সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজিজ খানের বড় ভাই কর্নেল (অব.) ফারুক খানকে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিমানবন্দরের ৪৩৪ বিঘা জমি রক্ষা সম্ভব হবে কিনা এ নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয় । মারাত্মক অনিয়মের মাধ্যমে বিমানবন্দরের ৪৫ হাজার কোটি টাকার এ সম্পত্তি লিজ নিয়ে সংঘটিত কেলেঙ্কারির সঙ্গে মন্ত্রীর ভাইয়ের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান জড়িয়ে পড়ায় রাষ্ট্রীয় এ সম্পত্তি বেহাত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিমানের একটি সূত্র জানায়, এর আগেরবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জালিয়াতির মাধ্যমে ইপকো নামে একটি ভুয়া কোম্পানিকে বিমানবন্দরের প্রবেশমুখ লাগোয়া ৪৩৪ বিঘা জমি লিজ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। লিজের সব শর্ত ভঙ্গ করে ইপকোর মালিকানা পরিবর্তন ও শেয়ার হস্তান্তর, সরকারকে লিজের টাকা পরিশোধ না করা, ৫ বছরে কাজ সম্পন্ন করার পরিবর্তে মাত্র ১০ শতাংশ কাজ করা এবং দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথের দু’পাশের এই জমি আত্মসাতের চক্রান্ত ধরা পড়লে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সরকারের আর্থিক মারাত্মক ক্ষতিকর এ প্রকল্পটি বাতিলের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু বর্তমান বিমান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর ভাইয়ের প্রতিষ্ঠান সামিট গ্রুপ ও সংসদীয় কমিটির দু’জন সদস্য এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশের ইতিহাসে এতবড় দুর্নীতি ও জ্বালিয়াতির ঘটনা নিয়ে খবর প্রকাশ হলেও সরকারের শীর্ষ মহল থেকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি । বরং প্রতারণা, অনিয়ম ও ভয়াবহ জালিয়াতির মাধ্যমে লিজ গ্রহণকারীচক্রকে জমি পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে সরকারের উচ্চমহল চাপ সৃষ্টি করে। এ নিয়ে সদ্য বিদায়ী বিমানমন্ত্রী জিএম কাদেরের সঙ্গে চরম বিরোধ দেখা দেয় সরকারের কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী, সংসদীয় কমিটির দু’জন সদস্যের। একপর্যায়ে জিএম কাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে জানিয়ে দেন, প্রয়োজনে পদত্যাগ করবেন তারপরও জাতীয় স্বার্থবিরোধী এ কাজ করতে পারবেন না। কিছুদিন এ নিয়ে নড়াচড়া না হলেও ইদানীং আবারও ৪৩৪ বিঘা জমি ইপকোচক্রকে দিয়ে দিতে তোড়জোর শুরু হয়। জিএম কাদেরকে দিয়ে এটি সম্ভব নয় জেনে আপসরফার মাধ্যমে তাকে বিমান মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ কার্যটি সম্পাদনের পর পুনরায় জিএম কাদেরকে বিমান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ফেরত দেয়া হতে পারে বলে মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে তত্কালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিমানমন্ত্রী (বর্তমান এই মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি) ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের আগ্রহে তার ছেলেসহ কয়েকজনের মালিকানাধীন ‘ইপকো’ নামের সিঙ্গাপুরের একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানকে বিমানবন্দরের ৪৩৪ বিঘা জমি লিজ দেয়া হয়। সিঙ্গাপুরে এ নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব না থাকলেও ওই সময় বিদেশি কোম্পানির পরিচয়ে মন্ত্রীর ছেলে শামীমুর রহমান সমু, আবুল খায়ের লিটু ও কাজী শহীদুল্লাহসহ কয়েকজন মিলে ইপকো নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে এবং তথ্য জালিয়াতির মাধ্যমে লিজ গ্রহণ করে। ইপকোকে তত্কালীন বাজার মূল্য হিসেবে ১৩ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি ৬০ বছরের জন্য লিজ দেয়া হয় ১০৫ কোটি ৩০ লাখ টাকায়। তাও এ টাকা পরিশোধ করতে হবে ৬০ বছরে। লিজের শর্ত অনুযায়ী ২০০১ সাল থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে এ জমিতে তারা একটি পাঁচতারকা হোটেল, একটি তিন তারকা হোটেল, একটি কান্ট্রি ক্লাব ও এশিয়ার সর্ববৃহত্ ১৮ হোলবিশিষ্ট গলফ মাঠ নির্মাণ করার কথা থাকলেও বিগত ১০ বছরে কাজ হয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ। বিগত ১০ বছরে তারা লিজের সব শর্ত ভঙ্গ করে মালিকানা পরিবর্তন ও শেয়ার হস্তান্তর করে গোটা জমি আত্মসাতের আয়োজন করে। সূত্র জানায়, এ জমি লিজের বিরুদ্ধে বিমান মন্ত্রণালয় সক্রিয় হয়ে উঠলে ইপকো মহাজোট সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রীর (বর্তমান বিমানমন্ত্রীর) ভাইয়ের কাছে তথাকথিত কোম্পানি ইপকোর সিংহভাগ মালিকানা বিক্রি করে দেয়। এই শক্তিশালী চক্রটির অদৃশ্য হাতের ছোঁয়ায় বারবার এ লিজ বাতিলের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা থেমে যায়।
সূত্র জানায়, বিগত বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান মহাজোট সরকার ও গত তিনটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গঠিত আধাডজন তদন্ত কমিটি লিজ প্রদানে জালিয়াতি, চরম অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং লিজের শর্ত ভঙ্গের সুস্পষ্ট তথ্য প্রমাণ পেলেও সিদ্ধান্ত না নিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে। কোথায় সরকারের দুর্বলতা, কেন তারা এতবড় রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষা করতে পারছে না এবং বাধা কোথায় তা কারও বোধগম্য নয়।
ইপকোর সঙ্গে লিজ চুক্তি বাতিল প্রসঙ্গে এর আগে সদ্যবিদায়ী বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী গোলাম মোহাম্মদ কাদের সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মন্ত্রণালয় ও সিভিল এভিয়েশন তদন্ত করে দেখেছে, ইপকোর সঙ্গে যে চুক্তি করা হয়েছে তা বৈধভাবে হয়নি। তাই তারা এ চুক্তি বাতিলের সুপারিশ করেছে। কাজেই সে অনুযায়ী কাজ হবে। সংসদীয় কমিটির বক্তব্য তিনি শুনেছেন। তাদের কথা, ইজারাদারের সঙ্গে সংসদীয় কমিটির কেউ কেউ সমঝোতা করেছেন। তারা হোটেল ও ক্লাব নির্মাণের জন্য নির্দিষ্ট ১০ একর এবং আরও ২৫ একর জমি দিলে ইপকোকে দিয়ে সমঝোতা করতে চায়। এরপর তারা সরকারকে ১০৫ একর জমি ফিরিয়ে দেবে। এটা সরকারের জমি। তাই সরকারের জমি তিনি সরকারকে ফেরত দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে কেউ খুশি থাকুক আর না থাকুক সেটা তার দেখার বিষয় নয়। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, সংসদীয় কমিটিকে সমঝোতা করার দায়িত্ব কে দিয়েছে? তাছাড়া ভবিষ্যতে যদি শাহজালাল বিমানবন্দর সম্প্রসারণের প্রয়োজন হয় তাহলে এ জমি দরকার হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তাকে কেউ কোনোভাবেই পারচেজ করতে পারবে না। প্রয়োজনে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেবেন তবুও আপস করবেন না।
যেভাবে ৪৩৪ বিঘা জমি লিজের আয়োজন : বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ন্যাম সম্মেলনকে সামনে রেখে তত্কালীন জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে ১৪৪ দশমিক ৮০ একর (৪৩৪ বিঘা) জমির ওপর একটি পাঁচতারা হোটেল, একটি তিনতারা হোটেল, একটি কান্ট্রি ক্লাব ও এশিয়ার সর্ববৃহত্ ১৮ হোলবিশিষ্ট গলফ মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে এ জমি ন্যাম সম্মেলন উপলক্ষে জরুরিভিত্তিতে হোটেল, কান্ট্রি ক্লাব ও গলফ কোর্ট নির্মাণের জন্য লিজ নিয়ে কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয় কয়েকটি অখ্যাত পত্রিকায়। তখন ৭টি দেশ দরপত্রে অংশ নিলেও বিমানমন্ত্রীর ছেলে জড়িত থাকার সুবাদে সিঙ্গাপুরের নিবন্ধনকারী বাংলাদেশীদের মালিকানাধীন কোম্পানি ইপকো ইন্টারন্যাশনালকে কাজটি দেয়া হয়। ওই সময় মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ফ্রান্সের ৩টি কোম্পানি ৪০ বছরের জন্য লিজ নিয়ে সরকারকে প্রায় আড়াইশ’ কোটি টাকা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু তত্কালীন বিমানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছেলের প্রতিষ্ঠান ইপকো ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ একটি অস্বচ্ছ ও অসম চুক্তি সম্পাদন করে। এটি শুধু অসম চুক্তি বা সরকারের ক্ষতিই নয়, এমন চুক্তির নজির এদেশে আর দ্বিতীয়টি নেই। সে সময় কোনো ধরনের জরিপ, সম্ভাব্যতা যাচাই বা সমীক্ষা না করে এবং সরকারি আইন, নিয়ম-কানুন ও বিধি-বিধানের তোয়াক্কা না করে গোপনে কাজটি ইপকোকে দেয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করা হয়। চুক্তির শর্তে বলা হয়, লিজ বাবদ বছরে ৩ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার ভাড়া এবং মোট বিক্রির দেড় শতাংশ আয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) ৬০ বছরে সর্বমোট টাকার অঙ্কে ১০৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা পরিশোধ করবে। কিন্তু তখন এসব প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। এ অসম চুক্তির বিষয়ে সে সময় যুগান্তরে ফলাও করে সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হলে সরকারের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়। এরপর ২০০০ সালে তত্কালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন ও বেসামরিক বিমান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা (মরহুম) ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমদ আইনি মতামতের জন্য ফাইলটি অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতরে পাঠান। তখন সবকিছু বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত হয় যে, হয় এ অসম চুক্তিটি বাতিল করতে হবে, না হয় সরকারের স্বার্থরক্ষা করে পুনঃচুক্তি করতে হবে। এরই আলোকে চুক্তিটি বাতিলের উদ্যোগ নেন ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ। এ সিদ্ধান্তের অল্প কিছুদিন পরই অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় নির্বাচন এবং ক্ষমতায় আসে বিএনপি সরকার।
বিএনপি জোট সরকার ২০০১ সালের শেষদিকে ক্ষমতায় বসেই তত্কালীন বিমান প্রতিমন্ত্রী মীর নাছিরউদ্দিন লিজ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান ইপকো ইন্টারন্যাশনালের লোকজনের হাতে ‘ম্যানেজ’ হয়ে যান। কিন্তু তত্কালীন সরকারের প্রভাবশালী একটি মহল বাধ সাধলে একপর্যায়ে চুপ মেরে যান। তবে চুক্তিটি বাতিলের উদ্যোগ না নিয়ে তিনি হাইকোর্টের নির্দেশনার কথা বলে এটি ঝুলিয়ে রাখেন। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রায় দেড় বছর এ সংক্রান্ত ফাইলটি গোপন রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে ফাইলটি নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু হলেও মন্ত্রণালয়, বেবিচক ও ইপকোর লোকজন পরস্পর যোগসাজশে নানা মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করতে থাকে। তখন বলা হয়, ‘এটি একটি অস্বচ্ছ ও অসম চুক্তি। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং পরিবেশ বিঘ্নিত হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সম্পাদন না করার জন্য ইপকোর সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা যেতে পারে। মন্ত্রণালয়ের এমন মন্তব্যের পর পুরো বিষয়টি গোপন রেখে মহলবিশেষ কাজের সময় বাড়িয়ে নেয়ার জন্য তত্পর হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ২০০৮ সালের ২০ জুলাই বিনিয়োগ বোর্ডের সদস্য আবু রেজাকে প্রধান করে নতুন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি তিন মাস পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিমান উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল মতিনের কাছে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করে। এ রিপোর্টেও ইপকোর সঙ্গে সরকারের স্বার্থবিরোধী লিজ বাতিলের সুপারিশ করা হয়। এ সুপারিশের আলোকে মন্ত্রণালয়ে দুটি সভাও অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই আসে নির্বাচন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এলে সামিট গ্রুপকে হাত করে এ জমি দখলে নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে চক্রটি। বারবার বাধা পেয়ে অবশেষে সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যানের বড় ভাইকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়ার মালিক করা হলো।
পাঁচ তারকা হোটেল ও বহুতল শপিং কমপ্লেক্স বিমান চলাচলের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হবে : আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মূল নকশা ও পরিকল্পনা পরিবর্তন করে পাঁচ তারকা হোটেল ও বহুতল শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ৪৩৪ বিঘা জমি লিজ দেয়ায় আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইকাও) শাহজালাল বিমানবন্দরকে বিমান চলাচলের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ (সিগনিফিকেন্ট সেফটি কনসার্ন) বলে তালিকাভুক্ত করেছে। সিভিল এভিয়েশনের একটি সূত্র জানায়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মূল নকশায় ফিরে যেতে না পারলে আইকাও আন্তর্জাতিক কোনো ফ্লাইট শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন এবং অবতরণের অনুমতি দেবে না বলেও হুশিয়ার করে দিয়েছে। আইকা মনে করে, একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘেঁষে অপরিকল্পিতভাবে কোনো বহুতল ভবন নির্মাণ আন্তর্জাতিক শর্তের সম্পূূর্ণ লঙ্ঘন ও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। একই কারণে আমেরিকান ফেডারেল এভিয়েশন এজেন্সিও (এফএএ) শাহজালাল বিমানবন্দরকে ক্যাটাগরি টু থেকে ক্যাটাগরি ওয়ানে উন্নীত করেনি। দেশের একমাত্র প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এতবড় ক্ষতি ও দেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হলেও সরকার লিজ বাতিল না করে উল্টো এটি তাদের হাতে তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্টদের অনুমতি ছাড়াই সম্প্রতি প্রকল্প এলাকায় আবারও ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
তথ্যসূত্র : দৈনিক আমার দেশ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


