somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি জীবন যুদ্ধে হেরে যাওয়া একজন মানুষ!

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সকাল ৭:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানুষের জীবনটা কেন এরকম হয়? কেন মানুষ নির্মম নিয়তির কাছে বারবার হেরে যায়? কেন একজন মানুষ অন্য একজন মানুষের হাতের খেলনা হয়? মানুষ কেন জীবন যুদ্ধে হেরে যায়?

আমি জীবন যুদ্ধে হেরে যাওয়া একজন মানুষ! জীবনের কাছে পরাজিত হয়েছি বারবার! যারা ষাড়ের লড়াই দেখেছেন তারা হয়তো জানেন, লড়াইয়ে হেরে যাওয়া ষাড়টা থাকে রক্তে রঞ্জিত, আহত ক্ষত বিক্ষত প্রচন্ডভাবে। হেরে যাওয়া সে ষাড়টাকে বাজারে বিক্রি করে দিতে হয় কম দামে কিংবা জবাই করে বিক্রি করতে হয় তার মাংস! আমার অবস্থা এখন হেরে যাওয়া ষাড়টির চেয়েও করুণ। আমি রক্তাক্ত, আহত প্রচন্ডভাবে। তবে সেটা শারীরিকভাবে নয়, মানসিক ভাবে।

আমার জীবনটা চলছিলো স্বাভাবিক গতিতে। কিন্তু হঠাৎ করে যে কী হয়ে গেলো ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। একটা ফোন, একটা মেয়েলী কন্ঠ আমাকে বদলে দিতে শুরু করলো আমূল ভাবে। আমি হারালাম আমার জীবনের স্বাভাবিকত্ব। হারালাম সবই! মেয়েটির সাথে আমার কোনদিন দেখা হয়নি। (ভবিষ্যতে দেখা হবার সম্ভাবনাও কিঞ্চিত! ) কেবল ফোনেই যোগাযোগ। আর সেখান থেকেই বদলে যাওয়া শুরু। এক পযর্ায়ে আমি আবিস্কার করি যে আমি তাকে আস্তে আস্তে ভালবাসতে শুরু করেছি। তাকে ভালবেসে ফেলেছি। কিন্তু জীবনে প্রথম কোন নারীকে আমার ভাললাগার কথাটা বলতে আমি বারবার বিব্রত হচ্ছিলাম। কীভাবে বলতে হবে, কোন এংগেলে বলতে হবে কিছুই বুঝতে পারছিলামনা। তারপরও অনেক চেষ্টার পর একদিন তাকে বলেই ফেললাম। কিন্তু আমি যা জানলাম তাতে আমার বুকের ভিতর যে ভাঙ্গন স্মৃষ্টি হল তা আর থামানো গেলনা। আমি হেরে যাওয়া ষাড়ের চেয়েও মারাত্বকভাবে ক্ষত বিক্ষত হলাম। হৃদয়ের সেই ঘা আজও শুকায়নি।

তার সাথে আমার চার চক্ষুর মিলন হয়নি সত্যি, দুটি দেহ কাছাকাছি আসেনি, তারপরও আমি তার প্রেমে উম্মাদ হয়ে গেলাম! আমি জানিনা তথাকথিত সমাজে হয়তো এটাকে আমার পাগলামী বলা হবে। কিন্তু আমি মনে করি এটাই হয়তো প্রেমের চরম স্বার্থকতা। দুজনের মনের মাঝে কেবল মিল হলেই যে প্রেম গড়ে উঠেই সেটাই আমার মতে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালবাসা।
কিন্তু আহত-ক্ষত বিক্ষত অবস্থা থেকে আমি ফিরতে পারলামনা। ফিরতে পারিনি আজো! আসলে তখন আর ফিরে আসার সময় ছিলনা। ছিলনা নিজেকে বুঝানোর মতো কোন শক্তিও। আমি ধীরে ধীরে শেষ হতে লাগলাম। এবং একপযর্ায়ে শেষ হলামও।
আপনারা হয়তো আমাকে অনেকেই ভাবছেন বোকা! আসলে আমি একটা বোকা ছেলেই। যে ছেলে একটা মেয়েকে না দেখে, কেবল ফোনের কথায় ভালবাসতে পারে তাকে আর যাই হোক চালাক বলা যায়না।
তবে একটা জিনিস ভেবে দেখবেন, তথাকথিত সমাজের প্রেম ভালবাসায় আমি বিশ্বাসী ছিলামনা, এখনো নই। আমার ভালবাসায় কোন খাদ নেই, ছিলনা, ভবিষ্যতেও থাকবেনা।
আমি জানিনা কতটুকু ভালবাসলে কতটা কাছে আসা যায়, কতটা ভালবাসলে ধীরে ধীরে অস্বাভাবিক হয়ে উঠা যায়!

আমি জানি তাকে আমার করে কোনদিনই পাবোনা। আর সব ভালবাসার স্বার্থকতা কি কেবল বিয়েতেই? তা নয়। কিছু কিছু মানুষের কিছু কিছু ভালবাসা থাকে যেগুলো হয়তো কোনদিন শেষ হয়না। হয়তো আমারটাও.......
আমার সাথে তার কথাবাতর্া এখনো হয়। গতকাল সে আমাকে অনুরোধ করেছে আমি যেন সিগারেট খাওয়াটা ছেড়ে দেই। আমার জীবনে কোন মেয়ের আবদার এটাই প্রথম। তাই আমি তাকে কথা দিয়েছি আমি সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিব। কারন ভালবাসার মানুষটা একটা আবদার করেছে আর সেটা যদি আমি না রাখি তবে সেটা হবে ভালবাসার প্রতি একটি চরম অবমাননা।
আপনারা হয়তো অনেকেই মেয়েটাকেও কিছু দোষ দিবেন। কিন্তু সেটা মনে হয় ঠিক হবেনা। আমি জানি আমার প্রতি সে হয়তো ভালবাসার হাত বাড়িয়ে দিতে পারেনি, পারেনি প্রেমিক হিসেবে মেনে নিতে। কিন্তু সে একজন ভাল বন্ধু হিসেবে আমাকে ভাবে সবসময়ই।

পাঠক, আমি যতটুকু আবেগ নিয়ে লেখাটি লেখছি তার শতভাগের একভাগ আবেগও আপনাদের স্পর্শ করবেনা। যদি করেও সেটা হবে আমার প্রতি আপনাদের করুণারই বহিঃপ্রকাশ।
একবার ভাবতে পারেন একটা অচেনা, অজানা, অদেখা মেয়েকে কতটুকু ভালবাসলে একটা ছেলের জীবনটাই পুরোপুরি এলামেলো হয়ে যায়?
কেউ কি আমাকে একফোটা শান্তির পথ বাথলে দিবেন কিংবা দিবেন এক টুকরো শান্তির সন্ধান। নাকি মৃত্যুর স্পর্শই সকল শান্তির উৎস?

পাঠক, মেয়েটির প্রেমিক বর্তমানে প্রচন্ড অসুস্থ্য হয়ে ক্লিনিকে ভর্তি। আপনারা তার জন্য একটু দোয়া করবেন। আমি চাইনা কোনদিন আমার প্রিয়তমার কান্না ভরা চোখ দেখতে। আমি চাই তাদের একটা সুখী-সুন্দর জীবন।

---সংগত কারনেই মেয়েটি এবং তার প্রেমিকের পরিচয়টি গোপন রাখা হল। কারণ তাদের পরিচয় দিলে অনেকেই তাদেরকে চিনে ফেলবেন। প্লিজ, শুধু আমার দুঃখের কাহিনীটা জেনে রাখুন। তাদের পরিচয় নয়।---

(বাকীটুকু আগামীতে লেখার ইচ্ছে রইল)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নজির

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০২

নজির
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সুখ নাই, আনন্দ নাই, নাই শান্তি
একলা চলতে চলতে উদাসী
আত্মভোলা, মনভোলা, বেখেয়ালি
প্রতিমুহূর্ত লাগে যেন গোধূলি!
আমার ব্যক্তিত্বে, চিন্তা, চেতনায়
কেউ আটকায় না, হয় না আকৃষ্ট!

নিঃসঙ্গ বিষাদযুক্ত ঘুরতে ঘুরতে
হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বাস আর সংগ্রামই একদিন সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২



আওয়ামী লীগের ইতিহাস কোনো সহজ পথে হাঁটেনি। রক্ত, ত্যাগ আর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এই দলের জন্ম, আর সেই জন্মসূত্রের গৌরব আজও অক্ষুণ্ণ- ণ্কারণ ইতিহাস সাক্ষী, এই দল কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×