পৃথিবীর সবচেয়ে নির্যাতিত শ্রেণী হল শ্রমিক শ্রেণী। মহানবী (সা
ইসলামের দৃষ্টিতে শ্রম ও শ্রমিক
শ্রম ও শ্রমিক পরষ্পর ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শ্রম হলো, শারীরিক ও মানসিক কসরতের মাধ্যমে কোন কাজ অঞ্জাম দেয়া। যিনি কাজটি আঞ্জাম দেন তিনি শ্রমিক এবং যে কাজটি সম্পন্ন করা হয় তা ঢ়ৎড়ফঁপঃরড়হ বা উৎপাদন। সাধারণত পুঁজিহীন মানুষ, যারা তাদের পুঁজি বিনিয়োগের উপায় না থাকায় নিজেদের গতর খেটে পেট চালান, তাদেরকে শ্রমিক ও তাদের কাজটিকে শ্রম বলা হয়। শ্রমিক পুঁজিহীন, দ্ররিদ্র শ্রেণীর লোক বলে তাদের মধ্যে কোনরূপ লজ্জাজনক অনুভূতি ইসলাম সমর্থন করে না। ইসলামের দৃষ্টিতে হালাল কাজে ও হালাল পথে শ্রম বিনিয়োগ কিছুমাত্রও লজ্জার ব্যাপার নয়। বরং এ হচ্ছে নবী-রাসূলগণের সুন্নাত। প্রত্যেক নবী-রাসূলই দৈহিক পরিশ্রম করে উপার্জন করেছেন বলে হাদীসে উলে¬খ রয়েছে।
উপার্জনের প্রতি উৎসাহিত করতে যেয়ে স্বয়ং মহান আল¬¬াহ বলেন, “যখন তোমাদের সালাত শেষ হয়ে যাবে, তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় আর আল¬¬াহর অনুগ্রহ (রিযক) অন্বেষণে ব্যাপৃত হয়ে যাও” (সূরা জুম‘আ : ১০)।
ইসলাম সৎ উপার্জনের দিকে যেমন উৎসাহিত করেছে, তেমনি উৎসাহিত করেছে শ্রমের প্রতি। পক্ষান্তরে শ্রম না দিয়ে অলস ও বেকার বসে থাকা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ। হযরত আবদুল¬াহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, “কাউকে বেকার বসে থাকতে দেখলে আমার অসহ্য লাগে, জাগতিক কোন কাজও করে না অপরদিকে পরকালের নাজাতের জন্যও কোন প্রয়াস চালায় না”।
প্রসঙ্গত এখানে এটা প্রণিধানযোগ্য যে, আধুনিক অর্থনৈতিক মতাদর্শ শ্রমকে কেবল মানুষের পার্থিব জীবন ও তার উপায় উপকরণের তুলাদণ্ডে বিচার করেছে। তারা শ্রম দ্বারা মানুষের সেই মেধাগত ও শারীরিক অনুসন্ধানকেই কেবল উদ্দেশ্য করেছে যার বিনিময়ে সে শুধু পয়সাই পায়। কিন্তু মহানবী (সা
শ্রমিকের গুণাবলী
শ্রমিকের এমন কতিপয় গুণাবলী থাকা প্রয়োজন যা শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক অটুট রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। ইসলাম মালিকদের উপর অনেক দায়িত্ব যেমন অর্পণ করেছে তদ্রƒপ শ্রমকের উপরও আরোপ করেছে কিছু আবশ্যক ন্যায়নীতি। যেমন ঃ
১. আমানতদারিতা ঃ শ্রমিকের উপর অর্পিত দায়িত্ব অবশ্যই আমানতদারিতার সাথে সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় তাকে মহান আল¬¬াহর দরবারে জবাবদিহী করতে হবে। আল¬¬াহ বলেন, “সর্বোত্তম শ্রমিক সেই ব্যক্তি যে শক্তিশালী ও আমানতদার (দায়িত্বশীল) হয়” (সূরা কাসাস : ২৬)।
২. সংশি¬ষ্ট কাজের দক্ষতা ও যোগ্যতা ঃ দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজের জ্ঞান, যোগ্যতা ও দক্ষতা তার থাকতে হবে। শারীরিক ও জ্ঞানগত উভয় দিক থেকেই তাকে কর্মক্ষম হতে হবে।
৩. কাজে গাফলতি না করা ঃ ইসলাম কাজে গাফলতিকে কোনমতেই সমর্থন করে না। আল¬¬াহ বলেন, “দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়, যারা লোকের নিকট থেকে মেপে নেয়ার সময় পূর্ণ মাত্রায় গ্রহণ করে আর যখন তাদের জন্য মেপে অথবা ওজন করে দেয়, তখন কম দেয়” (সূরা মোতাফফিফীন : ১-৩)। আয়াতের অর্থ হলো, নিজে নেয়ার সময় কড়ায় গণ্ডায় আদায় করে নেয়। কিন্তু অন্যকে মেপে দিতে গেলে কম দেয়। ফকীহগণের মতে, এখানে তাওফীফ বা মাপে কম বেশী করার অর্থ হলো, পারিশ্রমিক পুরোপুরি আদায় করে নিয়েও কাজে গাফলতি করা। অর্থাৎ আয়াতে ঐসব শ্রমিকও শামিল যারা মজুরি নিতে কমতি না করলেও কাজে গাফলতি করে; কাজে ফাকি দিয়ে ঐ সময় অন্য কাজে লিপ্ত হয় বা সময়টা অলস কাটিয়ে দেয়। তাদেরকে কঠোর শাস্তির হুমকি দেয়া হয়েছে।
৪. নিজের কাজ হিসেবে করা ঃ কাজে নিয়োগ পাবার পর শ্রমিক কাজকে নিজের মনে করে সম্পন্ন করবে। অর্থাৎ পূর্ণ দায়িত্বশীলতার সাথে স্বতঃস্ফূর্ততার সাথে কাজটি সম্পাদন করে দেয়া তার দায়িত্ব হয়ে যায়।
৫. আখিরাতের সফলতার জন্য কাজ করা ঃ একজন শ্রমিক তার শ্রমের মাধ্যমে যে অর্থ উপার্জন করবে তা যেন হালাল হয় এবং এর বিনিময়ে পরকালীন সফলতা লাভে ধন্য হয় তার প্রতি লক্ষ্য রাখবে। সেবার মানসিকতা নিয়ে পরম আগ্রহ ও আনন্দের সাথে কাজটি সম্পন্ন করাই হবে শ্রমিকের নৈতিক দায়িত্ব।
শ্রমিকদের মর্যাদা
ইসলাম শ্রমিকদের যে মর্যাদা দেয় পৃথিবীর যে কোন ইতিহাসের যে কোন অধ্যায়ের সমাজ ব্যবস্থায় তা নযীরবিহীন। মহানবী (সা
মহানবী (সা
কেউ যদি শ্রমিকের মজুরী না দেয় অথবা দিতে গড়িমসি করে, তার বিষয়ে বলতে গিয়ে তিনি ইরশাদ করেছেন, “কিয়ামতের দিন যে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আমার অভিযোগ থাকবে, তাদের একজন হলো, এমন লোক যে কাউকে শ্রমিক নিয়োগ করে কাজ পুরোপুরি আদায় করে নিলো অথচ মজুরী দিলো না” (বুখারী শরীফ)।
মজুরী না দেয়ার অর্থ কেবল মজুরী না দিয়ে তা মেরে খাওয়া নয়, বরং যে পরিমাণ মজুরী প্রাপ্য, তা ষোল আনায় না দেয়া আর তার সরলতার সুযোগে কাজ করিয়ে নিয়ে সামান্য মজুরী দেয়া।
উপসংহার ঃ বিশ্বমানবতার মুক্তির দিশারী মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


