somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অসাধারণ শিক্ষণীয় গল্প: প্রকৃত বন্ধু

১৪ ই মার্চ, ২০১৬ সকাল ৯:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোন সম্পদশালী ব্যক্তি ছিল, তার ছেলের কিছু ভবঘুরে এবং ভুন্ডেল বন্ধু ছিল। তার পিতা তাকে বুঝায় যে, এরা তোমার প্রকৃত বন্ধু নয়, এরা শুধু লোভের বশবর্তী হয়ে তোমার কাছে আসে, নতুবা তাদের একজনও এমন নেই যে, তোমার প্রতি বিশ্বস্ত কিন্তু সেই ছেলে পিতাকে উত্তর দেয় যে, মনে হয় যেন আপনি জীবনে কোন সত্যিকার বন্ধু পান নি, তাই সবার সম্পর্কে একই ধারণা পোষণ করেন। আমার বন্ধুরা এমন নয়, তারা পরম বিশ্বস্ত, আমার জন্য প্রাণ বিসর্জন দিতেও তারা প্রস্তুত। পিতা তাকে বুঝান যে, সত্যিকার বন্ধু পাওয়া খুবই কঠিন ব্যাপার। পিতা বলেন, সারা জীবনে আমি একজন মাত্র সত্যিকার বন্ধু পেয়েছি। কিন্তু সেই ছেলে তার হঠকারিতায় ছিল অনড়। কিছু দিন পর সে পিতার কাছে খরচের কিছু টাকা চায়, পিতা বলে যে, আমি তোমার খরচ চালাতে পারব না, তোমার বন্ধুদের কাছে চাও, আমার কাছে এখন কিছুই নেই। সত্যিকার অর্থে পিতা ছেলের বন্ধুদের পরীক্ষা নেয়ার কোন সুযোগ সন্ধান করছিলেন। পিতা যখন না করে দেন আর তার সব বন্ধুরা এটি অবগত হয় যে, ঘর থেকে তাকে না করে দেয়া হয়েছে তখন বন্ধুরা তার কাছে আসা যাওয়া বন্ধ করে দেয়, মেলা-মেশা ছেড়ে দেয়। অবশেষে নিরুপায় হয়ে এই ছেলে নিজেই বন্ধুদের সাথে স্বাক্ষাতের জন্য তাদের ঘরে যায়। কিন্তু যেই বন্ধুর দরজায়ই কড়া নাড়তো সে ভিতর থেকে সংবাদ পাঠাতো যে, ঘরে নেই, কোথাও বাহিরে গিয়েছে বা সে অসুস্থ এখন দেখা করা সম্ভব নয়। এভাবে সে সারা দিন ঘুরে বেড়ায় কিন্তু কোন বন্ধু তার সাথে দেখা করার জন্য বাহিরে আসে নি, অবশেষে সন্ধ্যা বেলা বাসায় ফিরে আসে। পিতা তখন জিজ্ঞেস করেন যে, বন্ধুরা কি উত্তর দিয়েছে। সে বলে যে, সবাই হারাম খোর, অকৃতজ্ঞ, কেউ কোন বাহানা করেছে, কেউ কোন অযুহাত। পিতা বলেন আমি কি তোমাকে পূর্বেই এটি বলিনি যে, এরা বিশ্বস্ত নয়। ভাল হয়েছে, তোমরাও একটা অভিজ্ঞতা হলো, এসো এখন আমার বন্ধুর সাথে তোমার সাক্ষাৎ করাই। এরপর তারা পাশেই এক জায়গায় যায় যেখানে তার এক বন্ধু বসবাস করতো। সেই বন্ধু কোন জায়গায় সিপাহী হিসেবে কাজ করত। পিতা-পুত্র উভয়ে তার ঘরে পৌঁছে দরজার কড়া নাড়ে। ভিতর থেকে আওয়াজ আসে যে আমি আসছি। অনেক দেরী হয়ে যায় কিন্তু দরজা খোলার জন্য কেউ আসেনি। তখন ছেলের হৃদয়ে বিভিনড়ব চিন্তাধারার উদয় হতে থাকে, সে তার পিতাকে বলে যে, আব্বু! মনে হয় আপনার বন্ধুও আমার বন্ধুদের মতই। তিনি বলেন যে, কিছুক্ষণ অপেক্ষা কর। এরপর আরও কিছুটা সময় কেটে যায়। এরপর দরজা খুলে সেই বন্ধু যখন বাহিরে আসে তখন তার গলায় একটি তরবারী ঝুলছিল, এক হাতে ছিল একটি থলি আর অন্য হাতে ছিল স্ত্রীর বাহু। দরজা খুলতেই সে বলে যে, আমায় ক্ষমা করবেন, আপনার কষ্ট হয়েছে, আমি তাড়াতাড়ি আসতে পারি নি, দ্রুত আসতে না পারার কারণ হলো, আপনি যখন কড়া নেড়েছেন আমি বুঝতে পেরেছি যে, নিশ্চয় কোন ব্যাপার বা বিশেষ কোন কারণ আছে যে কারণে আপনি নিজেই এসেছেন নতুবা আপনি কোন চাকরকেও পাঠাতে পারতেন। আমি যখন দরজা খুলতে চাইলাম তখন হঠাৎ করে আমার মনে পড়লো যে, হয়তো কোন সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমার কাছে এই তিনটি জিনিসই ছিল, একটি তরবারী আর একটি থলি যাতে আমার এক বছরের খরচ রয়েছে, কয়েকশত রুপিয়া আছে, আর আমার স্ত্রী এজন্য এসেছে যে, আপনার ঘরে হয়তো কোন সমস্যা হয়েছে তাই সে খিদমতের জন্য এসেছে। আর দেরী হওয়ার কারণ হলো আমার এই থলিটি মাটির নিচে পুঁতে রাখা ছিল যা বের করতে সময় লেগেছে। এরপর ভাবলাম যে, হয়তো এমন কোন সমস্যার উদয় হয়েছে যেখানে কোন সাহসী ব্যক্তি কাজে আসতে পারে তাই তরবারী সাথে নিয়ে এসেছি যে, জীবনের যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আমার জীবন যেন উৎসর্গ করতে পারি। এরপর আমি ভাবলাম যে, যদিও আপনি সম্পদশালী কিন্তু হয়তো এমন কোন সমস্যা দেখা দিয়েছে যার ফলে আপনার সকল সম্পদ হারিয়ে গেছে আর আমি হয়তো রুপিয়ার মাধ্যমে আপনার সাহায্য করতে পারি, এ কারণেই এই থলি সাথে এনেছি। এরপর ভাবলাম যে রোগ ব্যাধি মানুষের নিত্য সাথী, হতে পারে আপনার ঘরে বা আপনার স্ত্রীর কোন সমস্যা হতে পারে, তাই আমার স্ত্রীকেও সাথে নিয়ে এসেছি যেন সে সেবা করতে পারে।

সেই সম্পদশালী ব্যক্তি বলে যে, হে আমার বন্ধু! আমার এখন কোন সাহায্যের প্রয়োজন নেই আর আমি এমন কোন সমস্যারও সম্মুখীন নই বরং আমি কেবল আমার ছেলেকে শেখাতে নিয়ে এসেছি।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০১৬ সকাল ৯:৫১
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এইচ এস সি রেজাল্ট ২০২৬ -ঢাকা বোর্ড

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৯

খুব অদ্ভুত ব্যাপার। আমাদের সময়ে চলে এলো নাকি? সেই চার দশক আগের মতন !
যা তথ্য পেলামঃ

In the 2026 HSC examinations, a total of 297,621 candidates appeared... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেখে শূন্য চাকত

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২


কেমন করে সাজাও তুমি?
কলমের সাথে- খাতার প্রেম,
মাটির সাথে মৃত্যুর লাশ,
ঘাসের গায়ে ঘাসফড়িংর কাশ।
শেষ বিকালে ভাবনার সাথে
চিন্তার হয় রে অবকাশ-
সবিই যেনো শূন্যে প্রেমে আশ
হাত গুটানো-জীবনের নাশ;
বাস্তবতার হয় নির্দয় স্বার্থপর
সময়ের শুধুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের হ্যালোইন উদযাপন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩


আজ ছিল হ্যালোইন। এই উৎসব ফসল কাটার মৌসুমের শেষ ও শীতের শুরু - এই উপলক্ষে হলেও বছরের এ সময়ে কানাডায় ঠান্ডা পড়ে যায়। তবে আজ আবহাওয়া ছিল ভালো। সারাদিন রোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×