আমি জীবন যুদ্ধে হেরে যাওয়া একজন মানুষ! জীবনের কাছে পরাজিত হয়েছি বারবার! যারা ষাড়ের লড়াই দেখেছেন তারা হয়তো জানেন, লড়াইয়ে হেরে যাওয়া ষাড়টা থাকে রক্তে রঞ্জিত, আহত ক্ষত বিক্ষত প্রচন্ডভাবে। হেরে যাওয়া সে ষাড়টাকে বাজারে বিক্রি করে দিতে হয় কম দামে কিংবা জবাই করে বিক্রি করতে হয় তার মাংস! আমার অবস্থা এখন হেরে যাওয়া ষাড়টির চেয়েও করুণ। আমি রক্তাক্ত, আহত প্রচন্ডভাবে। তবে সেটা শারীরিকভাবে নয়, মানসিক ভাবে।
আমার জীবনটা চলছিলো স্বাভাবিক গতিতে। কিন্তু হঠাৎ করে যে কী হয়ে গেলো ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। একটা ফোন, একটা মেয়েলী কন্ঠ আমাকে বদলে দিতে শুরু করলো আমূল ভাবে। আমি হারালাম আমার জীবনের স্বাভাবিকত্ব। হারালাম সবই! মেয়েটির সাথে আমার কোনদিন দেখা হয়নি। (ভবিষ্যতে দেখা হবার সম্ভাবনাও কিঞ্চিত! ) কেবল ফোনেই যোগাযোগ। আর সেখান থেকেই বদলে যাওয়া শুরু। এক পযর্ায়ে আমি আবিস্কার করি যে আমি তাকে আস্তে আস্তে ভালবাসতে শুরু করেছি। তাকে ভালবেসে ফেলেছি। কিন্তু জীবনে প্রথম কোন নারীকে আমার ভাললাগার কথাটা বলতে আমি বারবার বিব্রত হচ্ছিলাম। কীভাবে বলতে হবে, কোন এংগেলে বলতে হবে কিছুই বুঝতে পারছিলামনা। তারপরও অনেক চেষ্টার পর একদিন তাকে বলেই ফেললাম। কিন্তু আমি যা জানলাম তাতে আমার বুকের ভিতর যে ভাঙ্গন স্মৃষ্টি হল তা আর থামানো গেলনা। আমি হেরে যাওয়া ষাড়ের চেয়েও মারাত্বকভাবে ক্ষত বিক্ষত হলাম। হৃদয়ের সেই ঘা আজও শুকায়নি।
তার সাথে আমার চার চক্ষুর মিলন হয়নি সত্যি, দুটি দেহ কাছাকাছি আসেনি, তারপরও আমি তার প্রেমে উম্মাদ হয়ে গেলাম! আমি জানিনা তথাকথিত সমাজে হয়তো এটাকে আমার পাগলামী বলা হবে। কিন্তু আমি মনে করি এটাই হয়তো প্রেমের চরম স্বার্থকতা। দুজনের মনের মাঝে কেবল মিল হলেই যে প্রেম গড়ে উঠেই সেটাই আমার মতে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালবাসা।
কিন্তু আহত-ক্ষত বিক্ষত অবস্থা থেকে আমি ফিরতে পারলামনা। ফিরতে পারিনি আজো! আসলে তখন আর ফিরে আসার সময় ছিলনা। ছিলনা নিজেকে বুঝানোর মতো কোন শক্তিও। আমি ধীরে ধীরে শেষ হতে লাগলাম। এবং একপযর্ায়ে শেষ হলামও।
আপনারা হয়তো আমাকে অনেকেই ভাবছেন বোকা! আসলে আমি একটা বোকা ছেলেই। যে ছেলে একটা মেয়েকে না দেখে, কেবল ফোনের কথায় ভালবাসতে পারে তাকে আর যাই হোক চালাক বলা যায়না।
তবে একটা জিনিস ভেবে দেখবেন, তথাকথিত সমাজের প্রেম ভালবাসায় আমি বিশ্বাসী ছিলামনা, এখনো নই। আমার ভালবাসায় কোন খাদ নেই, ছিলনা, ভবিষ্যতেও থাকবেনা।
আমি জানিনা কতটুকু ভালবাসলে কতটা কাছে আসা যায়, কতটা ভালবাসলে ধীরে ধীরে অস্বাভাবিক হয়ে উঠা যায়!
আমি জানি তাকে আমার করে কোনদিনই পাবোনা। আর সব ভালবাসার স্বার্থকতা কি কেবল বিয়েতেই? তা নয়। কিছু কিছু মানুষের কিছু কিছু ভালবাসা থাকে যেগুলো হয়তো কোনদিন শেষ হয়না। হয়তো আমারটাও.......
আমার সাথে তার কথাবাতর্া এখনো হয়। গতকাল সে আমাকে অনুরোধ করেছে আমি যেন সিগারেট খাওয়াটা ছেড়ে দেই। আমার জীবনে কোন মেয়ের আবদার এটাই প্রথম। তাই আমি তাকে কথা দিয়েছি আমি সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিব। কারন ভালবাসার মানুষটা একটা আবদার করেছে আর সেটা যদি আমি না রাখি তবে সেটা হবে ভালবাসার প্রতি একটি চরম অবমাননা।
আপনারা হয়তো অনেকেই মেয়েটাকেও কিছু দোষ দিবেন। কিন্তু সেটা মনে হয় ঠিক হবেনা। আমি জানি আমার প্রতি সে হয়তো ভালবাসার হাত বাড়িয়ে দিতে পারেনি, পারেনি প্রেমিক হিসেবে মেনে নিতে। কিন্তু সে একজন ভাল বন্ধু হিসেবে আমাকে ভাবে সবসময়ই।
পাঠক, আমি যতটুকু আবেগ নিয়ে লেখাটি লেখছি তার শতভাগের একভাগ আবেগও আপনাদের স্পর্শ করবেনা। যদি করেও সেটা হবে আমার প্রতি আপনাদের করুণারই বহিঃপ্রকাশ।
একবার ভাবতে পারেন একটা অচেনা, অজানা, অদেখা মেয়েকে কতটুকু ভালবাসলে একটা ছেলের জীবনটাই পুরোপুরি এলামেলো হয়ে যায়?
কেউ কি আমাকে একফোটা শান্তির পথ বাথলে দিবেন কিংবা দিবেন এক টুকরো শান্তির সন্ধান। নাকি মৃত্যুর স্পর্শই সকল শান্তির উৎস?
পাঠক, মেয়েটির প্রেমিক বর্তমানে প্রচন্ড অসুস্থ্য হয়ে ক্লিনিকে ভর্তি। আপনারা তার জন্য একটু দোয়া করবেন। আমি চাইনা কোনদিন আমার প্রিয়তমার কান্না ভরা চোখ দেখতে। আমি চাই তাদের একটা সুখী-সুন্দর জীবন।
---সংগত কারনেই মেয়েটি এবং তার প্রেমিকের পরিচয়টি গোপন রাখা হল। কারণ তাদের পরিচয় দিলে অনেকেই তাদেরকে চিনে ফেলবেন। প্লিজ, শুধু আমার দুঃখের কাহিনীটা জেনে রাখুন। তাদের পরিচয় নয়।---
(বাকীটুকু আগামীতে লেখার ইচ্ছে রইল)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




