আল কুরআন মানবজাতির পথপ্রদর্শক। এটি শুধুই ধর্মগ্রন্থ নয় কিংবা আধ্যাত্মিক জ্ঞান ভান্ডার নয়। আল কুরআন এমন একটি গ্রন্থ যাতে রয়েছে ব্যক্তি, পরিবার, গোত্র,সমাজ, রাজনীতি, রাষ্ট্র এবং আন্তজার্তিক ক্ষেত্রে মানবজাতির জন্য পুনর্াঙ্গ ও আদর্শ নির্দেশনা। আল কুরআন দর্শন, বিজ্ঞান, আইন এবং সকল কঠিন দুবের্াধ্য বিষয়ের উপর অবস্থান করছে তার একচ্ছত্র বৈশিষ্টের কারনে। মানুষের দেখা-অদেখা, চিন্তা এবং চিন্তা শক্তির বাইরে যা আছে তা নিয়েও আল কুরআনে রয়েছে বিস্তর আলোচনা। বড় বড় বিজ্ঞানী ও মনিষীগন দিন দিন গবেষণা করে যার সত্যতা খুজে পাচ্ছেন। ফলে বিধমর্ী বিজ্ঞানী, মনীষী, দার্শনিকরা একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন আল কুরআনের শ্রেষ্ঠত্বকে। কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় আজ মুসলমানরা আল কুরআনের শিক্ষা থেকে অনেক দুরে অবস্থান করছে। ফলে তারা পদে পদে হচ্ছে লাঞ্চিত, শোষিত ও নিযর্াতিত। আল কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষিত হয়েছে যুগে যুগে। বড় বড় মনীষীগণ মনে করেন যদি কোন জাতি আল কুরআনকে আকড়ে পড়ে থাকে তবে তাদের সফলতা অনিবার্য । অমুসলিম মনীষী যারা আল কুরআনকে বুঝে শুনে পড়েছেন তারাও এর পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তারা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস না করে ভিন্ন ধর্মের উপাসক হয়েও কুরআনকে তারা ঐশী গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত দিতে কুন্ঠাবোধ করেননি। প্রখ্যাত প্রাচ্যবিদ গ্ল্যাডষ্টোন আল কুরআন পড়ে এবং তা নিয়ে গবেষণা করে এটাই বুঝতে পেরেছেন, কুরআন ভিত্তিক জীবন ধারনকারী মুসলমানদেরকে কেউ কখনো পরাজিত করতে পারেনি কিংবা তাদের মধ্যে কেউ স্মৃষ্টি করতে পারেনি বিভেদ। তাই তিনি ইউরোপবাসীর উদ্দেশ্যে এক জায়গায় বলেছিলেন-' যতদিন আল কুরআন মুসলমানদের হাতে থাকবে, ততদিন পর্যন্ত তোমরা কখনোই তাদের উপর বিজয়ী হতে পারবেনা এবং তোমরা তাদের কাছ থেকে নিরাপদও থাকতে পারবেনা।' তার কথার সাথে সবাই একমত হবেন এই কারনে যে মুসলমানরা যতদিন আল কুরআনের নির্দেশ অনুসারে সমাজ-রাষ্ট্র পরিচালনা করেছিলেন ততদিন চারদিকে কেবল মুসলমানদেরই জয়ের পতাকা আকাশে উড়েছিল। অপরদিকে বিখ্যাত ফরাসী বিজ্ঞানী ডঃ মরিস বুকাইলি কিন্তু আল কুরআনকে সব কিছুর উর্দ্ধে স্থান দিয়েছেন। তিনি তার বিখ্যাত গ্রন্থ 'দি বাইবেল দি কুরআন এন্ড সাইন্স' গ্রন্থে আল কুরআনকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোন থেকে এত সুস্পষ্টভাবে আলোচনা করেছেন যে পরবতর্ীতে তার এ বইটি প্রায় অর্ধশত ভাষায় অনুদিত হয় এবং সারা বিশ্বে তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। তিনি তার এই গ্রন্থে বাইবেল, কুরআন এবং আধুনিক বিজ্ঞানের মধ্যে তুলনামূলক নিরীক্ষা চালিয়ে কুরআন সম্পর্কে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে,'কুরআনে এমন একটি বক্তব্যও নেই যে বক্তব্যকে আধুনিক বৈজ্ঞানিক বিচারে খন্ডন করা যেতে পারে।' ডঃ মুরেস বুকাইলি পরবতর্ীতে তার 'দি ওরিজিন অব ম্যান' গ্রন্থে মানব স্মৃষ্টি সম্পর্কিত ডারউইন এবং বাইবেলের মতবাদকে আধুনিক বিজ্ঞানের নিরিখে ভ্রান্ত বলে প্রমান করেছেন। তিনি মানব স্মৃষ্টি সম্পর্কিত আল কুরআনের মতবাদকে পুরোপুরি বিজ্ঞান সম্মত বলে মত দিয়েছেন।
ডঃ মুরেস বুকাইলির এ বক্তব্যেও পুরোপুরি সমর্থন পাওয়া যায় টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রুনতত্বের অধ্যাপক ডঃ কিথ মুর এর কথায়। ডঃ কিথ মুরকে একসময় প্রশ্ন করা হয়েছিল, ভ্রুনতত্ব সম্পর্কে আল কুরআনের বক্তব্যকে আপনি কিভাবে দেখছেন? ডঃ কিথ মুর এর জবাব ছিল- 'এটা একমাত্র ঐশ্বরিকভাবেই নাজিল হতে পারে। ভ্রুনতত্বের এসব তত্ব মানুষের জানার সাধ্যের বাইরে।'
আল কুরআন একাধারে বিজ্ঞান, আইন, দর্শন মোদ্দা কথা সব কিছুর সংমিশ্রন। আল কুরআন যে মানব জাতির জন্য ধর্মগ্রন্থের পাশাপাশি এক অমায়িক আইন গ্রন্থ সে বিষয়ে বিশ্ববিখ্যাত ঐতিহাসিক এডওয়ার্ড গীবন এর বক্তব্য উল্লেখযোগ্য। তার মতে- 'আটলান্টিক মহাসাগর হতে গঙ্গা পর্যন্ত কুরআন শুধুই ধর্মতত্ব জ্ঞানের জন্যই নয় বরং ফৌজদারী ও দেওয়ানী আইনের মুল ভিত্তি বলে স্বীকৃত এবং যে আইন মানবজাতির কাজ ও সম্পত্তিকে নিয়ন্ত্রিত করে তাও আল্লাহর ইচ্ছার অলঙ্গনীয় অনুমোদন দ্বারা শাসিত। মোটকথা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের কার্যকর বিধান আল কুরআনে মজুদ আছে।' গীবন অন্য এক জায়গায় বলেন-'আল কুরআন হচ্ছে স্রস্টার একত্বের এক উজ্জল দলিল। একজন একত্ববাধী দার্শনিক যদি কোন ধর্ম গ্রহন করতে চায় তবে তার জন্য ইসলামই উপযুক্ত।' প্রকৃত পক্ষে আল কুরআন সমগ্র মানবজাতির জন্যে এক মহা নেয়ামত। এ গ্রন্থ মানুষের পুনর্াঙ্গ জীবন বিধান। মানব জীবনের যে কোন সমস্যা বা বিষয়ের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা বা সমাধান রয়েছে এ পবিত্র গ্রন্থে। এ প্রসংগে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন-'আল কুরআন মানব জগতের সংস্কারক। আধ্যাতিক নির্দেশনা এবং তথ্যে সমৃদ্ধ এ মহাগ্রন্থ মানব সভ্যতার এক বিস্ময়কর সংস্কার সাধন করেছে। যে সকল মনীষী এর মর্ম ও অন্তনির্হিত তাৎপর্যের সন্ধান পেয়েছেন, তারাই এ সত্য উপলব্ধি করতে পারবেন যে, আল কুরআন একটি পূনর্াঙ্গ জীবন বিধান। মানব জীবনের যে কোন সমস্যাই এর কাছে নিয়ে যাওয়া হোকনা কেন, আল কুরআন তার সমাধান বের করবেই।'
প্রকৃতপ েআল কুরআনই শিাই পারে একটি সুন্দর মানুষ, সমাজ, রাষ্ট্র উপহার দিতে এ বিশ্বকে। এখন সময় এসেছে মানুষকে আল কুরআনের পতাকাতলে দাড়িয়ে, আল কুরআনের শিা অনুযায়ী জীবনপ্রনালী গঠন করে নতুন এবং সুন্দর ভাবে পৃথিবী পরিচালনা করার। সব শেষে শিখ ধর্মের নেতা গুরু নানক এর উক্তিটি উল্লেখ করার মত। তিনি বলেন-'বেদ ও পুরানের যুগ চলে গেছে। এখন দুনিয়াকে পরিচালিত করার জন্য আল কুরআনই একমাত্র গ্রন্থ।'
পরিশেষে, মুসলমান ভাইদের উদ্দেশ্যে শুধু এটুকুই বলতে চাই যেখানে পবিত্র আল কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব বিধমর্ীরাও ঘোষনা করেছে সেখানে কেন আমরা নিজেদের ধর্মগ্রন্থ এবং তার শিক্ষাকে অবহেলার চোখে দেখব? আসুন এ পবিত্র রমজানে বেশি বেশি কুরআন পড়ি এবং কুরআনের শিক্ষাকে ধারন করি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
