somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিংকর্তব্যবিমূড় || নিচু তলার উকিল

০২ রা মার্চ, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সবেমাত্র রাত এগারোটা। ব্যাচেলর লাইফে এতক্ষণে যদিও একপ্রহরের ঘুম শেষে দ্বিপ্রহরে পদার্পণ করতাম। প্রকৃতিতে শীতকাল বিরাজ করছে। যদিও বেশ কয়েকদিন ধরে শৈত্যপ্রবাহের দাপটটা একটুই বেশিই অবলোকন হচ্ছে। আমাদের গ্রামের বাড়িটা খুব একটা চাকচিক্যময় নয়। আশেপাশের মানুষজনের বাড়ী টিন কিংবা দালানের হলেও উকিলবাবুর বাড়ী সেই মান্ধাতা আমলের।

খড়ের চাল আর পাঠখড়ির বেড়ার সমন্বয়ে এক অদ্ভুত রাজকীয় প্রাসাদ উকিলবাবুর। অনেকের অনেক রকম স্বপ্ন থাকলেও উকিলবাবুর খুব একটা বড় স্বপ্ন নেই। এই ধরুন দুইবেলা দুইমুঠো ডাল ভাত খেতে পারলেই হলো। জীবন তো আর গণিত বইয়ের জ্যামিতি অধ্যায়ের পিথাগোরাসের কোন উপপাদ্য নয় । এ বড়ই কঠিন জিনিস। চাইলে আপনি অনায়াসেই উকিলবাবুর মতো খড়ের ঘরে কাটিয়েই জীবনটাকে উপভোগ করতে পারেন। শুধু দরকার পার্থিব জীবনের সব রকম মোহমায়াকে ত্যাগ করবার খুবই সাধারণ একটা মন-মানসিকতা ও বাস্তবতা মেনে নেয়ার ক্ষমতা।

খড়ের ঘর বিধায় শিশিরের টুপটাপ শব্দ শোনা না গেলেও পাঠখড়ির বেড়ার ফাঁক দিয়ে ঠিকই কুয়াশা ঢুকছিল অনবরত। সদ্য বিবাহিতা বউ আমার মোবাইলের ডাইরিতে আমার কিছু কুখাদ্য লেখা পড়ছিলো। স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ চোখ আটকে যায় অশরীরী জল নামক কবিতার শিরোনামে। বউকে বললাম এটা পড়না পরের টা পড়। কিন্তু এই কথা বলাতেই বিপদ গেল আরও বেড়ে । বউয়ের কৌতুহুল বেড়ে গেল আসমান সমান। অতঃপর পড়া শুরু করে দিল। নিশ্চিত কপালে শনির দশা আছে ভেবে আমিও চৌকির কোণায় গিয়ে পাঠখড়ির বেড়ার গা ঘেঁষে চুপটি করে শুয়ে রইলাম। বউ একটু শব্দ করেই পড়ছে....
আমি জেনে গেছি রোশনি,
আমার জন্য তোমার শহরে কারফিউ চলে।
যৌনতার বীর্য গলে পড়া এ শহরের বুকে তবু সন্ধ্যা নামে না।
চর্ব্য চোষণে ব্যস্ত নগরীর যৌনাঙ্গে নামাতে পারিনি প্রেমহীন জলের স্রোত।
অক্ষমতা নয় বরং অস্তিত্বের লড়াইয়ে কৌশলী হয় অশরীরী জল।
কামুক দুনিয়ায় উলঙ্গ হয় আমার সকাল; চৈতালি দুপুরের সঙ্গমে ভেসে যায় বৈকালিক সুখ।
মিষ্টি কথার স্তন টিপে টিপে স্বৈরাচারী হয় তোমার ঠোঁট।
স্বমেহনের চাতুর্যতায় বিবর্তনবাদে ঢেলে দেই ঘৃণার বীজ।
রোশনি,
তোমার আনবিক শৃঙ্গারে পুড়ে যায় আমার সংবিধান।
ঈশ্বর আমায় ক্ষমা করুন, কোন অভিযোগ নয়, নয় কোনো অনুযোগ
এ রাজ্যে
একফোঁটা প্রেম নেই।
এবার বুঝি আমার যাবার সময় হল!

পড়া শেষে সদ্য বিবাহিতা বউ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো। আমি স্পষ্টত দেখতে পাচ্ছিলাম আমার বউ ঘামছে। তার মুখাবয়বে একরাশ হতাশা সাথে রাজ্যের অজানা প্রশ্নেরা ভীর জমাচ্ছে.......... (চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মার্চ, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:০৭
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন-উচাটন

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:৫০


তিড়িং বিড়িং ফাল পাড়ি,
যাচ্ছে রে মন কার বাড়ি?
পুড়ছে তেলে কার হাঁড়ি,
আমি কি তার ধার ধারি!

পানে চুনে পুড়ল মুখ,
ধুকছে পরান টাপুর-টুপ;
তাই বলে কি থাকব চুপ?
উথাল সাগর দিলাম ডুব।

আর পারি না... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভয়ংকর সেই খবরের পর… সন্তানের হাতটা শক্ত করে ধরুন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৫

আজ সকালে খবরটি পড়ে আমার মনটা একদম ভেঙে গেল। ভাবতেই ভয় লাগছে—আমাদের সন্তানদের আমরা আসলে কতটা অরক্ষিত পরিবেশে বড় করছি! ছোট্ট একটি নিষ্পাপ শিশু, যে পৃথিবীটাকে ঠিকমতো চিনতেই শেখেনি, তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু খতরে মেঁ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


শুধুমাত্র মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে শুভেন্দু। তার বক্তব্যের মূলপ্রতিপাদ্য হলো হিন্দু খতরে মেঁ! আশ্চর্যের বিষয় হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা নাকি মুসলিমদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে, কিছুদিন পরেই নাকি পশ্চিমবঙ্গ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময় খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে।

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩০

দিনগুলো কেমন যেন দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে!
দেখতে দেখতে মাস শেষ হয়ে যাচ্ছে,
এইতো সেদিন থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করলাম,
আর এদিকে দেখি চার মাস শেষ হয়ে পাঁচ মাস চলছে। অথচ আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×