somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টঙ্গী স্টেশনের টোকাই দুলালের সাক্ষাৎকার

২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৪:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাক্ষাৎকার সময়: 10/05/2004, বেলা 2টা 5 মিনিট সাক্ষাৎকার গ্রহণ : জাকিরুল হক তালুকদার ও মামুন রশিদ
সাক্ষাৎকার গ্রহণের সময় তানভীর জামিল, টুকু, রাজ্জাক ও ন্যাংটা পাগল স্পটে উপস্থিত ছিল।
-নাম কি
= দুলাল। টোকাই দুলাল কইলে আল্লার রহমতে সবাই চেনে।
-টোকাই দুলাল হইল ক্যা?
=ভাঙ্গারি টোকাইতাম। হের লাইগা নাম হইছে টোকাই দুলাল।
-এহন কি করেন ?
= চুরি করি আর হিরোইন খাই। সত্যের ভারে মরণ নাই। যা মনে করেন। সত্য কতা কইতে ভয় নাই।
-কি চুরি করেন ?
= যা পাই তাই চুরি করি। কাইল রাইতে এক কয়েল তার চুরি করছি।
-তারপর?
= হের পরে আর কি? হেইডা বেইচা হিরোইন খাইছি।
-প্রতিদিন কয় টেকার মাল লাগে?
= 100 টেহা লাগে। না হইলে মাল নাই। বোঝেন তাইলে ক্যান চুরি করি।
-চুরি করতে না পারলে?
= তামুক খাই। দাম কম। দুধের পিপাসা পানি দিয়া মিটাই। আর মাল (হিরো) খাওনের বেড়া উঠলে ঠিক থাকতে পারি না (কষ্ট)।
-ধরা পড়ছেন চুরি করতে গিয়া?
= শোনেন চোরের দশ দিন শাউড়ের একদিন। আজ সকালে লুঙ্গি চুরি করতে গেছিলাম, মাইরও দিছে। আগেও মাইর খাইছি। একবার তো ভবের মাইর দিয়া পাগল বানাইয়া ফালাইছিল।
-বিয়া-শাদি করছেন?
= মনডা আউলা বানাইয়া দিলেন। পরিবার আছিল, পোলা আছিল। পরিবার ময়মনসিংহের। শাউড় নিয়া গেছে।
-পোলা হইছিল কবে?
= বিয়ার পরের বছরই। শাশুড়ির তিন মাইয়া। প্রত্যেকটার 3/4 বার ভাতার বদল হইছে। কিন্তু পোলাপান হয় না। বাঁজা। আমার লগে বিয়ার পর বউরে নিয়া মিরপুর শাহ আলীর দরগায় গেছিলাম। হের পরেই আল্লার দয়ায়, শাহ আলীর অছিলায় পোলা হইছে। নিয়ত আছিল পোলা হইলে দরগায় পোলার মুখে ভাত দিমু। পোলার ভাত খাওনের বয়স হইলে 1500 টেহা খরচ করছি দরগায় গিয়া।
-পোলা-বউরে আনতে মন চায় না?
= বউরে আনতে গেছিলাম। গিয়া দেহি আরেক ভাতারের লগে বিয়া হইছে। হে দিন শ্বশুরবাড়িতে আছিলাম। রাইতে আমি পোলার লগে আর পোলার মা হের মা'র লগে আছিল। হেই পোলারে শেষ দেখছি। এহন ওর সাত বছর বয়স। তয় আওনের সময় কইয়া আইছি, বাজান এইডাই আখেরি দেহাদেহি। তুইও আমারে দেখ, আমিও তোরে দেহি। আমি আর বেশিদিন বাঁচুম না। হিরোইন খাই তো। আমার লগেরডি সব মরছে।
-খারাপ লাগে নাই?
= না, ভালো হইছে। খাওয়াইতে পারি না। নিজে হিরো খাই।
-আর কেউ নাই
= মা আছে। নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে কাম করে।
-যোগাযোগ আছে?
= থাকবো না ক্যা। একখানই পোলা। মাঝেমইধ্যে যাই। আর গ্যালেই টাহা চুরি করি। মায়েরে জ্বালাই। মায়ে কাম কইরা দশ হাজার টাহা জমাইছিল, হেই টাকা খাঙ্গারি দিয়া (চুরি কইরা) আইনা খাইছি।
-ভালো হইতে চান না
=হ, চাই। এর ল্যাইগাই তো মায়ের কাছে গ্যালে কই_ মা আমারে বাইন্ধা রাহো। মা আমারে শেকল দিয়া বাইন্ধা রাহে। কিন্তু 3/4 দিন পর একটু যহন ভালো হই তহন আবার মাল খাওনের বেড়া ওঠে। বুকটা ফাইট্যা যায় (সুর করে)। শেকলটেকল সব ভাইঙ্গা চইলা আসি।
-হিরোইন খাওয়া শিখলেন ক্যামনে?
= আরে আগে তো আমি রিকশা চালাইতাম। পরিবার আছিল। 400 টাহা ঘর ভাড়া দিতাম। তয় একটু আধটু সিদ্ধি খাইতাম। এক বন্ধু একদিন তামুকের মইধ্যে হিরো মিশাইয়া খাওয়াইছে। পরে মজা পাইয়া গেলাম। তহন থেইকাই তো জীবনডা দোজখ হইয়া গেছে। হাঁড়ি পাতিলও বেইচা হিরোইন খাইছি।
-ক্যা রিকশা চালাইতেন না?
= আরে হিরো খাইলে কি রিকশা চালান যায়। শরীলে তহন বল থাহে না। এর লাইগ্যাই তো বউডা গেল গিয়া।
-হিরো পান কুনহানে?
= বিভিন্ন জায়গা থেইকা আনি। এহানেও পাওয়া যায়। অসুবিধা হয় না।
-থাকেন কোনহানে?
= ইস্টিশনে। আমাগো থাকনের জায়গার অভাব নাই। যেহানে চাই ঘুমাইতে পারি।
-পরে আপনারে পামু কুনহানে?
= এই ইস্টিশনের আশেপাশেই পাইবেন। যারেই জিগাইবেন টোকাই দুলাল। দ্যাহাইয়া দিবো।
-তো আজ যাইগা?
= আইচ্ছা। ভাই, কুনু অসুবিধা হইবো না তো। একটু দেইহেন। তিনবার হাজতে গেছি, হিরো খাওনের লাইগা। খোদার মর্জি রাখতে পারে নাই। যাক, আল্লা ভরসা। আইসেন আবার।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৫:০৫
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Dual Currency Card Needed for Meta Monetization. Urgent National Interest.

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬

ছবি

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছি প্রায় চল্লিশ মিনিট। এক জায়গায় এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে সাধারণত দুই ধরনের সন্দেহ হয়- এক, লোকটা কিছু করতে এসেছে। দুই, লোকটার করার কিছু নেই। আমি কোনোটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

’দেশ বিক্রির অভিযোগ, কাঠগড়ায় ইউনূস–জামাত–বিএনপি–এনসিপি”

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:১৩

’দেশ বিক্রির অভিযোগ, কাঠগড়ায় ইউনূস–জামাত–বিএনপি–এনসিপি”
==========================================
চুক্তি মানেই তো স্বার্থের ভারসাম্য। কিন্তু সেই ভারসাম্য যখন দেশের স্বার্থকে উপেক্ষা করে, তখন সেটি আর চুক্তি থাকে না প্রশ্নবিদ্ধ সমঝোতায় পরিণত হয়। ইউনূসের শেষ সময়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুপ্তদের সকল অপকর্মের তদন্ত হোক....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৪৮


সময় যত যাচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে অস্বস্তিকর সত্য!
সময় গড়িয়ে যাচ্ছে- আর অতীতের অনেক ঘটনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ, সাক্ষ্য ও তথ্য সামনে আসছে-
যেখানে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষকের মর্যাদা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৩


কবিতাটার কথা কি মনে আছে? বাদশাহ আলমগীর একদা প্রভাতে গিয়ে দেখলেন, শাহজাদা এক পাত্র হাতে নিয়ে শিক্ষকের চরণে পানি ঢালছে, আর শিক্ষক নিজ হাতে নিজের পায়ের ধূলি মুছে সাফ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:০৯

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গত এক দশকে ব্যাপক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×