কিন্তু ভালবাসার এই ফুল কোথায় ফুটে তাহা আমার জানা নাই, ইহা ভুপৃষ্ঠের কোন স্থান দখল করিয়া বায়ু, পানি আহরন করিয়া যে কিভাবে বাড়িয়া উঠে সে বিষয়েও আমার ঢের সন্দেহ রহিয়াছে। ইহার বীজের সন্ধান করিতে গিয়া দুইদিন দুইরাত পার করিয়া অম্লান বদনে নিজ পূর্বাবস্থানে ফিরিয়া আসিয়া অনুসন্ধান চালাইতে থাকি। ভালবাসার ফুল আমাকে পাইতেই হইবে ইহাই আমার জীবন মরন পণ। ভালবাসার ফুল খুঁজিতে গিয়া যাহা কিছু জানার প্রয়োজন ছিল তাহার উত্তর সন্ধান করিতে গিয়া প্রথমেই নিজেকে অপরিপক্ক মনে হইল। অন্য পাত্র খুঁজিতে মাঠে নামিয়া পড়লাম।
হঠাৎ পথিমধ্যে আমার পন্ডিত বন্ধুর সহিত সাক্ষাৎ ঘটিলে, বন্ধুকে থামাইয়া "ভালবাসার ফুল"-এর দফা রফা করিতে তাহাকে পান সুপুরির দোকানে নিয়া হাজির হইলাম। না হয় হওক আজকে কিছু খরচাদি, তবু এ "ভালবাসার ফুল"-এর বিহিত করিতেই হইবে।
ভাইয়ে পন্ডিত, ভালবাসার ফুল কিহে
ইহা জগতের কোন দৃষ্যমান ফুল নহে, ইহার কোন গন্ধ অনুধাবন করা যায়না কিন্তু সুবাস পাওয়া যায়, ইহা দুটি হৃদয়ের মিলনের একটি প্রতিচ্ছবি।
ভাইয়ে পন্ডিত, ইহা কিভাবে ফুটে?
শরীর যাহার ভূমি, মন তার বীজ, মূলবোধ যাহার আলো বাতাস, আকর্ষন তার বাড়িয়া ওঠা
আমি তাহার পন্ডিতব্য বাক্যের অর্থ বুঝিতে অক্ষম ছিলাম বিধায় হাঁ করিয়া তাহার শব্দ, বাক্যের জটলা গলাধকরনঃ ছাড়া দ্বিতীয় কোন উপায় ছিলনা।
ভাইয়ে পন্ডিত, ইহা কোন দেশে বেশী জন্মায়?
ইহার কোন জাত নাই, নাই কোন বর্ণ, মানব সৃষ্টির মূল থেকেই ইহা যুগ যুগ ধরিয়া চলিয়া আসিতেছি এবং এ জগৎ সংসার যতদিন রবে এ ফুলও ততদিন বাঁচিবে।
তবে আমার কেন এতদিনে ফুল ফোটেনাই?
পন্ডিত সহসাই নীরব হইয়া গেল, মুখে কোন কথা রহিলনা
পন্ডিতের মুখের দিকে তাকাইয়া তাহার ভাবখানির দুর্বোধ্য অর্থ আমার আর বোঝা হইলনা
ভালবাসার ফুল না হয় বুঝিলাম কিন্তু আমার কি তবে ভালবাসার ফুল ফুটিবেনা?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


