এ কথা আজ সবাই জানেন,ইসরাইলে বৃষ্টি হলে পশ্চিমারা ছাতা ধরে। বিশেষ করে পশ্চিমা যে সব দেশ ইসরাইলের হয়ে যুদ্ধ করতেও পিছপা হয়না তারা। তাদের ধারণা কোনো তুচ্ছ কারণেও ইসরাইল ব্যাথা পেলে সমগ্র বিশ্বই বেদনা বোধ করে। তাদের এই ধারণা এবং ইসরাইলের প্রকৃত স্বরূপ নিয়ে আলোচনা করা যাক।
ইসরাইল জোর গলায় সব সময় নিজেকে ইহুদিবাদী রাষ্ট্র হিসেবে দাবি করছে। এ সত্ত্বেও ইসরাইলের প্রতি পশ্চিমাদের টানের কোনো কমতি নেই। রূপকথার গল্প স্নো হোয়াইটে এক ডাইনির কথা বলা হয়েছে। সে ডাইনির কাছে আছে যাদুর আয়না। ডাইনি যখনই আয়নাকে প্রশ্ন করে দুনিয়াতে সবচে' সুন্দর কে? জবাবে আয়না কেবল ডাইনির দিকেই ইংগিত করে। আর পরম তৃপ্তি পায় সে ডাইনি।
ইসরাইলের কাছেও যেনো আছে এমন এক যাদুর আয়না। সে আয়না তাকে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর বলে অহরহ ঘোষণা করছে। কিংবা ইসরাইল যেনো ষোল কলায় পূর্ণ কোনো এক মক্ষীরানি; যার গুণমুগ্ধ মোসাহেব-স্তাবকদের তালিকায় রয়েছেন প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, পোপ, ধর্মযাজক, ধর্মপ্রচারক, দিগগজ পণ্ডিতসহ নানা পেশার বিচিত্র সব মানুষ।
ইসরাইল নিজ স্বার্থ-সুখ ছাড়া কিছুই বোঝে না এমন এক চরম আত্ম-পূজারি। ইসরাইলের এই একক আত্ম-পূজারি মনোভাবের কারণে বিশ্ব আজ স্বর্গের সিঁড়ি থেকে প্রচণ্ড বেগে ধাবিত হচ্ছে নরকের দিকে।
এভাবে আত্ম-অহমিকায় ভরপুর অতিক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠী বিশ্বের প্রতিদিনের কাজ-কর্মের ওপর অপ-প্রভাব বিস্তার করছে। তাদের এ অপ-প্রভাবের জেরেই বিশ্বে বিধ্বংসী যুদ্ধের অবতারণা ঘটে। এ রকম যুদ্ধের মোকাবেলা করতে যেয়ে বিশ্বের নানা দেশকে আর্থ-সামাজিক-নৈতিক দেউলিয়াত্বের অতল গহ্বরে পতিত হতে হয়।
বিশ্বের বিরাজমান সব সংকটের মূলে ইহুদিবাদীরা নেই - অহেতুক সে রকম শিশু সুলভ তর্কে এখন কারো জড়িয়ে পড়া ঠিক হবে না। ইহুদিবাদী অপরাধী চক্রের কোনো অস্তিত্ব নেই বলে এ চক্রের সঙ্গে জড়িতরা নিজেদের পিঠ বাঁচানোর তাগিদে ভাল মানুষি ভাব দেখিয়ে বেড়ায়। তারা আরো দাবি করেন, ইহুদিবাদী অপরাধ চক্র নিয়ে যা বলা হচ্ছে তা নেহাৎই রটনা মাত্র।
বিশ্ব রাজনীতির ক্ষেত্রেও ঠিক একই জিনিস প্রত্যক্ষ করা যায়। বর্তমানকালের গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক সংকটগুলোর সঙ্গে ইহুদিবাদীদের যোগসূত্র রয়েছে। কিন্তু এ যোগসূত্র থাকার বিষয়টি অম্লান বদনে মুছে দেয়ার একটি চেষ্টা চলছে। অথবা ভিন্ন ভাবে বললে কথাটি দাঁড়ায়, দিনে একশটি করে সিগারেট ফুঁকতো যে ব্যক্তি তার অকাল মৃত্যু কথিত ভগ্ন স্বাস্থ্যের কারণে হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অন্যদিকে এ ব্যক্তির নিকোটিনের প্রতি গভীর আসক্তির বিষয়টি ধামা-চাপা দেয়ার অন্তহীন প্রচেষ্টা লক্ষণীয়!
বর্তমান বিশ্বের সমগ্র ঘটনাক্রমের নেপথ্যে রয়েছে ইহুদিবাদিদের স্বার্থ। বিশ্বের ক্ষমতার রাজনীতি থেকে ইহুদিবাদীদের স্বার্থের প্রসঙ্গটি সরিয়ে নেয়া হলে সমগ্র দৃশ্যপট অন্ধকার হয়ে যাবে। ইহুদিবাদীরা চেয়েছে ইরাক ধ্বংস হোক। ইরাক ধ্বংস হয়েছে। একই কাণ্ড ঘটেছে আফগানিস্তান লিবিয়াসহ অন্যত্র। ইহুদিবাদীদের স্বার্থ রক্ষার কারণে বলি হতে হয়েছে বিশ্বের লাখ লাখ মানুষকে। এ যেনো 'লা কোশার নোস্ট্রা' নামের ইহুদিবাদী অপরাধ চক্রের পাণ্ডারা তুড়ি দিলেন আর শহরের বিভিন্ন রাস্তায় অনেকের মৃতদেহ পড়ে গেল। 'লা কোশার নোস্ট্রা'র পাণ্ডারা এসবই করছে ঈশ্বরের নামে। তাদের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে যারা, তাদেরকে কোন্ ঈশ্বর রক্ষা করতে আসে বলে ঔদ্ধত্যপূর্ণ গলাবাজি করে তারা।
অথচ সাধারণ যুক্তির ভিত্তিতেই আমরা বুঝতে পারছি,পশ্চিমা দেশগুলোর ইশারায় মুসলমান দেশগুলোর সঙ্গে যুদ্ধে বা বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে যে সব দেশ প্রকৃতপক্ষে তাদের কোনো লাভ হচ্ছে না। লাভের গুড় শেষ পর্যন্ত গিয়ে উঠছে ইসরাইলের ঘরে। ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়াতে এমন ভয়াবহ রক্তপাত, এমন সব ভয়াবহ ধ্বংস যজ্ঞের পরও ইসরাইল সামান্য গ্লানি পর্যন্ত অনুভব করেনি বরং আবার নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে আদা-পানি খেয়ে লেগেছে ইহুদিবাদী মক্ষীরানি। নরমুণ্ডধারী কাপালিকের মদমত্ত নাচ শুরু করেছে ইহুদিবাদী ডাকিনী। অন্যদিকে তার এ নৃত্যের দর্শকদের মধ্যে বেশির ভাগ হলো যুদ্ধের নীল ছবিতে আসক্ত খ্রিষ্ট ধর্মের উপাসক।
ইসরাইল কেনো এমনভাবে ইরানের বিরুদ্ধে ক্ষেপে উঠলো? তার উত্তর সহজ, বিশ্বে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তারের মরণপণ যে চেষ্টা করেছিল ইসরাইল, সে চেষ্টায় গুড়েবালি দিয়েছে ইরান। তাই ইরান-আতংক ইসরাইলকে পেয়ে বসেছে কঠিনভাবে। ইরান আতংক ইসরাইলের মনোবিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসরাইল মনেপ্রাণে চাচ্ছে ধ্বংস হয়ে যাক ইরান।
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের আদা-পানি খেয়ে লাগার খানিকটা ধর্মীয় কারণও আছে বলে মনে করে ইহুদিবাদীরা। ইসরাইলের সঙ্গে অ-ইহুদিবাদী দেশগুলোর চিরকালীন লড়াইয়ের একটি দাবি করা হয়। এ ছাড়া অতীতে ইসরাইলের সঙ্গে যে সব লড়াই হয়েছে তার কয়েকটিও হয়েছে ইসরাইলের কোনো না কোনো ধর্মীয় উৎসবের দিনে। এমন কথা একদিকে ইসরাইলে অবস্থিত ইহুদিবাদীরা যেমন বিশ্বাস করে তেমনি বিশ্বাস করে ইসরাইলের বাইরে বসবাসকারী ইহুদিবাদীরাও।
ঈশ্বর ইসরাইলিদের পৃথিবী শাসনের সবুজ সংকেত দিয়ে রেখেছেন বলে তারা মনে করে থাকে। তাই যুদ্ধ বাঁধিয়ে ইসরাইলকে বিশ্বের সম্পদ হাতিয়ে নেয়ার অধিকার দেয়া হয়েছে। এদিকে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের আপ্তবাক্য হলো, 'চাতুরীর মাধ্যমে যুদ্ধ বাধাতে হবে।'
ইসরাইলের যে কোনো কথা বা বিবৃতির অর্থ অনুধাবন করতে গেলে একটি কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে। আর তা হলো, ইসরাইল যা বলছে তা ইহুদিবাদী অন্ধ বিশ্বাসের ভিত্তিমূল থেকে বলছে। সাধারণ যুক্তি-বোধ সম্পন্ন কোনো ব্যক্তির পক্ষে এ ধরণের উক্তি করা স্বপ্ন বা দু:স্বপ্নেও সম্ভব হবে না। ইরানের ধ্বংস কামনা করার পেছনে ইসরাইলের যুক্তিটি হলো, তেহরানের পরমাণু বোমা একদিন ইসরাইলকে বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে দেবে।
এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদি যে পরিকল্পনা রয়েছে, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে প্রধান হুমকি হয়ে উঠেছে ইরান।
প্রথমেই একটি কথা জেনে নিতে হবে, ইসরাইলের পক্ষে সাধারণ কোনো যুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। দুই পক্ষকে সমান সুযোগ করে দেয়া হলেও প্রকৃতিগত কারণে এ ধরণের যুদ্ধে ইসরাইল বিজয়ী হতে পারবে না। রাজনৈতিক জগতে ইসরাইলকে টিকে থাকতে হলে অবিরাম মিথ্যাচার ও কাপালিক তন্ত্রমন্ত্র ও কুহক জাল বিস্তারের আশ্রয় নিতে হবে। বিশ্ব বাস্তবতায় পরিবর্তন ঘটাতে হবে। বিশ্বের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরার বদলে মর্জি মাফিক অবস্থাকে বিশ্ব বাস্তবতা বলে চালাতে হবে ইসরাইলকে-এর কোনো বিকল্প নেই।
দ্বিতীয়ত: ইসরাইলকে টিকে থাকতে হলে বিশ্বে দ্বন্দ্ব সংঘাতের প্রয়োজন পড়বে। বরং বলা ভালো ইসরাইলকে দ্বন্দ্ব সংঘাত ঘটাতে হবে। কেননা, পৃথিবীর বহু দেশ থেকে ইহুদিবাদীরা জড়ো হয়েছে ইসরাইলে। তাদেরকে একত্রিত রাখার ক্ষেত্রে আশেপাশের দেশগুলোতে অবিরাম অস্থিতিশীলতা ইসরাইলকে সহায়তা করবে।
এ ধরণের একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর চিন্তাধারাকে আচ্ছন্ন করে ফেলাই ইসরাইলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। ফলে আরব দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ হতে পারছে না, তাদের মধ্যে হানাহানি চলছে ও তারা দিশেহারা হয়ে গেছে।
ইসরাইলের কুহক কাটিয়ে যে মুহূর্তে আরব দেশগুলো জেগে উঠতে থাকবে সে মুহূর্ত থেকে যুদ্ধবাজ ইসরাইলের সত্যিকার ধ্বংস শুরু হবে-যার সূত্রপাত এখন লক্ষ্য করা যাচ্ছে আরব দেশগুলোতে।
এবার আমরা লক্ষ্য দিতে পারি ইরানের দিকে।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর মতো ইরান আরবি ভাষাভাষী দেশ নয়। তবে এ দেশটি আরব দেশগুলোর ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী। ইসরাইলের নেতারা ভালো করেই জানেন, ১৯৭৯ সালে কার বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করেছিল ইরান। আজকের মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা যে দখলদার শক্তি ৩০ কোটি আরববাসীর জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে তাদের বিরুদ্ধেই বিপ্লব করে ১৯৭৯ সালে বিজয়ী হয়েছিল ইরান।
ইসরাইলের জন্য আরো ভয়াবহ কথা হল, সে থেকেই ইরান স্বাধীন নীতি অনুসরণ করছে। দেশের জন্য যা ভাল ঠাণ্ডা মাথায় সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে ইরান। ইরানের এ ধরণের তৎপরতা প্রতিদিনই ইসরাইল ও পশ্চিমা কোনো কোনো দেশের জন্য মারাত্মক হুমকির মতো মনে হচ্ছে। এ ধরণের তৎপরতা ইরান যে নির্বিবাদে করতে পারছে তা ইসরাইলের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে।
গত এক দশক ধরে দেখা যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের রঙ্গমঞ্চে যে সব কুশিলব আবির্ভূত হয়েছেন তাদের মধ্যে একমাত্র ইরানই যুক্তির ভাষায় কথা বলছে। ইরান কোনো হম্ভি-তম্ভি করছে না, হুমকি দিচ্ছে না বা রক্ত চোখে তাকাচ্ছে না। অন্য দেশে কোনো ধরণের বোমা হামলার সঙ্গে ইরান জড়িত নয়; শত্রু দেশের হয়ে কর্মরত বিজ্ঞানীদের গুপ্তহত্যার পথ বেছে নেয়নি কিংবা নিজের পররাষ্ট্র নীতির লক্ষ্যমাত্রা বোঝাতে গিয়ে মাফিয়া চক্রের ভাষায় কথা বলেনি ইরান ।
ইরানের প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদকে সর্বাত্মক সমর্থন দিচ্ছে সংসদ;তিনি কথা বলেন বিনম্র ও যুক্তির ভাষায়। তিনি উন্মুক্ত বিতর্ক ও স্বাধীন মত প্রকাশে বিশ্বাস করেন। এ ছাড়া তিনি সব সময় অন্যদের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন বলেও ঘোষণা করছেন।
ইসরাইল যে ধরণের ক্ষিপ্ত ও বিকারগ্রস্ত আচরণ করছে ইরান তা করে না। ইরানের আচরণ শান্ত ও সংযত। আর এ জন্য ইসরাইলের কাছে ইরান হয়ে উঠেছে হুমকি।
এ ভাবে আরব দেশগুলোর কাছে আদর্শ হয়ে উঠেছে ইরান। ইরান আরবিভাষী দেশ না হওয়া সত্ত্বেও তা এক্ষেত্রে তা খুব একটি গুরুত্বের বিষয় হয়ে ওঠেনি। ইরান শিয়া মুসলমানদের দেশ সুন্নি মুসলমানদের নয় এটিও আর তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। যা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তা হলো,পশ্চিমা ও ইহুদিবাদী নিয়ন্ত্রণ থেকে ইরান মুক্ত হয়েছে। কোনো বিদেশি সেনা ইরানে নেই বা ইরানের জনগণের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে না। বিশ্ব শক্তিগুলোর সঙ্গে ইরান পাল্লা দিয়ে চলছে। তারা ইরানকে সম্মান দেখাতে বাধ্য হচ্ছে। ইরানকে এ জন্য বিশ্ব শক্তিগুলোর বা ইসরাইলের কাছে নতজানু হতে হয়নি। অথচ অনেক দেশকেই কথিত মুক্ত থাকার জন্য এ রকম করতে হয়েছে।
ইসরাইলের জন্য আরেকটি অসহনীয় বিষয় হলো মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর মতো ইরানেরও রয়েছে অঢেল প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার। এ সম্পদের কারণেই ইহুদিবাদী ইসরাইল ও পশ্চিমা দেশগুলো ইরানকে এক সময় পুতুল সরকারের মাধ্যমে শাসন করার চেষ্টা করেছে। ইরানের জনগণ নির্যাতনের মুখে পড়েছে। প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোর মতো এক সময় ইরানও রাজনৈতিক ভাবে অধিকৃত হয়েছিল। কিন্তু এ সবের বিরুদ্ধে বিপ্লব করেছে এবং এ জন্য ইরানকে 'ন্যাশনাল এনডোমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি' জাতীয় কোনো গোষ্ঠীর সহায়তা নিতে হয়নি। ইরান শুধু বিপ্লবই করেনি বরং একটি আধুনিক রাজনৈতিক ধারা গড়ে তুলেছে এবং প্রজাতন্ত্র পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা চালু করেছে। ইরানের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করছে - এ বিষয়টিও ইসরাইলের জন্য দগদগে এক ঘায়ের মতো যন্ত্রণাদায়ক হয়ে উঠেছে। ইসরাইল চায়, মধ্যপ্রাচ্য তথা আরব দেশগুলোর মানুষগুলো ছন্নছাড়া অবস্থায় থাকবে এবং মাদকাসক্ত তেলাপোকার মত দিশেহারা হয়ে ছুটে বেড়াবে।
বর্তমানে ইরানে কী ঘটছে তা প্রত্যক্ষ করছে ত্রিশ কোটি আরববাসী মুসলিম ও খ্রিস্টান । তারা প্রত্যক্ষ করছে সেখানে জীবনের সব ক্ষেত্রে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে । এতে স্বাভাবিক ভাবেই তাদের মনে যে ভাবোদয় হবে তা হলো, আল্লাহর পথ অনুসরণ করার মধ্য দিয়ে তাঁর অপরিসীম রহমত লাভ করেছে ইরান; নির্যাতিত মানুষদেরকে তাদের বন্ধন মুক্ত করে প্রতিশ্রুত স্বাধীন ভূমিতে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বও স্বাভাবিক ভাবেই অর্পিত হয়েছে ইরানের ওপর। তাই এখন সবার মনেই প্রশ্ন-মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ধ্রুবতারা হয়ে উঠতে ইরানকে আর কতোটা পথ পাড়ি দিতে হবে? কবে গোলযোগ আর ভ্রান্তির বেড়াজালে আরব দেশগুলোকে বেঁধে রাখার ইসরাইলি ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটবে? কবে সত্যিকার আরব বসন্তের সূচনা হবে? কবে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানী ধাঁচের বিপ্লব দেখা দেবে এবং একের পর এক আরব দেশগুলোর ছন্নছাড়া ও দিশেহারা অবস্থার অবসান ঘটবে? কবে আরব দেশগুলোর দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাগুলোর পালা শেষ হবে আর নতুন এক রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রবর্তন হবে? একই সঙ্গে কবে ইসরাইল ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে কোনো চুক্তি করা চিরতরে বন্ধ করবে তারা?
ইরানের এই ভাবমূর্তি যুদ্ধবাদী ইসরাইলের সত্যিকার আতংক হয়ে উঠেছে। এ দৃশ্যপটকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির চেয়েও ভয়াবহ মনে করছে ইসরাইল। বিভিন্ন আরব ও অনারব দেশের রাজনৈতিক কর্মসূচির কেন্দ্র বিন্দু হয়ে উঠবে ইরান । হয়ত ইরানের পথ অনুসরণ করে পশ্চিমীদেশগুলোর সঙ্গে সব অর্থনৈতিক লেনদেন বন্ধ করে দেবে আরব দেশগুলো। এর বদলে তারা রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে হয়ত জোরদার অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলবে। হয়ত বা তারা পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো সামরিক জোটও গঠন করবে
এ ধরণের কিছু সত্যিই ঘটলে পরবর্তী ফলাফল কী ঘটবে তা সহজেই অনুমান করা যায়।
মার্কিন অর্থকে আর স্বাগত জানানো হবে না আরব দেশগুলোতে। ফলে ইসরাইলের স্বার্থরক্ষা করে আরব দেশগুলোর ওপর এমন কোনো অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতি চাপিয়ে দেয়া সম্ভব হবে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে। আরব বিশ্বের রাজনীতিতে গত অর্ধ শতকের বেশি সময় ধরে যে কুহক ও বিষ-বাষ্প ছড়িয়ে রেখেছিল ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র তার অবসান ঘটবে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ফিরে আসবে স্থিতিশীলতা; স্থিতিশীলতার পথ ধরে স্বাভাবিক ভাবেই আসবে শান্তি ও সমৃদ্ধি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্য থেকে তাদের সেনাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবে। ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা করতে যেয়ে বর্তমানে পশ্চিমা দেশগুলোতে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে।এ নিরিখে বলা যায় পশ্চিমারা আর কখনো ইসরাইলের হয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে না এবং তাদের সম্পদ নষ্ট হতে দেবে না।
আর এর অনিবার্য পরিণতির মুখে পড়বে মক্ষীরানির বেশধারী আত্মকেন্দ্রিক ডাইনি ইসরাইল। তার মধ্যপ্রাচ্যের কুহক ও প্রভাব বলয়ের বিলীন ঘটবে। এটাই ইসরাইলের সবচেয়ে মারাত্মক দু:স্বপ্ন। গত অর্ধ শতক ধরে ইহুদিবাদ কেন্দ্রিক যে বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল তা হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে। মক্ষীরানি ইসরাইলের স্তাবকদের মোহমুক্তি ঘটবে ও তাকে ছুড়ে ফেলবে তারা। এ ভাবে ইহুদিবাদীরা ইহুদি ধর্মকে অপব্যবহার করে যে কল্পকাহিনী গড়ে তুলেছিলো তার অবসান ঘটবে। বিশ্ব ইসরাইলের হামবড়া ভাব থেকে মুক্তি লাভ করবে। বিশ্ব তখন শান্তিতে জীবন যাপন করার চেষ্টা করবে, করবে স্বাধীনতা এবং সুখের অন্বেষণ। ইসরাইলের রণ-দেবীর অনাচার ও ব্যাভিচারের হাত থেকে রক্ষা পাবে প্রায় সাতশ'কোটি মানুষ। বিশ্ববাসী উপলব্ধি করতে পারবে কী করে বর্বরোচিত ইহুদিবাদী বর্ণবাদীরা কল্পকাহিনীর কালো অধ্যায় রচনা করেছিল।
একটি কথা সবাইকে মনে রাখতে হবে, তাহলো সমগ্র বিশ্বের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার কল্যাণের লক্ষ্যে 'পরমাণু শক্তিধর ইরান'কে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই বরং এ লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে সবার একযোগে এগিয়ে আসা উচিত। এ লক্ষ্য অর্জিত হলে তার দীর্ঘ মেয়াদি সুফল পাওয়া যাবে। এ লক্ষ্য অর্জন না হলে পরমাণু শক্তিধর ইসরাইলের হাতে বিষাক্ত তেজস্ক্রিয় উপাদানই কেবল থাকবে না; বরং বিশ্বের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করার নৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবক্ষয় ঘটানোর মতো উপাদান থাকবে। এক কথায় বিশ্ব মানুষের টিকে থাকার অযোগ্য হয়ে যাবে।
সূত্র: ইরান বাংলা রেডিও

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


