সাক্ষাৎকার গ্রহণের সময় তানভীর জামিল, টুকু, রাজ্জাক ও ন্যাংটা পাগল স্পটে উপস্থিত ছিল।
-নাম কি
= দুলাল। টোকাই দুলাল কইলে আল্লার রহমতে সবাই চেনে।
-টোকাই দুলাল হইল ক্যা?
=ভাঙ্গারি টোকাইতাম। হের লাইগা নাম হইছে টোকাই দুলাল।
-এহন কি করেন ?
= চুরি করি আর হিরোইন খাই। সত্যের ভারে মরণ নাই। যা মনে করেন। সত্য কতা কইতে ভয় নাই।
-কি চুরি করেন ?
= যা পাই তাই চুরি করি। কাইল রাইতে এক কয়েল তার চুরি করছি।
-তারপর?
= হের পরে আর কি? হেইডা বেইচা হিরোইন খাইছি।
-প্রতিদিন কয় টেকার মাল লাগে?
= 100 টেহা লাগে। না হইলে মাল নাই। বোঝেন তাইলে ক্যান চুরি করি।
-চুরি করতে না পারলে?
= তামুক খাই। দাম কম। দুধের পিপাসা পানি দিয়া মিটাই। আর মাল (হিরো) খাওনের বেড়া উঠলে ঠিক থাকতে পারি না (কষ্ট)।
-ধরা পড়ছেন চুরি করতে গিয়া?
= শোনেন চোরের দশ দিন শাউড়ের একদিন। আজ সকালে লুঙ্গি চুরি করতে গেছিলাম, মাইরও দিছে। আগেও মাইর খাইছি। একবার তো ভবের মাইর দিয়া পাগল বানাইয়া ফালাইছিল।
-বিয়া-শাদি করছেন?
= মনডা আউলা বানাইয়া দিলেন। পরিবার আছিল, পোলা আছিল। পরিবার ময়মনসিংহের। শাউড় নিয়া গেছে।
-পোলা হইছিল কবে?
= বিয়ার পরের বছরই। শাশুড়ির তিন মাইয়া। প্রত্যেকটার 3/4 বার ভাতার বদল হইছে। কিন্তু পোলাপান হয় না। বাঁজা। আমার লগে বিয়ার পর বউরে নিয়া মিরপুর শাহ আলীর দরগায় গেছিলাম। হের পরেই আল্লার দয়ায়, শাহ আলীর অছিলায় পোলা হইছে। নিয়ত আছিল পোলা হইলে দরগায় পোলার মুখে ভাত দিমু। পোলার ভাত খাওনের বয়স হইলে 1500 টেহা খরচ করছি দরগায় গিয়া।
-পোলা-বউরে আনতে মন চায় না?
= বউরে আনতে গেছিলাম। গিয়া দেহি আরেক ভাতারের লগে বিয়া হইছে। হে দিন শ্বশুরবাড়িতে আছিলাম। রাইতে আমি পোলার লগে আর পোলার মা হের মা'র লগে আছিল। হেই পোলারে শেষ দেখছি। এহন ওর সাত বছর বয়স। তয় আওনের সময় কইয়া আইছি, বাজান এইডাই আখেরি দেহাদেহি। তুইও আমারে দেখ, আমিও তোরে দেহি। আমি আর বেশিদিন বাঁচুম না। হিরোইন খাই তো। আমার লগেরডি সব মরছে।
-খারাপ লাগে নাই?
= না, ভালো হইছে। খাওয়াইতে পারি না। নিজে হিরো খাই।
-আর কেউ নাই
= মা আছে। নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে কাম করে।
-যোগাযোগ আছে?
= থাকবো না ক্যা। একখানই পোলা। মাঝেমইধ্যে যাই। আর গ্যালেই টাহা চুরি করি। মায়েরে জ্বালাই। মায়ে কাম কইরা দশ হাজার টাহা জমাইছিল, হেই টাকা খাঙ্গারি দিয়া (চুরি কইরা) আইনা খাইছি।
-ভালো হইতে চান না
=হ, চাই। এর ল্যাইগাই তো মায়ের কাছে গ্যালে কই_ মা আমারে বাইন্ধা রাহো। মা আমারে শেকল দিয়া বাইন্ধা রাহে। কিন্তু 3/4 দিন পর একটু যহন ভালো হই তহন আবার মাল খাওনের বেড়া ওঠে। বুকটা ফাইট্যা যায় (সুর করে)। শেকলটেকল সব ভাইঙ্গা চইলা আসি।
-হিরোইন খাওয়া শিখলেন ক্যামনে?
= আরে আগে তো আমি রিকশা চালাইতাম। পরিবার আছিল। 400 টাহা ঘর ভাড়া দিতাম। তয় একটু আধটু সিদ্ধি খাইতাম। এক বন্ধু একদিন তামুকের মইধ্যে হিরো মিশাইয়া খাওয়াইছে। পরে মজা পাইয়া গেলাম। তহন থেইকাই তো জীবনডা দোজখ হইয়া গেছে। হাঁড়ি পাতিলও বেইচা হিরোইন খাইছি।
-ক্যা রিকশা চালাইতেন না?
= আরে হিরো খাইলে কি রিকশা চালান যায়। শরীলে তহন বল থাহে না। এর লাইগ্যাই তো বউডা গেল গিয়া।
-হিরো পান কুনহানে?
= বিভিন্ন জায়গা থেইকা আনি। এহানেও পাওয়া যায়। অসুবিধা হয় না।
-থাকেন কোনহানে?
= ইস্টিশনে। আমাগো থাকনের জায়গার অভাব নাই। যেহানে চাই ঘুমাইতে পারি।
-পরে আপনারে পামু কুনহানে?
= এই ইস্টিশনের আশেপাশেই পাইবেন। যারেই জিগাইবেন টোকাই দুলাল। দ্যাহাইয়া দিবো।
-তো আজ যাইগা?
= আইচ্ছা। ভাই, কুনু অসুবিধা হইবো না তো। একটু দেইহেন। তিনবার হাজতে গেছি, হিরো খাওনের লাইগা। খোদার মর্জি রাখতে পারে নাই। যাক, আল্লা ভরসা। আইসেন আবার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
