(পূর্ব প্রকাশের পর )
.............................
রাশেদভাই আমাদের চিনিয়েছিলেন, দুঃখ কাকে বলে।
রঘুনাথপুর গ্রামে গিয়ে আমরা অবাক হয়েছিলাম। ঝড় এসে যেন সমস্ত গ্রামটাকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। কোন ঘরের চাল উড়ে গেছে বাতাসে। কোন বাড়ির শুধু উঁচু দাওয়াটাই সা্য দিচ্ছে এখানে কিছু ছিল। গাঁয়ের মানুষ কেউ কেউ মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে। মাঝে মাঝে মেয়েলি কান্নার একঘেঁয়ে গুণগুণ শব্দ ভেসে আসছে। আবার এরই মাঝে দু'একজন নিয়তিকে মেনে নিয়ে স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করেছে। যার ক্ষতি একটু কম হয়েছে, সে সাহায্য করছে অন্যের ঘর মেরামত করতে।
যতই দেখছিলাম ততই অবাক হচ্ছিলাম। এই লোকগুলো আবার নতুন করে ঘর তুলবে। ঘূর্ণিঝড় তাদের মনোবল ভেঙে দিতে পারেনি। ওরা আস্তে আস্তে আবার নিজেদের সংসার গুছিয়ে তুলবে, নতুন কোনো স্বপ্ন দেখবে।
হ্যাঁ, ওরা স্বপ্ন দেখতে পারে- সত্যিকারের স্বপ্ন।
ঈশ্বরের পৃথিবীতে খেটে খাওয়া মানুষ চিরকালই আছে। সৃষ্টির আদি থেকেই এই শ্রেণীর মানুষের মধ্যে আছে এক বিচিত্র প্রাণশক্তি। এক পুরুষ থেকে আরেক পুরুষে, জন্ম জন্মান্তরে তারা এই প্রাণশক্তি বহন করে, নতুন ঘর বাঁধবার স্বপ্ন দেখে। এতে বিস্মিত হবার কি আছে?
তবু আমরা বিস্মিত হলাম। এই ঘটনাটি যেন আমাদের সমস্ত চেতনাকে অসাড় করে ফেলল। এরপর আমরা বার বার গিয়েছি রঘুনাথপুর। কখনো রাশেদভাইয়ের সাথে, কখনো নিজেরাই। দেখেছি, কতভাবে ওরা বঞ্চনার শিকার হয়!
পাইকারী ক্রেতারা ফসলের মৌসুমে ওদের কাছ থেকে আশি কেজি ধান কিনে দুই মণের টাকা দেয়, সামান্য কেজি আর সেরের তফাৎটা পর্যন্ত ওরা বোঝে না। ওদেরকে ঠকিয়ে যে সবাই লাভ করছে এই জ্ঞানটুকু পর্যন্ত নেই, বা থাকলেও প্রতিবাদ করার মত সাহস অর্জন করতে পারে না।
রাশেদভাই আমাদের বলতেন, তোমরা শিতি ছেলে। ওদেরকে সচেতন করে তোল। একবারে না পারলে বারবার চেষ্টা করো, হাল ছেড়ে দিও না।
(আগামী পর্বে সমাপ্ত)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






