পরিচিত কারো সাথে সাক্ষাত হলে আমি সাধারনত তাকে তিনটি প্রশ্ন করি-'কেমন আছেন? দিনকাল কেমন যাচ্ছে? ব্যাপারটা কী?' মানুষের সাথে সাাতে এসব ছাড়া অন্য কোন বিষয়ে আলাপ করার মত শব্দ হয়তো আমার ডিকশনারীতে নেই। আমি মনে হয় লোকটা একটু বোকা টাইপের! তবে আমার চেয়ে বোকা সেই লোকগুলো যারা শত সমস্যার মাঝে থাকার পরও হেসে হেসে জবাব দেয়-ভাল আছি; দিনকাল ভালই যাচ্ছে।'আর মনে হাজারো কষ্ট নিয়েও সুখবরটা জানায় ইনিয়ে বিনিয়ে। কিন্তু প্রথম ব্যতিক্রমটা ঘটলো কিছুদিন আগে। পাড়ার চলি্লশোর্ধ মান্নান ভাইয়ের সাথে সাাত হবার পর আমার আর তিনিটি প্রশ্ন করার প্রয়োজন হয়নি। প্রথম প্রশ্ন 'কেমন আছেন?' জিজ্ঞেস করার পর পরই বললেন 'ভাল নেই'। দ্বিতীয় প্রশ্নে না গিয়ে আমি সরাসরি চলে গেলাম তৃতীয় প্রশ্ন-'ব্যপারটা কী?' জানতে। তার সাথে কথোপকথনের কিছু অংশ তুলে দেয়া হল।
-ভাই আমার মেয়েটা সরকারী মহিলা কলেজে প্রথম বর্ষে পড়ে। আর ছেলেটা পড়ে কাস টেনে একটা বয়েজ স্কুলে।
- খুব ভাল। ওরা লেখাপড়া শিখে মানুষ হচ্ছে এতে গর্বিত হবার কথা।
-ভাল! তবে প্রতিদিন স্কুলে কিংবা কলেজে যাবার সময় প্রত্যেককে হাত খরচ ও টিফিন বাবদ 50 টাকা করে দেই।
-দিতেতো হবেই। ছেলে মেয়েকে মানুষ করতে হলে এরকম খরচ করতেই হয়। তো আপনার মন খারাপ কেন?
-সমস্যাটাইতো ছেলে মেয়েকে টাকা পয়সা দেয়া নিয়ে।
-কেন ভাবি বুঝি ব্যাপারটা মানতে পারেন না? নাকি আপনার ইনকাম সোর্সে কোন সমস্যা?
-মিয়া, তুমি দেখি এখনো বৃটিশ আমলে বাস করতাছো। জানোনা মোবাইল কোম্পানীগুলো এখন খুব সস্তায় সিম দিচ্ছে আর সাথে দিচ্ছে ফ্রি কলের সুযোগ।এ সুযোগ কেউ দিচ্ছে রাতের বেলায় আর কেউ দিচ্ছে দিনে।
-ভালোইতো। আমরা এখন সস্তায়, ফ্রি কথা বলতে পারছি! একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে পারছি।
-ভাইরে! আমার ভয় হচ্ছে আমার ছেলে মেয়ে দুটোকেই নিয়ে। ওদেরকে দেয়া টিফিনের টাকা জমিয়ে যদি ওরা সস্তায় মোবাইল সিম কিনে রাত বিরাতে অন্যের সাথে কথা বলে। মানে মেয়েটা যদি কোন ছেলের সাথে কিংবা ছেলেটা যদি কোন মেয়ের সাথে আলাপ জোরে বসে। ওরাতো ওদের রুমে থাকে। রাতের বেলা তো আর ওরা কার সাথে ফোনে আলাপ করেছে সেটা দেখতে পারবোনা।
-ভাই গাবড়ায়েননা। রাতের বেলায় মাঝে মাঝে তাদের মোবাইলে রিং দিবেন। যদি দেখেন মোবাইল বিজি তাইলে একটা সুরাহা না হয় করলেন।
-আবারো বেকুবের মতো কথা কও! ওরা কি আর কথা বলার সময় পুরনো নাম্বার ব্যবহার করবে? পুরনো নাম্বার গুলোতেতো আর ফ্রি কলের সুযোগ দেয় নাই। রাতের বেলায় মোবাইলে রিং দিলে শুধু শোনা যায় একটা মহিলার কন্ঠে 'এই মূহুর্তে মোবাইল সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা।' আমিতো প্রথম প্রথম ভাবতাম ছেলে মেয়েগুলো আমার খুব ভদ্র। রাতে মোবাইল বন্ধ রাখে। কিন্তু ইদানিং দেখি দিনের বেলায় ওরা একটু বেশী ঘুমোয়। আমার সন্দেহটা তখন থেকেই।
আমি মান্নান সাহেবের কথার কোন জবাব দেইনা। তার কথাগুলি আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয়। মান্নান সাহেব আবার বলতে শুরূ করেন।
-রাত 11টা কিংবা 12টার পর অফ পিক আরম্ভ হলে একটু কমরেটে কারো সাথে কথা বরবো সেটা আর হয়ে উঠেনা। মোবাইলের বাটন যতই চাপি শুধু নেটওয়ার্ক বিজি দেখায়। কী যে করি? যাক্ তুমি সাবধানে থেকো। নতুন বিয়ে করেছ। বউটার প্রতিও একটু খেয়াল রেখো। বলাতো যায়না। রাতের বেলায় তোমার পাশ থেকে উঠে গিয়ে আবার কারো সাথে কথা বলা শুরু করে কিনা!
-ভাই, ছেলে মেয়ের উপর বিশ্বাস হারায়েন না।
-কী যে বল। বিশ্বাস হারাবো না কেন? যে সিম কিনেছিলাম 7 হাজার টাকায় তা আজ ওরা বিক্রি করছে 2শত টাকায়। ওরা আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ওরা আমাদের পুরনো সংযোগে কোন সুবিধা না দিয়ে কেবল সিম বিক্রির স্বার্থে সুবিধার পর সুবিধা দিয়ে যাছ্ছে।
বিশ্বাস না হারানো প্রসঙ্গে অনেক কথাবাতর্া বলে মান্নান সাহেবের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে এলাম। রাতে ঘুমোবার আগে অনেকন মান্নান সাহেবের কথাগুলো চিন্তা করে করেই ঘুমিয়ে পড়লাম।
কয়েকদিন পর শুনতে পেলাম মান্নান ভাইয়ের মেয়েটা একটা বকাটে ছেরের হাত ধওে পারিয়েছে আর ছেলেটা ইদানিং পাংকা টাইপের হয়ে গেছে। কাপড় চোপড় আর বেশ ভুষায় বলিউডের নায়কের ফ্যাশন ধরেছে। আর সবচেয়ে বড় যে ধাক্কাটা খেয়েছি সেটা হলো গত রাতে আমি ঘুমের বান কওে শুয়েছিলাম। রাত তিনটার পর দেখলাম বউ আমার যাকে নিজের চেয়েও বেশী বালবাসি সে তার পুরনো প্রেমিক খালাতো ভাইয়ের সাথে প্রেমালাপে মত্ত। আজ সকালে অবশ্য তাকে তার বাড়ি পাঠিয়েছি। মান্নান সাহেবের মতো আমিও আজ দোদুলম্যান। আমিও আজ বিশ্বাস হারা
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




