মুক্তিযুদ্ধ ও তার পরবর্তী সময়ের বাংলাদেশ এর রাজনৈতিক ইতিহাস আমার একটা প্রিয় বিষয়। আদার ব্যাপারীর জাহাজের খবরের মত প্রায়ই এই বিষয়ে একটু খুঁচানোর অভ্যাসটা বরাবরের। একটা বড় কারণ হল নিজেকে জানা, এবং তারচেও বড় কারণ হল আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসটা এত বেশি নাটুকে, এত বেশি controversial যে তার যেকোনো একটা ঘটনা আমাকে ১০ টা মুভি দেখার উত্তেজনা দেয়।
যাই হোক, আজকে নিজের সংগ্রহ থেকে কিছু ভিডিও বের করলাম। ভিডিও এর আলোচনায় প্রথমেই থাকছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, তার ৭১ এর সময়, পরবর্তীতে যাব তার দেশে ফেরার পর দেশ পরিচালনা এবং হত্যা সম্পর্কিত আলোচনায়। ষড়যন্ত্রের পিছনের মানুষগুলোর যুক্তিকেও আমার কাছে মনে হয় গুরুত্তপূর্ণ। তার আগে নিজের এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত ধারনার কথা বলার লোভ সাম্লাতে পারছিনা।
পরিচিত গণ্ডিতে আমি প্রায় ই মোটামুটি গালি খেয়ে বিপর্যস্ত হই, বঙ্গবন্ধু কে সম্পূর্ণ ভাবে পারফেক্ট না শিকার করতে পারায়। তকে নিয়ে আমার বেশ কিছু প্রশ্ন আছে। সাংবাদিক অরিয়ানা ফাল্লাচি তার বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাতকার এর বর্ণনায় যে প্রশ্নগুলি তুলেছেন, আমার নিজেরও সেই একি কথা মনে হয়। যদিও, অরিয়ানা ফাল্লাচি কে আমার বাড়াবাড়ি মনে হয়, সত্য কে দেখার চাইতে তিনি নিজের প্রতি আচরন কেই বেশি গুরুত্ত দিয়েছেন, এবং নিজের সাথে হওয়া ব্যাবহার কে সারা দেশের প্রতি ব্যাবহার বলে চালানর চেষ্টা করেছেন। এখন জামাতি রা নানা সময়ে তার রেফারেন্স দেন, যার সবটা সত্যি ভাবার কোন কারণ নাই। কেননা বঙ্গবন্ধু কে যেমন অরিয়ানা ফাল্লাচি ঘৃণা করেন, তেমনি ভালবেসেছেন ডেভিড ফ্রসট বা পিটার জেনিংস; উনারা তো আর তখন অজ এর সবুজ চশমা পড়ে ছিলেন না। অরিয়ানা ফাল্লাচি এর ইন্টার্ভিউ কে পুঁজি করে জামাত এবং বিএনপি পন্থিদের একটি ভিডিও আছে। চাইলে দেখতে পারেন।
http://www.youtube.com/watch?v=atEXu_BEhK0 – Sheikh Mujibur Rahman behind the mask with Oriana fallacy. (আগেই বলে রাখি, এ ভিডিও তে বেশিরভাগটাই বাহুল্য দোষে দুষ্ট, অরিয়ানা ফাল্লাচি কে তার নিজের সতীর্থ রাই একারনে দুষেছেন বারবার।আর জামাত-বিএনপি পন্থিরা যখন বঙ্গবন্ধুর উপরে একটি ডকুমেনটারি তৈরি করবেন, তখন নিশ্চিতভাবেই তারা কিছু fabrication আনবেন।)
মাথায় নেগেটিভ চিন্তা এসে থাকলে, এবার কিছু ভিডিও এর কথা বলব, যা আবার আপনাকে উল্টো করে ভাবাবে।
http://www.youtube.com/watch?v=hXZahA8D7JE –Sheikh Mujibur Rahman with David frost. His emotion on war.
Click This Link -interview of Mr. David frost with sheikh Hasina on her father.
তারপরও কিছু প্রশ্ন যা আমার মাথায় আসে, তা না করে পারছিনা। প্রথমত, প্রশ্নবিদ্ধ ২৫শে মার্চ এর সময়ের বঙ্গবন্ধু এর ভুমিকা। ৭ ই মার্চ এর বিখ্যাত ভাষণ দিয়ে, বঙ্গবন্ধু যখন সারা দেশ এর মানুষ কে উদ্ভুদ্দ করছেন সংগ্রাম এর জন্য, সেটা কি অধিকারের সংগ্রাম, না স্বাধীনতার সংগ্রাম। উনি বলছেন স্বাধীনতার সংগ্রাম, কিন্তু ২৫ শে মার্চ এর বিকাল বেলাতেও সাংবাদিকদের উনি বলছেন, উনি স্বাধীনতা চান না, অধিকার চান নিজের দেশের মানুষের। তখনও পর্যন্ত উনি বলছেন উনাকে ক্ষমতায় বসালেই সেটা সম্ভব।
http://www.youtube.com/watch?v=tHx9qmLhmro - Sheikh Mujibur Rahman on 25th march afternoon.
৭ই মার্চ এর ভাষণ নিয়েও আছে বিতর্ক। শুনেছি, এই ভাষণ টা তিনি দিএছিলেন বামপন্থি ও ছাত্র দলনেতাদের চাপ এ পরে। স্বাধীনতার আন্দোলন এর স্পষ্ট ঘোষণা দাওয়ার কথাও ছিল ঐ দিন ই। কিন্তু উনি করেননি সেটা, অসহযোগ আন্দোলন এর ডাক দিয়েছিলেন। যদিও আমার কাছে উল্লেখ্য কোন রেফারেন্স নাই এই মুহূর্তে।
কেউ কেউ বলতে পারেন, একটা দেশের মানুষ কে এত সহজে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া যায়না। অবশ্যই যায়না, কিন্তু কখন? সারাদেশের মানুষ বুঝতে পারছেন, পাকিস্তানি নেতারা আলোচনা করতে আসেননি পূর্ব পাকিস্তানে। আলোচনা করার জন্য এত সৈন্য, এত অস্ত্র সাথে আনার দরকার পরেনা। জাহানারা ইমাম এর “৭১ এর দিনগুলি” এর একদম গোড়াতেই এই অস্থিরতার কথা বলা আছে, অথচ মুজিব নিজে একদম ই অন্ধকারে কি করে থাকেন। শেষ সময় পর্যন্ত উনি অপেক্ষা করেছেন, আশায় ছিলেন উনি ক্ষমতায় বসবেন, যা যুদ্ধ ঘোষণা করলে সম্ভব ছিলনা। আর তার ফলশ্রুতিতেই কি এতগুলি মানুষকে পাকিস্তানি সেনারা একদম অপ্রস্তুত অবস্থায় পেয়ে যায়নি? কিছুটা দায়ভার কি জাতির পিতার উপরও বর্তায় কিনা আমি বুঝতে পারছিনা।
আমার প্রশ্ন আছে উনার আত্মসমর্পণ নিয়েও। পালানো উনার স্বভাবে ছিলনা কখনই, সেটা মানতেই হচ্ছে। কিন্তু যুক্তিতে একটু খটকা বাধে। উনার যুক্তি উনি ধরা না দিলে, আরও বেশি মানুষ মারা পরত; এক রাতে ৯০ হাজার মানুষ হত্যা হয়েছিল উনার ধরা পরার পর ও। সংখ্যাটা পরবর্তীতে শুধু বেরেই গেছে। প্রশ্ন হল জাতির পিতা কি সেরাতেও বুঝতে পারেননি, যে এটা একটা যুদ্ধ। কর্তব্য কি সেসময় দিকনির্দেশনা দেওয়ার, নাকি আগেই ধরা দাওয়ার; বিষয়টা আমি বুঝতে পারিনা। আমার কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের রাজনৈতিক নায়ক মনে হয় তাজউদ্দীন আহমেদ, নজরুল ইসলাম, কাম্রুজ্জামান প্রমুখ নেতাদের। যারা যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন, সৈন্যদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, অস্থায়ী বাংলাদেশের সরকার প্রবর্তন করে রাজনৈতিক ভাবে যুদ্ধটাকে গৃহযুদ্ধ থেকে স্বাধীনতার যুদ্ধে রূপ দিয়েছেন। নেতার অনুপস্থিতিতে ক্ষমতা নিয়ে নোংরা খেলা খেলেননি, মানুষের সমর্থন এর কথা মাথায় রেখেই হোক আর দেশের প্রতি আনুগত্তের জন্নই হোক। বাংলাদেশ সেসময় আসলেই ভারতের একটি উপনিবেশ এ পরিণত হওয়ার একটা বিরাট সম্ভাবনা ছিল। দলিল পত্রে, ৭১ এর যুদ্ধ আজো ভারত এবং পাকিস্তান এর যুদ্ধ। ১৬ই ডিসেম্বর এর যে সমর্পণ এর চুক্তি, সেখানেও বাংলাদেশ নয়, উল্লেখ ভারতের ই। কূটনৈতিক দক্ষতায় আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করে, সে সময় বাংলাদেশ কে দখল থেকে রক্ষা করার কৃতিত্ব টা কি এই নেতাদের নয়? তারাই আমার কাছে মূলনায়ক। অথচ, ৭১ এর পর এ, উনাদের কে চরম অবহেলা করা হল।
বিতর্ক আছে উনার জেল এ থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে, জেল থেকে বের হওয়ার পরে ভুট্টো এর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যাবহার নিয়েও। উনি বলছেন উনি জানতেন না, তারা এদেশের কি অবস্থা করেছে, উনাকে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছিল। আবার উনি বলছেন, জেলার তাকে পালাতে সাহায্য করেছেন। ৯ মাস ধরে জেলার এর সাথে উনি শুধু পালানর আলোচনা করে গেলেন, নিজের দেশের কথা একবারও জানতে চাননি, অদ্ভুত!!!
কিন্তু, এক জায়গায় বঙ্গবন্ধু সম্পূর্ণভাবে আমার কাছে হিরো। একজন মানুষ, যার সেই ক্ষমতা ছিল এক ডাকে সারা দেশের মানুষকে এক জায়গায় জড় করার। স্বাধীন হবার জন্য বাঙ্গালির একটি নেতার প্রয়োজন ছিল, বঙ্গবন্ধু সেই নেতার জায়গা নিতে পেরেছিলেন। বাঙ্গালির নানা মত, নানা দল সব বিলুপ্ত করে তিনি সম্ভব করতে পেরেছিলেন একটা সংগ্রাম, যা স্বাধীন হওয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল। দেশের মানুষকে উনি ভালবাসতেন, টা নিয়েও কোন সন্দেহ নাই।
আর হ্যা। স্বাধীনতার ঘোষণাটা অবশ্যই এবং অবশ্যই উনি দিয়েছেন, এবং পরবর্তীতে উনার বরাত দিয়েই বাকিরা সেটা মানুষ কে শুনিয়েছেন, তা নিয়েও কোন সন্দেহ নাই।
(সন্দেহ থাকলে এই ব্লগ টা পড়তে পারেন- http://mukto-mona.com/wordpress/?p=381)
For me, he is a hero; but not a perfect one.
(More to come up on his governing, and killing).
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ১০:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




