১৯৭০-এর বাঙালি আক্ষরিক অর্থেই **সিংহদুয়ারের বাইরে পৃথিবীর কোনো খবর রাখত না**। পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্ভবত বিষয়টা আগে থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তিনি লিখলেন—
**“খিড়কি থেকে সিংহদুয়ার, এই তোমাদের পৃথিবী…”**
আর সেই কথাটা হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠ দিয়ে বলিয়ে দিয়ে তিনি কার্যত বাঙালির সামনে ভবিষ্যতের একটা **সাংস্কৃতিক গুগল ম্যাপ** খুলে দিয়েছিলেন।
অর্থাৎ—পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু গীতিকার ছিলেন না, লোকটা সম্ভবত **পার্ট-টাইম নবীও ছিলেন।**
এরও বহু আগে জীবনানন্দ দাশ বুঝে গিয়েছিলেন—একদিন হাজার হাজার যুবক রাত জেগে, বুক পোড়া নিয়ে, অকারণে আকাশের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলবে। তাই তিনি লিখলেন **“আকাশলীনা”**।
মানুষ তখন বুঝতে পারেনি।
আজকের প্রেমে ব্যর্থ যুবকরা বুঝছে।
অর্থাৎ জীবনানন্দ দাশও সময়কে অতিক্রম করে গিয়েছিলেন।
**আরেকজন নবী।**
---
তারপর এলেন কাজী নজরুল ইসলাম।
তিনি লিখলেন—
**“জগৎটাকে দেখবো আমি আপনার হাতের মুঠোয় পুরে…”**
এখন একটু চিন্তা করেন!
স্মার্টফোন?
ইন্টারনেট?
ইউটিউব?
ফেসবুক?
গুগল ম্যাপ?
টিকটক দেখে রাত ৩টায় জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে চিন্তা করা?
সবই তো এখন **হাতের মুঠোয়!**
নজরুল সম্ভবত শান্তভাবে বসে বসে ভবিষ্যতের স্মার্টফোনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। শুধু একটা ভুল করেছিলেন—**স্ক্রলিংয়ের কথা বলেননি।**
আর এই “নবী হওয়াটাই” আজ আমাদের জন্য কাল হয়ে গেছে।
কারণ তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী যদি সত্যি না হতো, তাহলে বাঙালি আজ সারাদিন **স্ক্রিনে ডুবে** থাকত না।
হয়তো বাইরে বের হতো।
হয়তো বই পড়ত।
হয়তো কারও সঙ্গে কথা বলত।
হয়তো… থাক, এত কল্পনা ভালো না।
---
ভাবেন তো—পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, জীবনানন্দ দাশ আর নজরুল ইসলাম যদি আজ জন্মাতেন?
আমাদের আর বাধ্য হয়ে ইউটিউবে গিয়ে
**Dua Lipa, Katy Perry, Rihanna আর Taylor Swift** খুঁজতে হতো না!
আমরা হয়তো লিখতাম—
> *“আজ সন্ধ্যায় নতুন একটা গান শুনলাম।
> বুঝলাম না কিছুই।
> তাই ধরে নিলাম—লোকটা নিশ্চিত নবী।”*
---
আমার দোয়া আর প্রত্যাশা যদি কখনো কাজে লাগে, তাহলে আমি নিশ্চয়ই নতুন কোনো নবীর আগমনের জন্য আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করতাম।
এমন একজন নবী—
যিনি **দুই লাইনের কবিতায় পুরো সমাজ ও সংস্কৃতির উপন্যাস লিখে ফেলবেন**, পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো।
যিনি **নজরুলের মতো বিশ্বসংসারকে নখের ডগায় এনে গল্প শোনাবেন**।
যিনি **জীবনানন্দের মতো এমন একটা লাইন লিখবেন, যেটা বুঝতে বাঙালির অন্তত ৫০ বছর সময় লাগবে।**
তখন হয়তো এই সর্বজনীন বাঁশবাহী, স্ক্রলিং-নির্ভর বাঙালির যুগ শেষ হবে।
আর আবির্ভূত হবেন—
**কবিগুরু বামাচরণ বাবু।**
তিনি এসে প্রথমেই বলবেন—
**“খিড়কি থেকে সিংহদুয়ার—এখন আর কেউ যায় না ভাই।
সবাই সোজা স্ক্রল করতে করতে মহাবিশ্বে চলে গেছে!”**
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


