যুদ্ধাপরাধী বইলা আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচন পার করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম। টাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে রোববার রাতে টাঙ্গাইল শহীদ মিনারে ’৭১-এর কাদেরিয়া বাহিনী আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমি মনে-প্রাণে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। দেলাওয়ার হোসাইন সাইদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের চার্জ গঠন করা হয়েছে। তত্কালীন মুক্তিযুদ্ধের সময় দেলাওয়ার হোসাইন একজন ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা ছিলেন। আজকে তিনি জাতীয় নেতা। একজন জাতীয় নেতা হিসেবে সরকার তার বিচার করতে পারবে না। একইভাবে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীও একজন আঞ্চলিক নেতা ছিলেন। আজকে গোলাম আযম যুদ্ধাপরাধী। অথচ নুরুল ইসলামকে ধর্মমন্ত্রী বানানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, আওয়ামী লীগের বর্তমান কোষাধ্যক্ষ আনিছুর রহমান রাজাকার ছিলেন। এর প্রমাণ তার (কাদের সিদ্দিকী) কাছে রয়েছে। তার বিচার করুন। আনিছুর রহমানের মতো আরও অনেক আওয়ামী লীগ নেতার নাম উল্লেখ করে তাদের বিচারও দাবি করেছেন বঙ্গবীর আবদুুল কাদের সিদ্দিকী।
টাঙ্গাইল হানাদারমুক্ত দিবস উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক আবদুুস সবুর খান বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আজকে সরকারের লেজুড়বৃত্তিতে পরিণত হয়েছে। চাটুকারের বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের ঠাঁই নেই। চাটুকারী বেশি দিন খাটে না। মহাজোট সরকারের মন্ত্রীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমার বড় ভাই আবদুল লতিফ সিদ্দিকী একজন ব্যর্থ মন্ত্রী। লতিফ সিদ্দিকীর মতো একজন ব্যর্থ মন্ত্রী দেখে আমি অবাক হয়ে যাই। খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুুর রাজ্জাককে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, তুমি টাঙ্গাইল নিয়ে ষড়যন্ত্র করো না। যেদিন আমি শেখ হাসিনার কাছে যাব সেদিন ফানস ফুটে যাবে। আজ থাইল্যান্ড থেকে ১৩শ’ ৫০ টাকা মণ দরে চাল আমদানি করা হয়। অথচ এক হাজার টাকায় দেশের চাল কেনে না।
বঙ্গবীর আবদুুল কাদের সিদ্দিকী আফসোস করে বলেন, আমি জানি না মুক্তিযুদ্ধ করা ভুল হয়েছিল কি না। ১ লাখ ৪ হাজার অস্ত্র জমা দেয়া আমার জন্য কোনো অপরাধ হয়েছিল কি-না জানি না। আমি চেয়েছিলাম বঙ্গবন্ধুর কর্মী হয়ে থাকতে। মনে করেছিলাম আর যাই হোক মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধু থেকে আমাকে আলাদা করতে পারবে না। মরার পরে সম্মানের দরকার নাই। যে আওয়ামী লীগের জন্য জীবন দিয়েছি। বঙ্গবন্ধুর জন্য যৌবন দিয়েছি। সেই আওয়ামী লীগ আমাকে দেশে ফিরিয়ে আনেনি। আমাকে জেল খাটিয়েছে।
তিনি বলেন, টাঙ্গাইল হানাদারমুক্ত হয়েছে। কিন্তু হানাদারদের প্রেতাত্মা এখনও মুক্ত হয় নাই। সে কারণে আমি আর হানাদারমুক্ত দিবসে আলোচনা করতে এখানে (টাঙ্গাইল শহীদ মিনারের আলোচনা সভা) আসব না। আজ থেকে চিন্তা করব আমি মুজিব কোট পরব কি পরব না। জামায়াতকে বাদ দিলে ও ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন থেকে বিরত থাকলে বিএনপিতে যোগ দেয়ার ইঙ্গিতও দেন আবদুুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম।
তথ্যসূত্র: দৈনিক আমার দেশ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


