somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ত' তে তুমি 'প' তে প্রত্যুশা

২২ শে এপ্রিল, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

'
- তুমি কি আসতেছ ?
- হুম
- কতক্ষণ লাগবে আর ?
- এখনও দুই ঘণ্টা
- আমি রোদে পুড়ে যাচ্ছি
- ছায়ায় বসলেই পারো
- তুমি যেখানে থাকতে বলছ সেখানে কোন ছায়া নেই
- আমি রাখলাম
- একটু তাড়াতাড়ি আসো না প্লিজ
- হুম
- আর শাড়ি পরো কিন্তু
- তাহলে চার ঘণ্টা লাগবে
- এমন করতেছ ক্যান ?
- তোমার গলার ভলিউম হঠাৎ বেড়ে গেল ক্যান ? আসব না আমি
- আচ্ছা, সরি সরি। তুমি আসো আস্তে আস্তে
মিহান পার্কের এক কোণায় বসে আছে। প্রচণ্ড রোদ। তবুও সে সরে অন্য কোথাও বসছে না। কারণ নিমা বলেছে তাকে এখানে না পেলে সে সাথেই সাথেই হাঁটা ধরবে। নিমার সাথে আজ তার ব্রেক আপ। ডিসিশন টা নিমারই। কি থেকে কি হয়ে গেল মিহান ভাবতেই পারছে না। কদিন আগেও মিহানের দিনগুলো এমন ছিল না। সেদিনও এমন এক মিষ্টি সকালে নিমা ফোন করেছিল,
- কই তুমি ?
- হ্যা
- হ্যা মানে ! তুমি ঘুমাইতেছ ?
- ও তুমি, হুম বল
- আমি এখন রিকশায়
- এতো সকালে কই যাও ?
- কই যাই মানে ? কালকে রাতে তো মহান মহান বাণী ছাড়লা ! আমার সাথে দেখা না হলে তোমার নাকি হৃদয়বিট বাড়ে, প্রেসার বেড়ে যায়। আর এখন বলতেছ আমি কই যাই ?
- ওহহো হ্যা দাঁড়াও পাঁচ মিনিট। আমি তো মজা করতেছিলাম। আমি তো আসলে ঘুম থেকে উঠছি বুঝছ তারপর হইল কি...
টুট... টুট... টুট...
সকাল সকাল মিথ্যায় কাজ হল না সেদিন। ওয়াশরুমে যেতে যেতে মিহান ভাবছিল আজ না জানি কপালে কি আছে। পেস্ট নিতে গিয়ে ওয়াশরুমের দরজায় লেগে যায়। আঙ্গুল দিয়ে সেখান থেকে উঠিয়ে ব্রাশে লাগিয়ে কোনোমতে ফ্রেশ হয়ে বের হয় সে। যেদিনই নিমার সাথে তার ডেট থাকে বেছে বেছে ওইদিনই তার দেরি হয়। না চাইলেও হয়ে যায়। ওইদিনই তার প্রচুর ঘুম পায়। অ্যালার্ম তো দূরে থাক সকালবেলা মোবাইল খুঁজে পাওয়া যায় তার পায়ের কাছে। তড়িঘড়ি করে রিকশা নেয় মিহান।
আবারও ফোন,
- কই ?
- এইতো রিকশায়
- রিকশায় তো, আশেপাশের আওয়াজ পাই না কেন ?
- আরে আমি জ্যামে
- ও আচ্ছা আচ্ছা। আমার তো বোঝা উচিত ছিল যে তুমি জ্যামে তাই না ? সরি
- আর একটু দাঁড়াও, আর দুই মিনিট
আসতে আসতে প্রায় দুই ঘণ্টার মত লেইট হয় মিহানের। দূর থেকে নিমাকে দেখা যাচ্ছে। তাকে বরাবরের মতো ক্লান্ত দেখাচ্ছে। জোরে জোরে হাঁটছে মিহান। কি অজুহাত দেয়া যায় ভাবছে সে। নতুন কোন অজুহাত আর মাথায় আসছিল না বরাবরের মতো। সামনে এক পিচ্চির কাছ থেকে আমড়া কিনল সে।
- সরি সরি এই শেষ আর জীবনে দেরি হবে না। এই আমড়ার কসম। আর যদি কখনো দেরি হয় তাহলে জীবনে আমি আমড়া খাওয়া ছেড়ে দিবো। প্রমিজ
চুপ করে বসে পরে নিমা। রোবটের মতো এক দিকে তাকিয়ে আছে সে।
- লাস্ট চান্স এভার লাস্ট
- আমি একটা ডিসিশন নিয়ে ফেলছি
- কি ডিসিশন ?
- ব্রেক আপ
- আচ্ছা বাদ দাও, সরি
- আমি উঠলাম
- কই যাচ্ছ ? আরে আরে
নিমা হাঁটা শুরু করল। পিছে পিছে মিহান। মিহান হাত ধরতে চাইলে এক ঝটকা মেরে হাত ছাড়িয়ে নিল নিমা। একটা রিকশা ডাকল...
- ভাইজান কি ভাবেন ?
হঠাৎ সম্বিত ফিরল মিহানের। ঘটনাগুলো ভাবতে ভাবতে কখন যে তার চোখের কোণটা ভিজে গিয়েছে খেয়ালই করেনি সে।
- কিরে তুই কখন ?
- এইতো একটু আগে আইছি। আপনি দেখি কি ভাবতাছেন। তারপর আপনার পাশে বইলাম কিন্তু আপনার কোন খেয়ালই নাই। আজকে আফনে একা ! আফা কই ?
- আপা আসছে
- সবসময় আগে আফা আইসা বইসা থাকে আইজকা আফনে আগে ?
কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না মিহান। শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
- তুই এখন যা ফুল বিক্রি কর। তোর আপা আসলে আসিস
- আইচ্ছা, ফুল লইবেন না ?
- নারে আজকে থাক
- লন আজকে একটা ফ্রি লন
- লাগবে নারে
তবুও যাওয়ার সময় পাশে ফুলের মালাটা রেখে গেল নেয়ামত। নেয়ামত ফুল বিক্রি করে। প্রায়ই সে মিহান-নিমার পাশে বসে থাকে। তাদের ভালোবাসার গল্প শোনে।
মালাটা ছুঁয়েও দেখল না মিহান। ওসব এখন তার মন ছুয়ে যাচ্ছে না। তার চোখ গেল সে যেখানে বসে আছে তার পাশে লাল ইট দিয়ে লেখা S+R এ। হয়ত কোন প্রেমিকযুগল এসে তাদের ছোট্ট স্মৃতি রেখে গেছে। হয়ত অক্ষরগুলো তাদের দুজনের নামের প্রথম অক্ষর। মিহান এক টুকরা ইট নিয়ে একটা নাম কেটে দিচ্ছে বারবার। এক প্রকার ক্ষোভ নিয়েই ইট ঘষছে সে। পাশে আবার নতুন করে লিখল ম+ত।
সেইদিন মিহান অনেকবার ফোন দিয়েছিল নিমাকে। কিন্তু ফোন অফ। পরের চারদিন পর্যন্ত ফোন অফ। বাসার নিচে উঁকি ঝুঁকি মেরেও তার বারান্দার কাপড় ছাড়া কিছুই দেখতে পায় না মিহান। ক্যাম্পাসে আসাও বন্ধ করে দেয় নিমা। এস এম এস, ভয়েস এস এম এস কোন কিছু বাদ রাখেনি মিহান। যখন মিহানের প্রায় পাগল পাগল অবস্থা তখন একটি ছোট্ট ম্যাসেজ আসে তার ফোনে,
'শেষ দেখা কর'
সাথেই সাথেই ফোন দেয় মিহান। এক মিনিটের মতো কথা হয়। ঠিক হয় আজকের দিন।
চার ঘণ্টা হল মিহান বসে আছে। নিমা যে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে খেয়ালই করেনি সে। মিহানের মাথা নিচু। চোখ বন্ধ।
- কি ব্যাপার নেশা করেছ ?
মিহান হঠাৎ উঠে দাঁড়াল। মিহানের চোখ মুখ লাল। চুল উস্ক শুষ্ক।
ওকে দেখে নিমারই খুব খারাপ লাগতে লাগল। বেচারার এ অবস্থা হবে তা সে কখনো ভাবেনি।
- বসো। কিছু খাইছ টাইছ নাকি ?
মিহান কিছু বলল না। কেন জানি তার কান্না পাচ্ছে খুব। নিমা বুঝতে পারল এ কয়টা দিন মিহানের কেমন কেটেছে। তা তার চেহারায় স্পষ্ট। এখন খুব মায়া হতে লাগল নিমার। তার রাগ গুলো যেন গলতে শুরু করল। তারও উপায় ছিল না। একটা মেয়ে সবসময় আগে এসে দাঁড়িয়ে থাকে। ব্যাপারটা কেমন ওটাই একটু বোঝাতে চেয়েছিল মিহানকে। কিন্তু এখন বুঝতে পারছে সে বোধয় বেশিই করে ফেলেছে।
- আজকে আগে এলে কীভাবে ?
- এমনিতেই। এখন আর রাতে ঘুম হয়না
- কেন ঘুম হয়না ?
- এমনি
- কেমন লাগল ওয়েট করতে ?
মিহানের চোখ এবার ছল ছল করছে। কেঁদে দিবে মনে হয়। অনেক কষ্টে ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় বলল,
- ক্যান করলা এমন তুমি ? আমি কি ইচ্ছা করে করি বল ?
- কি করলাম ?
- তুমি জাননা ?
- তোমার একটা শিক্ষার দরকার ছিল
- আমাকে শিক্ষা দিয়ে তুমি খুশি ? তুমি ভালো ছিলা এতদিন ?
- কিছু করার ছিল না। তোমার এটা দরকার ছিল
- তুমি জানো আমি তোমাকে কতবার ফোন দিছি ? কতো খুঁজছি ?
- জানি
- না তুমি জানো না
মিহান আস্তে করে নিমার ওড়নাটা টেনে চোখ মুছতে লাগল। নিমা কিছু বলল না। বেচারার এ অবস্থা দেখে তার নিজেরই এখন অনুশোচনা হচ্ছে। নিমা তার ব্যাগ থেকে নেইল কাঁটার বের করে বলল,
- দেখি হাত দাও
- নখ বড় হয়নি তো
- হাত দাও বলছি
- না, সেদিন তুমি নখ কাটতে গিয়ে চামড়া ছিলে ফেলছ। পরে ভাত খাইতে পারতেছিলাম না। শেষমেষ বাম হাত দিয়ে...
- কি ! তুমি বাম হাত দিয়ে ভাত খাইছ ! ছিঃ
- না মানে, আসলে কি করবো বল ? মেসে আমাকে কে খাইয়ে দিবে ?
- তাই বলে বাম হাত ?
- তো কি করবো ? আমি আর নখ কাটব না তোমার কাছে
- কাটবা না মানে একশোবার বার কাটতে হবে তোমাকে। হাত দাও বলতেছি
- আজকে আঙ্গুল কাটলে আমাকে কিন্তু খাইয়ে দিতে হবে বলে রাখলাম
- এহ মুল্লুকের মগ?
হঠাৎ নিমার চোখ গেল তার পাশের বসার জায়গায়।
- এটা কি লিখছ ?
- তোমার আর আমার নাম
- বাংলায় লিখছ ক্যান ? কেমন খ্যাত খ্যাত লাগতেছে !
- আচ্ছা বিয়ের পর যদি আমি লুঙ্গি পরি তাহলেও কি আমাকে খ্যাত বলবা ?
- অবশ্যই
- তোমার আব্বু বাসায় কি হাফ প্যান্ট পরে থাকে ?
- ফালতু কথা রাখ আগে বল, ম তে মিহান বুঝলাম কিন্তু 'ত' তে কি ?
- 'ত' তে তুমি
এবার কেমন করে জানি নিমা তাকাল মিহানের দিকে। মিহান অন্য দিকে তাকিয়ে থাকল। অদ্ভুত সে দৃষ্টি। মিহান পাশে থাকা মালা টা নিয়ে নিমার হাতে গুজে দিল। নিমা হাত খুলে দেখছে না। যেন দেখলেই সব ফুরিয়ে যাবে। গন্ধ উবে যাবে। সে চায় না এই গন্ধ উড়ে যাক। এই সুবাস চলে যাক। এই সময় হারিয়ে যাক ...
দূর থেকে নেয়ামত গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে মিটি মিটি হাসছে।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে এপ্রিল, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:২৭
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাঞ্জাবিস্তান

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৪০

পাকিস্তা/নের পাঞ্জাবিরা হলো পাকি/স্তানের বাকি সব জাতিসত্তার মানুষদের জন্য অভিশাপ। এদের জাত্যভিমানের কারনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগন স্বাধীনতার ডাক দিতে বাধ্য হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের প্রদেশগুলো যেরকম অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?
যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, যে বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×