somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঈদের জামাত নিয়ে ডাক্তার জাকের নায়েকের উপর লিখা এবং এ সম্পর্কিত কতিপয় মন্তব্য প্রসংগে

১১ ই মার্চ, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঈদের জামাত ও জুম্মার নামাজ আদায় সম্পর্কে একটি লিখা এবং এর উপর কয়েকটি মন্তব্য চোখে পড়েছে । ভাবছিলাম এড়িয়ে যাব, কিন্তু দু একটি প্রাসংগিক ভাবনা সকলের সাথে শেয়ারের ইচ্ছে থেকে গুটি কয়েক কথা পোষ্ট করার বাসনা হলো।

প্রথমেই মনে হলো প্রতিটি মুসলমানের জন্য অবশ্য পালনীয় হলো কোরান ও হাদিছ [( রাসুল (সা:) যা বলেছেন ও করেছেন]। কোরান ও হাদিসে যা পরিস্কার, তার মধ্যে কোন বিভেদ বিভ্রান্তি টেনে আনা কি জায়েজ ? কোরান হাদিসের মিমাংসিত অতি সহজ সরল বিষয়াবলী নিয়ে তর্ক বিতর্ক জোরে দেয়ার জন্যই মূলত পরবর্তীতে বিভিন্ন মজহাবের সৃস্টি হয়েছে বলেই প্রতীয়মান হয়, কেননা বিভিন্ন মজহাবের মধ্যে বৈপরিত্ব মূলক অনেক বিষয়ের অবতারণা দেখা যায় । মজহাবের প্রবক্তা চিন্তাবিদগন ধর্ম বিষয়ে খুবই পন্ডিত তাতে কোন সন্দেহ নেই, তাদের ধারালো যুক্তিরসামনে দাঁড়ানো সাধারন কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় । প্রশ্ন হলো কোরান হাদিস আগে না মজহাব আগে । কোরান হাদিস থেকে মজহাব পয়দা হয়েছে না মজহাব থেকে কোরান হাদিস হয়েছে । যেহেতু মজহাব পয়দা হওয়ার অনেক পুর্বেই কোরান ও হাদিস আবির্ভুত হয়েছে সেহেতু এর সাথে বিরোধপুর্ণ কোন কিছু, সে যে মজহাবই হোক না কেন অটোমেটিক নাল এন্ড ভয়েড হয়ে যায় ।

বর্তমান যুগে যেখানে ইসলামের মূল অনুসরণীয় কোরান ও সুন্দর প্রাঞ্জল ভাষায় রচিত এর সঠিক অনুবাদ পাওয়া যায় , সে ক্ষেত্রে কোরানে যা বলা হয়েছে এবং হাদিসে যে সমস্ত পরিস্কার নির্দেশনা ও উপমা রয়েছে তা অনুসরন করাই একান্ত ভাবে উচিত । কোরান হাদিসে কোথাও বলা নেই মজহাব অনুসরন করতে । বরং কিছু অতি সম্মানিত বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ সৃজিত সব মজহাবেই বলা হয়েছে কোরান ও হাদিসকে অনুসরন করতে । যেহেতু কোরান ও সহি হাদিস প্রন্থ এখন সহজেই পাওয়া যাচ্ছে সেহেতু পুর্ব পচ্মিমে অনুসরিত কয়েকটি বিছ্ছিন্ন ঘটনাকে মজহাবের কাঠামোই ঢেলে তা অনুসরন করতে বলা কোন মতেই ইসলামী দর্শন হতে পারেনা । মজহাব নিয়ে মাতামাতি করে তো দেখা যায় যে শুধুই দেশে দেশে ইসলামী মতবাদের বিভক্তিই হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে । তাই সকল ধরনের বিভ্রান্তির হাত থেকে মুক্ত হয়ে কোরানে ও হাদিসে অতি সহজভাবে যা করতে বলা হয়েছে তা করাই কর্তব্য । আল্লা তায়ালা কোরানকে বলেছেন একটি পরিপুর্ণ বিষয়, এর সাথে আর কিছু যুক্ত বিযুক্ত হতে পারেনা । নবি করিম( সা:) ও বিদায় হজে বলেছেন ইসলামকে আজ থেকে পরিপুর্ণ হিসাবে ঘোষনা করা হলো । এর পর সংগত ভাবেই এর সাথে আর কিছু যোগ বিয়োগের সুযোগ নেই । তবে হা বিশেষ প্রয়োজনে যথা প্রাকৃতিক কারণে ক্ষেত্র বিশেষে ইসলামী আচার অনুষ্ঠান প্রতিপালনে দুই একটি ব্যতিত্রম হয়েছে তবে বিশেষ প্রয়োজনে ব্যতিক্রমি কোন বিষয় স্বত:সিদ্ধভাবে একটি নিয়মে পর্য়বেশিত হয়না , শুধুমাত্র অনুরূপ ব্যতিক্রমি ক্ষেত্রের জন্যই তা প্রযুয্য হয়। পবিত্র কোরানের সাথে যদি কিছু সাংগর্ষিক হয় তবে তা অনুসরন না করার জন্যই তাগিদ দেয়া হয়েছে । তাই পরিপুর্ণ ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয়ে শুধু শুধু অতি পান্ডিত্যপুর্ণ কথামালার ফুলঝুরীতে পরিপুর্ণ বিভিন্ন মজহাবের বিভিন্ন মতবাদের অাস্টে পৃস্টে বন্দি না ধেকে সিরাতুম মুসতাকিম সহজ সরল পথের দিশারী কোরান অনুযায়ী ব্যাক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক , রাস্টিয় ও বৈশ্বিকভাবে ইসলামকে পালন করাই শ্রেয়তম । তাই বিশিস্ট কোন চিন্তাবিদ যথা চিকিৎসক জাকের নায়েক, কিংবা প্রাথমিক যুগ থেকেই ইসলামের নীতি আদর্শের প্রতি পরস্পর বৈপরিত্বমূলত ধারণা ও মতবাদ জম্মদানকারী বিভিন্ন মজহাবী ধ্যান ধারনাকে প্রাধান্য না দিয়ে, কোরান ও সহি হাদিস এর শ্পস্ট নির্দেশনা ও পদ্বতি আনুসরন করাই অধিক যুক্তি সংগত ।

ইসলামী বিষয়াদি নিয়ে কোন আলোচনাকে নিছক প্যাচাল না বলে একে নিয়ে একটি সঠিক ধারণায় আসার জন্য মুক্তমনা লেখকদের আলোচনার একটি মাধ্যম হিসাবে গন্য করাই শ্রেয় মনে করি । এখানে এ দেশের একজন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ প্রয়াত মৌলানা আকরাম খা রচিত 'আহকাম ও আখলাক' শীর্শক একটি বিখ্যাত প্রবন্ধের একটি অতি মূল্যবান বক্তব্য কে তুলে ধরছি । তিনি উপযুক্ত যুক্তি তর্ক ও প্রাসংগিক রেফারেন্স দিয়ে বলেছেন যে ইসলামী বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা সমালোচনাকারী উভয়েই পুন্যের ভাগী হবেন । কারণ আলোচনা সমালোচনা থেকেই বেরিয়ে আসবে সঠিক সত্য । কাওকেই তাই নিরোৎসাহিত করা কাম্য নয় ।

উপরে বর্ণিত দৃস্টি ভংগী নিয়ে ইসলাম সম্পর্কিত বিষয়াদির আলোচনাকে বিবেচনা করলে এ নিয়ে অহেতুক হানাহানি বন্ধ হতে পারে । মুক্তমনাদের উপর মৌলবাদীদের ধ্যান ধারণাতেও পরিবর্তন আসলেও আসতে পারে । ধর্মীয় বিশ্বাস এর বাইরে তাদের যদি অন্য কোন মিশন থাকে তবে অবশ্য তা আশা করাই বৃথা।




সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মার্চ, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৩৮
২৪টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সাবধান!!!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৪



যারা প্রধানমন্ত্রীর হাতে মরা মাছ ধরিয়ে দিয়ে পানিতে ছাড়তে বলেন, তারা কেমন মানুষ!!!.....এটা কেমন তামাশা!!! স্লোগান দেওয়া বাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আসার আগে মাছগুলো চেক করার কথা একবারও মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ সরকারের কাছে সোলার এনার্জি বিক্রি করা কতটা লাভজনক?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৭



যারা আগামী ৬ মাসের মধ্যে বাড়ির ছাদে সোলার সিস্টেম ইন্সটল করবেন, তাঁদেরকে বাংলাদেশ সরকার প্রত্যেক ইউনিট ইলেক্ট্রিসিটির জন্যে ১০.৫০ টাকা করে দিবে। রুফটপে সোলার এনার্জি প্ল্যান্ট বসিয়ে লাভ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্পর্ক ও আত্মহত্যা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৪৭



কাউকে আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে বিয়ে করা অথবা আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে অথবা ব্ল্যাকমেইল করে গুরুতর মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতনের মাধ্যমে কাউকে বিয়েতে বাধ্য করা। - বিশ্বের যে কোনো দেশের আইনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২ লাখ কর্মীর খবর ভুয়া - তবে ২৫ টা সাদা হাতি আসছে!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০২



স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, মালয়েশিয়া সেপ্টেম্বর মাস থেকে ধাপে ধাপে ২ লাখ কর্মী নেবে ।

আগামী ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ কর্মী নেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×