somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সেদিন ইকোপার্কে!!

০২ রা জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৩:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক গোধুলী বিকেলে পাশের ইকোপার্কে হাঁটছিলাম। সূর্য তখন প্রায় ডুবু ডুবু অবস্থা। সূর্যের নিভন্ত নিস্তেজ কিরণ আর লেকের উপর দিয়ে প্রবাহমান পবনের সুশীতল স্পর্শ আমার হৃদয়গহ্বরে তখন সাহিত্যিক চেতনার সঞ্চার করছিল। অন্যসব দিনের মত দিনটা অতটা কোলাহলময় ছিলো না। নিস্তব্দ-বিজন প্রকৃতি যেন বিমর্ষমূর্তিতে সামনের সেই অশ্বথ বৃক্ষটির দিকে কিছু একটা নির্দেশ করছিলো। খানিকটা উদ্দেশ্যহীন হয়েই হাঁটছিলাম সেদিকে!!







বৃক্ষটি যেন নিজের লতাকাকীর্ণ দেহের মোহে আমাকে আকড়ে ধরেছিলো; যেন ক্রমশ নিজের দিকে টেনে নিচ্ছিলো। আর আমিও অনিচ্ছাসত্ত্বেও বটবৃক্ষের পথ ধরে হাঁটছিলাম আনমনে। কিছুদুর হেঁটে যেতেই কারো মায়াবী কান্নার আওয়াজ আমার কর্ণগোচর হতে শুরু করলো। আরো কাছে গিয়ে মনোযোগ দিতেই বুঝতে পারলাম, বটগাছের ওপাশে কোনো নারী হৃদয়ের সমস্ত বেদনা তার অশ্রুজলের মাধ্যমে ভাসানোর চেষ্টা করছে। সেদিন প্রথমবারের মত কোনো নারীকে সেভাবে কান্না করতে দেখেছিলাম!!







অতঃপর অামার কৌতুহলী মন রমনীর রোদন রহস্য উন্মোচনের উদ্দেশ্যে ওপারে পা বাড়াতে শুরু করল। একটা অনন্য লাল পোশাক পরা বালিকাকে সেখানে বসে মুখ লুকিয়ে কাঁদতে দেখে আমি জিজ্ঞেস করি, " এই যে, তুমি কাঁদছো কেন? কিসের দুঃখ তোমার? মনের কথা ভাগ করে নিলে হয়তো দুঃখ খানিকটা লাঘব হতো।"


বালিকা মুখ তুলে নিজের সবুজাভ নেত্র দুখানি আমার দিকে তাক করতেই___________
.
.
.
.
.
.
 আমার হৃদয়ের অনু-পরমানু গুলো এলোমেলোভাবে ছোটাছুটি শুরু করে দিলো! আমার নেত্রপল্লব বিবর্ধিত হয়ে পড়ল! মাথার ভেতর হাজার হাজার পারমানবিক বোমা বিস্ফোরণ_______ হাজার হাজার ভোল্টেজ বিদ্যুৎ  প্রবাহ_______!! এককথায়, সে তার মায়াবী দুচোখ দিয়ে আমাকে আপাদমস্তক ঘায়েল করে দিয়েছিলো।









সত্যিই সে ছিলো দিব্যাঙ্গনা; আমাকে কিছুক্ষণের জন্য বশ করে ফেলেছিল তার মায়াবী নেত্রের ইন্দ্রজালে। তারপর মায়া কাটিয়ে দুচোখ মুছে আবেগআপ্লুত স্বরে উচ্চারণ করলো,"মনের দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার মতো মানুষ খুজে পাওয়া হয় নি আমার। সবাইকেই আপন মনে হয়। আর আপনদের দুঃখ দেওয়ার ইচ্ছা_____।"
"আমার দুঃখ ভাগ করে নিতে কোনো অসুবিধা নেই।" আমার মুখনিঃসৃত এই শব্দগুলো শুনে কিছুক্ষণ আমার চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে রইল সে। এরপর অশ্বথ বৃক্ষের শীর্ষে খানিক চোখ বুলিয়ে বলে, "একটা অচিন পাখি আমার প্রিয় কন্ঠমালা ঝাপটি মেরে নিয়ে উড়ে যায় এই বটগাছেরই শীর্ষে। এতদিন আমার কাছেই আগলে রেখেছিলাম; এখন অনেক দুরে....। কখনো আশা করিনি।" খানিকটা বিশ্বাসের সুরেই আশাভরা বাক্যগুলো উচ্চারণ করে আবার ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করলো দিব্যাঙ্গনা।



আমার বুঝতে সময় লাগলো না। একটা উচু লাফ দিয়ে অশ্বথ বৃক্ষের একটি লতা ধরে গাছে উঠে পড়ি!! ভাবলাম যার কান্না এত মায়াবী তার হাসি....??







কয়েক মুহুর্ত পর........


হয়তো এইটা দেখার জন্যই আমার মন ব্যাকুল ছিলো এই অবধি!! বালিকার রহস্যভরা মুখের মায়াভরা হাসি আমার হৃদয়ে আশার সঞ্চার করলো। তার সবুজাভ দুচোখ দিয়ে যেন আমার জন্য এত্তগুলো ভালোবাসা আঁছড়ে পরছিলো। ইচ্ছে হচ্ছিলো জড়িয়ে ধরে স্প্যানিশ ভাষায় মনের ভেতর আটকে রাখা কথাটি বলে দিই - Te amo, baby!!


কিন্তু আমিই হয়তো একটু বেশিই আশা করে। ফেলেছিলাম________




-ধন্যবাদ, ধন্যবাদ আপনাকে। আপনার কারণেই আমি আমার জীবন ফিরে পেয়েছি। আপনার অশেষ কৃতজ্ঞতা।

-জীবন?? এই সামান্য সাতনরী......??

-হ্যাঁ। আসলে আমার ভালোবাসার মানুষটা আমার এই সামান্য কন্ঠমালার জন্যই নিজের জীবনাবসান ঘটিয়ে নিজের জীবনটুকু এই মালাতেই আমাকে উপহার দিয়েছিলো। খুব ভালোবাসতো আমাকে।

-আর আপনি??

-এই মালার প্রতি আমার আকুলতা দেখে এখনো বুঝেন নি??
.
.
.
.
.
.
.
রমণীর উচ্চারিত শব্দসমষ্টি যেন আমার হৃদয়ে লক্ষ কোটি ধারালো ভাঙা কাচের মতো বিঁধেছিল।একটু আগেই যে হৃদয়ে এত্তগুলো ভালোবাসা জমিয়ে রেখেছিলাম; মুহুর্তেই সেখানে উৎপন্ন হওয়া বেদনার সাথে বাসা বেধে নিতে শুরু করেছিলো।




বালিকা, তুমি আজ আমার পাশে নেই, তবু তোমাকে কল্পনায় একে আমি রোজ শুধুই একটি কথা বলি, "Te amo, baby. . . . . . . . .!!"
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৫:৫৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্রেফ 'জিন্নাহকে স্মরণ আর বঙ্গবন্ধুকে গালি' রাজাকারি মানসিকতারই উদাহরণ

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



ভারতীয় উপমহাদেশের জাতিসত্তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি কেউ 'যৌক্তিক' বা তাঁর 'প্রাপ্য' সম্মানটুকু জানাতেই পারেন; তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, যখন সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?
যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, যে বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×