ইতিহাস বৃথায় গড়ে উঠে৷ তিলে তিলে গড়ে ওঠা ইতিহাস মুহুর্তেই হারিয়ে যায় সময়ের ঠিকানাবিহীন তরঙ্গের ঢেউয়ে৷ তবু মানুষ উঠে-পড়ে লেগেছে, পার হয়ে যাওয়া ইতিহাসগুলো পুনুরুদ্ধার করতে৷ ব্যস্ত হয়ে পড়েছে নতুন ইতিহাস গড়তে৷
কিন্তু কেমন হবে সেই নতুন ইতিহাস?… বিশৃঙ্খল!
বলা হয় শিশুরা নাকি নিশঃপাপ। হয়তো আমরা ভুলে যাই, শিশুরাই তার পূর্বপুরুষদের থেকে শিক্ষা নিয়ে ধীরে ধীরে বড় হয়। তারা কি শিখবে তা পুরোপুরিভাবে নির্ভর করে পূর্বপুরুষেরা কি শিখাচ্ছে তার উপর। ভেবে দেখেছি কি, কী শিক্ষা পেয়ে বড় হচ্ছে আজকের শিশুরা? তখনকার নিশঃপাপ শিশুরা আজকে কেন পাপী হয়ে নৈরাজ্যের সৃষ্টি করছে, ভেবে দেখেছি? ভাবার কিংবা ভেবে সময় নষ্ট করার মত সময় নেই! তথাকথিত সেরা জীব হিসেবে আমরা তা অন্তত বুঝি।
এখন সময় আজকের নতুনদের ভবিষ্যতের শান্তিদূত হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তুতি গ্রহণ করার। একটি স্থায়ী শান্তিময় ইতিহাস গড়ার পরিকল্পনা করার। তবে সেই পরিকল্পিত প্রস্তুতি কঠোর হবে না, হবে কোমল। আমরা তাদের বোঝবো বা মুখস্ত করাব না যে শান্তি কি! বরং তারা শান্তি এবং শান্তির গুরুত্ব উপলব্ধি করে বিশ্বজুড়ে তা বাস্তবায়ন করবে। তবে তার আগে তোহ্ পালাবদলের সূচনা আমাদেরই করতে হবে।
তা না হলে, এমনও দিন আসবে, যখন হয়তো বা ইতিহাস থাকবে, তবে মুখে৷ অন্তরে থাকবে কেবলই ভয়৷ নিষ্ঠুরতার কালো ছাইয়ে ছেয়ে যাবে পৃথিবীর সবুজ আস্তরণ৷ রবী-নজরুলের আদর্শ থাকবে না; তাঁরা পুড়ে ছাই হয়ে যাবে মানুষেরই হিংসার চরম অনলকুন্ডে৷ কবিতার ভাষা মুছে যাবে, দেবে যাবে স্বার্থান্ধতার নিচে৷ কেউ আর কবিতার সুরে মুগ্ধ হবে না; সবার মন তখন ধাবিত হবে এক কুৎসিত ভাষণের দিকে, যেখানে বলা হবে, "যুদ্ধ চাই, চাই প্রতিশোধ!"
এই একটাই জিনিস মানুষের নিয়ন্ত্রনের বাইরে। মন .. অতি সহজেই প্রভাবিত হয়ে পড়ে।
তাই তো! মনকেই তো আগে বাগে আনতে হবে! তাহলেই তো
একটা দীর্ঘস্থায়ী ইতিহাস আমাদের হাতের মুঠোই হবে ...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


