somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালোবাসার সাতকাহন (ধারাবাহিক উপন্যাসঃ পর্ব-২)

২৫ শে মার্চ, ২০১৫ সকাল ৯:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২.
কিছু মানুষ রয়েছে, যারা মনে হয় জন্ম থেকেই ধুরন্ধর অর্থাৎ শিয়ালের মত একধরণের ধুর্তামি তাদের ডি এন এ’তে বহন করে পৃথিবীতে আসে। প্রতিটি পদক্ষেপে তাদের এই পণ্ডিতম্মন্য গুণ চমকাতে থাকে। এ রকম কয়েকজন মানুষের দেখা পেলো রায়হান, শমশেরনগর আবাসিক এলাকায় যখন ওদের তিনজনের পরিবার শিফট হয়ে এলো। এদেরই একজন জসীম নেতা। নিজেই চালাকি করে নামের শেষে নেতা টাইটেল লাগিয়ে নিয়েছে। এখন নেতা হোক বা না হোক, নেতার গুণ থাকুক বা না থাকুক- মানুষ তো নেতাই ডেকে চলছে।
‘এই, কই যাও?’
- জসীম নেতার বাড়ি।
কিংবা
‘ ভীষণ সমস্যায় পড়লাম, কি করি ভাই বলতো?’
- এ্যাতো টেনশন করস ক্যারে? জসীম নেতার কাছে যাস না।
এভাবে মানুষ স্বাভাবিক ভাবেই নিজের অজান্তেই জসীম নামের একজনকে ‘নেতা’ নামে ডাকতে ডাকতে তাকে মনের অগোচরেই নেতার আসনে বসিয়ে দেয়। যেভাবে এই আবাসিক এলাকার এই কূটিল মানুষটিকে সবাই বানিয়ে দিয়েছে।
সে অনেক কাহিনী।
আপনারা ধীরে ধীরে সবই জানবেন। আজই তো রায়হান এসেছে এই এলাকায়।
নিজের এক চরম দুরাবস্থায় চাকরিহীন রায়হান কে ঢাকার বাসা ছেড়ে দিয়ে উপজেলার এই নির্জন গ্রাম্য পরিবেশে চলে আসতে হয়েছে।
একজনের ফেলে রাখা প্রায় পরিত্যক্ত যায়গায় অনেকটা ‘কেয়ারটেকার’ হিসেবেই থাকবে সে।
অন্তত বাসা ভাড়া দেয়া লাগবে না।আর কয়েকটি রুম করে দিবেন বলেছেন ঐ যায়গার মালিক। সেগুলো থেকে ভাড়া যা আসবে তা দিয়ে এই যায়গাটির রক্ষণাবেক্ষণ করায় ব্যয় করতে পারবে সে। ভিতরে অনেক যায়গা রয়েছে। চাইলে শাক-সব্জির আবাদও করতে পারবে।
বাহ!
মাস্টার্স কমপ্লীট করে শেষে একজন চাষী হতে যাচ্ছে শিহাব।
একজন সাধক। শুধুই কি সাধক। অনেক বড় সাধক। ঐ যে, একটা কবিতা আছে না-
‘সব সাধকের বড় সাধক
আমার দেশের চাষা’
দেশ মাতারই মুক্তিকামী
দেশের সে যে আশা’…
তবে সে হতে যাচ্ছে একজন আধুনিক চাষী। এই শব্দটি থেকে ঈ-কারের যায়গায় আ-কার দিলেই কেমন অর্থটা বদলে যায়। রুমাকে একথা বলতেই কেমন যেন চোখ পাকিয়ে তাকিয়েছিল রায়হানের দিকে।
আর তাকাবেই বা না কেন?
রুমার বিদেশে অবস্থানরত মামার বদৌলতেই তো বিনে-পয়সায় এই থাকার যায়গাটুকু পেয়েছে ওরা। নাহলে কে আজকাল একেবারে মুফতে থাকার যায়গা দেয়? তাও আবার কয়েকটি এক্সট্রা রুম করে দিবেন ভাড়া দেবার জন্য। সেই টাকাগুলোও ওদের কাজে লাগাতে পারবে।
ট্রাক থেকে সব মালামাল বুঝে নামিয়ে ট্রাক বিদেয় করে দিতে দিতে সেই দুপুর পার হয়ে গেলো। মালামাল নামাতে গিয়ে ড্রেসিং টেবিলের অনেক পুরনো বেলজিয়াম কাঁচের আয়নাটা চুরমার হয়ে গেলো। আর রায়হানের একটি ব্লেজার নাই হয়ে গেলো। কিভাবে হল, তা নিয়ে মাথা ঘামাবার সময় নেই এখন আর। ক্ষিদেয় পেট চোঁ চোঁ করছে। আর এখানে গ্যাসের লাইন এখনো আসেনি। আপাতত স্টোভে রান্না করতে হবে কয়েক বেলা। গ্যাসের সিলিন্ডার কিনে তারপর পার্মানেন্ট বন্দোবস্ত।
মিতু পুরো যায়গার ভিতর একা একা ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। সবে চার বছরে পড়েছে। রায়হান আর রুমার এই একটিই মেয়ে। ওদের দুজনের অস্তিত্ব। সকল কিছুর কেন্দ্র। মিতুকে ঘিরেই দুজনের সকল পথচলা। তাইতো সময়ের ফেরে রাজধানীর ফাস্ট লাইফে অভ্যস্ত একটি পরিবার আপাতদৃষ্টিতে নিরিবিলি এক গ্রাম্য পরিবেশে আসতে বাধ্য হয়েছে। চার বছরের মিতু খুব এক্সাইটেড। ওর কাছে নতুন এই যায়গাটি তার নবরুপের প্রথম দর্শণধারী গুণের মায়ার চমক দেখিয়ে ওকে ওর কচি মনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করা শুরু করেছে ইতোমধ্যে।
নতুন যায়গায় কেউ এলে নানান রঙের মানুষ দেখতে আসে- কারা এলো।
একটু বাজিয়ে দেখে কেউ। কেউবা মাপতে আসে। উদ্দেশ্য নিয়ে আসে অনেকে। কেউবা হুদা কামে আসে।
এরকম একজনকে রায়হান দেখতে পেল মিতুর সাথে কথা বলছে। রায়হানের থেকে কয়েক বছরের ছোট হবে এমন একজন এবং মিতুর কিছু কথাবার্তা-
‘ কি নাম তোমার বাবু?’
-মিতু।
‘বাহ! সুন্দর নাম।’
-থ্যাংক ইউ আংকেল।
‘তোমরা আগে কোথায় থাকতে?’
- রামপুরায়।
‘ এখানে চলে আসলে কেন?’
- পাপার চাকরি নাই। টাকাও নাই।
আলোচনার এমন ক্লাইমেক্স অবস্থায় রুমার ডাকে মিতুকে চলে যেতে হয়। স্বল্প পরিচিত আংকেলকে বাই বলে মিতু মায়ের কাছে চলে যায়। মিতুর এই আংকেলটি এলাকায় নতুন আসা এই ছোট পরিবারটির ভিতরের আসল খবরটি জেনে ফিরে যায়। অনেক কাজ বাকী রয়ে গেছে তার। পেটটাও কিছুটা ফুলে গেছে। নতুন পরিবারটির সম্পর্কে পাওয়া খবরগুলো ‘যায়গামত’ পৌঁছে দিতে না পারলে শান্তি হচ্ছে না।
এই ধরণের লোক হল ‘রয়টার’ টাইপ। এরা খবরাখবর দ্রুত পৌঁছাতে বেশ উস্তাদ।
ঘন্টাখানেকের ভিতরেই শমশেরনগর আবাসিক এলাকার অধিকাংশ বাড়ির মালিকদের জানা হয়ে গেল যে, ঢাকার রামপুরায় থাকত এমন একটি পরিবার এই এলাকায় থাকতে এসেছে- যার কর্তা ব্যক্তিটি বেকার। সুন্দর একটি বউ রয়েছে। আর পুতুলের মত একটি মেয়ে। কিন্তু এরা সহায়-সম্বলহীন।
বিকেলের দিকেই সবাই রায়হানদের থেকে সকল আগ্রহ হারিয়ে ফেলল।
সমাজে অর্থ-বিত্ত এমনই একটি ফ্যাক্টর।
মানুষের আগ্রহকে ধরে রাখে এই জিনিসটি।
যেটি রায়হানের ঠিক এই মুহুর্তে নাই।
তাই সকলের চিন্তা-ভাবনায়ও রায়হান নামে কেউ ‘কিছুই’ দাগ কাটার মত রেখে যেতে পারল না।
সে প্রথম দর্শনে স্রেফ নাই হয়ে রয়ে গেল এই আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের কাছে।
(ক্রমশঃ)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×