somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উষ্ণতার খোঁজে

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ৯:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বেঁচে থাকার খুব বেশি যুক্তিগ্রাহ্য কারণ আমার ছিল না। তাই, যখন মরে যাবার চিনত্দাটা মাথায় এলো, একেবারেই অবাক হইনি। আট মাস আগে চাকরি খুইয়েছি, দুইমাস হলো প্রেমিকা। সারাদিন রাসত্দায় ঘুরি। প্রথম প্রথম বেশ লাগত, দসত্দয়ভস্কির উপন্যাসের সব চরিত্রই এমনটি করে। কিন্তু ঐ যে, রবীন্দ্রনাথ বলে গেছেন, "বিধাতার রাজ্যে ভাল জিনিস যত কম হয় ততই মঙ্গল, নাহলে ভালর ভীড়ে ভালটাই হয়ে যাবে মাঝারি।" একসময় সেই ভালটাই বোর লাগতে শুরু করল। প্রতিদিন একই রুটিন, একই প্রত্যাশা নিয়ে পত্রিকার রাশিফল দেখা, একই স্বপ্ন, একই সম্ভাবনা - প্রাপ্তিটুকুই শুধু নেই।

তাই, একদিন হুট করেই সিদ্ধানত্দটা নিয়ে ফেললাম। কী আশ্চর্য, মরে যাবার দিনণ যখন প্রায় ঠিক করে ফেলেছি, তখন থেকেই জীবনটাকে আশ্চর্য রকমের ভাল লাগতে শুরু করল। বিছানায় ফেলে রাখা আমার আধাভাঁজ করা কম্বল, এ্যাসট্রে উপচে পড়া ছাই, আধ ইঞ্চি ময়লা জমে যাওয়া কীবোর্ড, চায়ের কাপ বেয়ে সারি বেঁধে চলতে থাকা পিঁপড়ে সব সব কিছু অসাধারণ শিল্পময় মনে হলো। এমনকি পাশেই কনষ্ট্রাকশন শুরু হওয়া নতুন বিল্ডিংটা - যার ইট, কাঠ, হাতুড়ির শব্দে প্রতিদিন সকালে আমার দু'ঘন্টা ঘুম বাকি থাকে - সেই আধো সমাপ্ত বিল্ডিংটার সমাপ্তি দেখে যেতে পারব না বলেও মনের মধ্যে হাহাকার শুরু হলো।

নিজেকে বোঝালাম, সিদ্ধান্ত যখন নিয়েই ফেলেছি তার প্রতি সৎ থাকতে হবে। যে কোনো কিছু ছেড়ে যেতেই কষ্ট হয়। এটাই জগতের নিয়ম। শার্টটা গায়ে চাপিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলাম। ফাঁকা রাস্তা- মাঝে মাঝে একটা দুটো গাড়ি হুস করে বেরিয়ে যাচ্ছে। আমি চারদিকে চোখ বুলালাম - কোণের দিকে একটা চায়ের দোকান এত রাতেও খোলা। সারারাতই খোলা থাকবে বোধহয়। আলতো পায়ে হেঁটে দোকানে এলাম। গোল্ডলীফ? না, আজ বরং বেনসনই হোক। শেষ সিগারেট - একটু দামি হলে খুব বেশি ক্ষতি নেই।

শীত শীত লাগছে। মরে যাবার আগে মানুষ অনুভূতিহীন হয়ে যায় - কথাটা তাহলে ডাহা মিথ্যে। অনেকদূরে কতগুলো ছেলে আগুন পোহাচ্ছে। হাঁটতে হাঁটতে গিয়ে বসলাম সেখানে। নতুন অতিথির ব্যাপারে ওদের খুব একটা আগ্রহ নেই। আমি কিন্তু খুব আগ্রহভরে ওদের দেখতে লাগলাম। একটি ছেলের পা ভাঙা - এ্যাকসিডেন্ট হয়েছিল বোধহয়। আর একজন ঘুমে অবচেতন - সারাদিন নিশ্চয়ই অনেক খাটাখাটনি করেছে। সবচেয়ে ছোটটি 6 বছরের --- অন্ধ। যে জায়গায় চোখ থাকবার কথা সে জায়গায় পিং পং বল সাইজের দুটো গর্ত। আগুনটা নিভে যেতেই বন্ধ চোখদুটোর সাহায্য না নিয়ে পাশে রাখা কিছু কাগজ সে আগুনের মধ্যে ফেলল। লকলক করে আবার জ্বলে উঠল শিখা। আগুনের ওম পেয়ে তার মুখে হাসি ফুটে উঠল।

চাওয়া নেই, পাওয়া নেই - শুধু উষ্ণতার জন্যই কি বেঁচে থাকা যায়? এভাবে?

যায় বোধ হয়। তাহলে? আরও কিছুদিন বেঁচেই দেখি না - উষ্ণতা খুঁেজ পাই কি না?

[প্রতিটি ঘটনা ও চরিত্র কাল্পনিক]



সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হারানো বিজ্ঞপ্তি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩১



অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানানো যাচ্ছে যে, গত প্রায় দুই বছর যাবৎ বিবেক, বুদ্ধি, জ্ঞান, বিচার ও বিবেচনা - এই পাঁচজনকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একসময় তাঁরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:২৫


মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

শেখ হাসিনা কি ফিরবেন?
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কখনো কখনো একটি বৈঠকের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে- কোন বৈঠকটি হলো, কোনটি হলো না এবং কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইনকা চিপা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬


এখন পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে চলে আসা। যে সময়ে শ্রেণীকক্ষে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করার কথা, সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×