়তা লাভ করেন । তিনি জল দিয়ে মানুষকে পবিত্র করেন । অতিরিক্ত জনপ্রিয়তার কারণে তিনি রাজার রোষানলে পড়েন এবং ক্রুশ বিদ্ধ হন । তার এই কাহিনী যারা দেখেছে তারা তাদের নিজেদের ভাষায় তা বর্ননা করেছে এবং এই নিয়েই লেখা হয়েছে তাদের ধর্ম গ্রম্থ "নিউ টেষ্টামেন্ট" বা বাইবেল ।
মোহামেডান ধর্মের প্রচারক মহানবী জানান যে পরম পিতা একজন স্বর্গীয় দ্যুতের মাধ্যমে তার কাছে তার বক্তব্য জানিয়েছেন । মহানবী তা জনসমক্ষে প্রকাশ করেন । তার প্রচারের মধ্যে উপরে বর্ণিত কাহিনী দুটি আছে । এছাড়াও উপরের ধর্মগুলিকে পরম পিতার প্রচারিত ধর্ম বলে উল্লেখ করা হয়েছে । যারা এই তিনটি ধর্মের কথা মেনে পরম পিতার কাছে “আত্ম সমর্পন করেছেন” তাদেরকে “আত্মসমর্পনকারী” (আরবী শব্দ “ইসলাম”) বলে উল্লেখ করা হয়েছে । মহানবী যখন ধর্ম প্রচার করেন তখন তার শিষ্যদের অনেকে তা লিখে রাখে। মহানবীর মৃত্যুর উনিশ বছর পরে এই লেখাগুলি একত্র করে মোহামেডানদের ধর্মগ্রন্থ রচিত হয় । এরপর এই গ্রন্থের যাতে কোনরূপ পরিবর্তন না হয় সে জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হয় । তূলনায় বলা যায়, ইহুদীদের ওল্ড টেস্টামেন্ট, খৃষ্টানদের বাইবেল এবং হিন্দুদের গীতা ও অন্যান্য ধর্ম গ্রন্থ বিভিন্ন যুগে অসংখ্যবার পরিবর্তিত হয়েছে ।
সাধারনভাবে হিন্দু এবং খৃষ্ট ধর্মের মানুষ তাদের ধর্ম গ্রম্থকে সন্মান দেখালেও এগুলিকে তারা মূলতঃ অন্য বইএর মতনই মনে করে । তাই যে কোন ধর্মের মানুষ এইগুলি পড়ে তাদের ধর্ম সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করতে পারে, এতে কোন বাধা বা নিষেধ নেই । অপরপক্ষে মোহামেডানদের ধর্মগ্রন্থ ব্যবহারে বিশেষ বিধি নিশেষ আছে । মোহামেডানদের কেউ অপবিত্র অবস্থায় এটি স্পর্শ করতে পারে না । এই ধর্মগ্রন্থ ঘরে বা টেবিলে রাখতে হলে অন্য পুস্তকের উপরে এবং আরো নানা নিয়ম মেনে তবেই রাখতে হয় । এত সব নিয়ম শুধুমাত্র মোহামেডানদেরই জানা বা মেনে চলা সম্ভব । এসব নিয়ম কানুন থাকার কারনে অ-মোহামেডানদের পক্ষে এই বই পড়ে জ্ঞান লাভের চেষ্টা হতে পারে জীবনের উপর বিরাট ঝুকি নেয়া । প্রধানতঃ এই কারনে মোহামেডানদের ধর্ম অন্য ধর্মের লোকের কাছে এখন পর্য্যন্ত একটা রহস্যই রয়ে গেছে । আর যে জিনিস রহস্যময় তা নিয়ে বিতর্ক, ভূল বোঝাবুঝি তো হবেই ।
এমন অবস্থায় অ-মোহামেডান রা যদি মোহামেডান ধর্ম সম্বন্ধে জানতে চায় তাহলে তাদের সামনে একমাত্র যে পথ খোলা তা হলো এই গ্রন্থের অনুবাদ পাঠ করা । এই গ্রন্থ অন্য ভাষায় অনুদিত হবার পরে যা পাওয়া যায় তা যে কোন লাইব্রেরীতে সাধারণ বইয়ের মর্য্যাদায় রাখা হয় এবং বাজার থেকে যে কেউ তা কিনতে পারে ।
এখন ধর্মীয় গ্রন্থের অনুবাদ সম্বন্ধে কিছু বলা যাক । হিন্দু ধর্মের মূল গ্রন্থগুলি ছিল সংস্কৃতে লেখা, আর এই বই গুলি মূলতঃ ব্যবহার করতো ধর্মকে যারা পেশা হিসেবে নিয়েছিল সেই পুরোহিতেরা । এই সুযোগে তারা এই ভাষার লিখিত বা মৌখিক অনুবাদ নিজেদের ইচ্ছা মতন তৈরী করে নানা বিষয়ে বিধান দিত এবং এভাবে সমাজকে পরোক্ষ ভাবে নিয়ন্ত্রন করতো । যাই হোক, হিন্দুরা শিক্ষিত হয়ে নিজেরাই এগুলির অনুবাদ করে । তাদের হস্তক্ষেপে পুরোহিতদের তৈরী করা অসত্য এবং উদ্দেশ্যমূলক গ্রন্থগুলি অচল হয়ে পড়ে । বর্তমানে হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থগুলিতে প্রধান তিনটি ধারা দেখা যায় । যেমন,
(০১) এপিক কাহিনী – প্রধানতঃ ঋকবেদ, রামায়ন এবং মহাভারত এই ধারার অন্তর্ভূক্ত । ঋকবেদ বাইরে থেকে এসেছে । এতে এমন কিছু কথা আছে যা এই যুগে জনসমক্ষে প্রকাশ্যে বলা হলে অনেকেই বিব্রত বোধ করবেন । আবার রামায়ন এবং মহাভারত প্রাচীন যুগে যাত্রা পালার মাধ্যমে অভিনয় করা হতো । এর ফলে বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন মানসিকতার মানুষকে খুশী করার জন্য এতে নানা বিনোদনমূলক উপাদান যোগ করা হয় । তাই এগুলির অসংশোধিত সংস্করণ জনসমক্ষে পড়া সমস্যাজনক । যাই হোক, মূল সত্যটি জানার পর এইগুলি নিয়ে হিন্দুদের সমাজে কোন সমস্যা হয় না । কারন এগুলি এখন আর হিন্দু ধর্মের মূল ধর্মগ্রন্থ বলে মনে করা হয় না । বরং মনে করা হয় যে এগুলিতে হিন্দু ধর্মের উপাদান লুকিয়ে আছে ।
(২) ভাগবত গীতা – শংকরাচার্য্য প্রনীত ভাগবত গীতা হিন্দু ধর্মের মূলগ্রন্থ । যথোপযুক্ত কারনে এটা শুধুমাত্র হিন্দু সমাজে নয়, এর বাইরেও বেশ জনপ্রিয় । ভারতের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এ পি জে আবুল কালাম প্রতিদিন গীতা পাঠ করতেন । মূল গীতার কিছু কিছু ভূল বিশ্লেষন পরবর্তী কালে সংশোধন করা হয়েছে ।
(০৩) পুরোহিত দর্পন – পূজা পার্বন হিন্দু ধর্মের এক প্রধান চালিকা শক্তি । প্রধানতঃ পুরোহিতেরাই পূজা পার্বন করে থাকলেও তাদের অবর্তমানে এখন গৃহকর্তা, গৃহকর্তৃ বা তাদের প্রতিনিধিরাই পুরোহিত দর্পনের নিয়ম মেনে এসব করতে পারে । পুরোহিত দর্পন-গ্রন্থে সকল প্রধান পূজার বিধান ও নিয়মাবলী সরলভাবে বর্ননা করা হয়েছে । এর ফলে পুরোহিতদের এখন আর ইচ্ছেমত কিছু বানিয়ে বলার বা বিকৃত করার সুযোগ নাই ।
খৃষ্টানদের বাইবেল ইংরেজীতে লেখার পর যে কেউ এটি পড়ে এর অর্থ বুঝতে পারে । বাইবেলে যে সব কাহিনী লেখা হয়েছে বা যেসব উপদেশ দেয়া হয়েছে তা শিশু থেকে যে কোন বয়সের মানুষ প্রকাশ্যে পড়তে পারে, এতে কোন সমস্যা হয় না । তবে ওল্ড টেস্টামেন্ট বা হিন্দুদের বেদ সম্বন্ধে একথা বলা চলে না । এই সব গ্রন্থে এমন সব কাহিনী বা কথা আছে যা অনেককেই বিব্রত করতে পারে ।
এক ধর্মের একজন মানুষ যখন অন্য একট ধর্ম সম্বন্ধে জানতে চায় তখন তার আগ্রহ থাকে সংক্ষেপে সঠিক তথ্যটি জেনে নেয়ার । মোহামেডান ধর্মের মূল গ্রন্থ আরবী ভাষায় লেখা এবং এই গ্রন্থ ব্যবহারের বিশেষ নিয়ম কানুন থাকায় কোন অ-মোহামেডানের পক্ষে এটি পড়তে না যাওয়াই নিরাপদ । আজকাল মুদ্রিত ছাড়াও ইন্টারনেটে প্রায় যে কোন বই পাওয়া যায় । মোহামেডান ধর্মের মূল গ্রন্থ পড়ায় অসুবিধা আছে বলে বিভিন্ন ভাষায় এর অসংখ্য অনুবাদ করা হয়েছে এবং তা ইন্টারনেটে সহজলভ্য করা হয়েছে । এখন প্রশ্ন হলো, কোন অনুবাদটি সঠিক । এর উত্তর কেউ দিতে পারবে না । টেলিভিশনে এই ধর্মের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ নিজেরাই বিভিন্ন বিষয়ে একমত হতে পারেন না বা একই অর্থ বলেন না, এমন উদাহরন আমরা প্রতিদিনই দেখতে পাই । যে কোন ধর্মের বইয়ের অনুবাদের ক্ষেত্রে আমরা প্রধানতঃ তিনটি ধারা দেখতে পাই । যেমন-
(১) শিক্ষিত নিরপেক্ষ (অর্থাৎ ধর্ম নিয়ে যার দূর্বলতা নেই) ব্যক্তির অনুবাদ, যিনি এই বইএর তথ্য ও শিক্ষাকে জানতে এবং জানাতে চান ।
(২) ধর্মের অনুসারীদের অনুবাদ – এদের অনুবাদ নিরপেক্ষ হবার কথা নয় । কারন এরা বিশ্বাসের সাথে মিল রেখে এটিকে দেখতে এবং অন্যদেরকেও সেভাবে দেখাতে চান । তাই তাদের অনুবাদও তেমন হবে ।
(৩) ধর্মবিদ্বেষীদের দ্বারা অনুবাদ – স্বাভাবিকভাবেই এসব অনুবাদকেরা ধর্মটির খুত দেখাবার জন্য ব্যস্ত থাকবেন । তাই তাদের অনুবাদও গ্রহনযোগ্য নয়।
এই সব বিবেচনা থেকে আমাদের মনে হয়, পৃথিবীতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এক ধর্মের মানুষের উচিত অন্য ধর্মের মানুষের ধর্মকে ভালভাবে জানা ও বুঝা । এক সময় প্রধানতঃ অশিক্ষিত মানুষ না জেনে না বুঝে অন্য ধর্ম গ্রহন করতো । এ যুগে তাদের অধিকার আছে তাদের বিবেক অনুযায়ী যে কোন ধর্ম ত্যাগ বা গ্রহন করা, বা কোন ধর্ম পালন না করা । কিন্তু বিভিন্ন ধর্ম সম্বন্ধে না জানলে তারা এই বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না । এই প্রয়োজনে সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সপ্তাহের একটি বিশেষ দিন অন্য ধর্মের গ্রন্থ পাঠের নিয়ম করতে পারে । ভারতীয় উপমহাদেশের প্রধান তিনটি ধর্ম মোহামেডান, খৃষ্টান এবং হিন্দু ধর্মকে এই আলোচনার আওতায় আনা যায় । যেসব ক্ষেত্রে সাধারন মানুষের বোধগম্য ভাষায় এই গ্রন্থগুলি পাঠ করা হবে সেক্ষেত্রে পঠিত পাঠের কোন বিশ্লেষনের প্রয়োজন নেই । শিক্ষিত মানুষেরা বিশ্লেষন ছাড়াই সব বুঝতে পারবে । আর অশিক্ষিত মানুষেরা প্রয়োজনে শিক্ষিত মানুষদের কাছ থেকে অর্থ বুঝে নিতে পারবে । বাংলা এবং ইংরেজী ভাষায় প্রচুর বাইবেল পাওয়া যায়, যেগুলি নিয়ে কোন মতদ্বৈততা নেই । হিন্দু ধর্মের ধর্ম গ্রন্থ নিয়েও কোন সমস্যা নেই । উপরে যে কারণ উল্লেখ করা হয়েছে তার ভিত্তিতে বলা যায়, কোন মন্দির বা গির্জায় মোহামেডানদের মূল ধর্মগ্রন্থ না নেয়াই নিরাপদ । তার পরিবর্তে মোহাম্মাদ মারমাডুকে পিকথল (যিনি মোহামেডান ধর্ম গ্রহন করেছিলেন) মোহামেডানদের মূল ধর্মগ্রন্থের যে ইংরেজী অনুবাদ করেছেন তা পাঠ করা যায় । এখানে উল্লেখ করা যায় যে এই অনুবাদ অনেক আগে করা হলেও এ পর্য্যন্ত এই অনুবাদের কোন বিরূপ সমালোচনা হয় নাই । বর্তমান অবস্থায় তাই মোহামেডানদের ধর্ম সম্বন্ধে জানার জন্য মারমাডুকে পিকথল এর অনুদিত গ্রন্থ পড়াই সর্বোত্তম পন্থা ।
-বিজন বিহারী শর্মা
(শেষ)
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে আগস্ট, ২০১৫ সকাল ৭:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



