somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুগ্ধ পাঠক -৫ : নজমুল আলবাব (মরুভূমির গোলাপ চাষী)

০৪ ঠা মে, ২০০৭ বিকাল ৫:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লেখা পড়ে লেখক সম্বন্ধে আইডিয়া করতে পারেন, আপনারা?

মোঁপাসা - ব্যক্তিজীবনের সাথে তার লেখার প্রেম, মানসিক টানাপোড়েন, আর উন্মত্ত যৌনতার পদে পদে মিল। তার লেখা চরিত্রগুলোও তার মত সিফিলিসে ভোগে। সত্য মিথ্যা জানি না - শুনেছি, তিনি নাকি পৃথিবীর সেই সব সৌভাগ্যবানদের একজন যারা কিনা রতিরত অবস্থায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেছেন ।

আবার বিপরীত চিত্রও আছে।

জুলভার্ন - বাপরে বাপ! আমার শৈশব, কৈশোরের ঘুম কেড়ে নেয়া সব লেখা: চাঁদে অভিযান, সাগর তলে, আশি দিনে বিশ্বভ্রমণ। অথচ, এই লোকটি নাকি মারাত্মক ঘরকুনো! জীবনে বাড়ির বাইরে খুব কম গিয়েছেন। আমি বিশ্বাস করিনি। হতেই পারে না এমন!

ভূমিকাটা মনে হয়, একটু বড় হয়ে যাচ্ছে। সংক্ষেপ করি এবার।

নজমুল আলবাব এর লেখা পড়ে আমার মনে কোনো কনফিউশন জাগে না কখনও। তার আটপৌঢ়ে শব্দমালা আমাকে একজন নিরীহ এবং খাটি ভদ্রলোক এর ছবি উপহার দেয়। আমি যদি ভবিষ্যতে কোনোদিন জানতে পারি, তিনি খুব ডাকাবুকো টাইপের লোক আমি মেনে নেব না। কিছুতেই না।

মেনে নেব না -কারণ, তার লেখা প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি বাক্য আমাকে জীবন্ত একটি মানুষের সাথে কথোপকথনের অনুভূতি জাগায়। 'ভূল সময়ের মর্মাহত বাউল' - আমার মনে বাউল হয়েই বেঁচে থাকবে।

নজমুল আলবাবের লেখার যে জিনিসটি আমাকে সবচেয়ে বেশি টানে, তা হলো পরিমিতিবোধ। এই জিনিসটার খুব অভাব আমার মধ্যে।
আমি যেখানে ধান ভাঙতে শিবের গীত গাই, সেখানে উনি মাত্র ৫ টি লাইন খরচ করেন 'ডোনেশন' এর মত ৫০০০০০০ লাইনের ব্যাপ্তিওয়ালা পোস্ট দিতে।

'আমাদেরও ছিল সুসময়'- এমন একটি লেখা যে লেখায় বার বার কমেন্ট করতে চেয়েছি। পারিনি।
পারব কী করে? চোখ ঝাপসা হয়ে গেলে, কীবোর্ডের অক্ষরগুলোতো অস্পষ্ট হবেই।
মানুষ কেমন করে ওমন লেখে?
সাধারণ থেকে স্বপ্নবাজ হবার গল্প?

'দেয়ালের দাগ' - ছোট ছোট বাক্যে সাজানো একটি অসাধারণ ছোটগল্প। সাইদ, রনজু, রনজুর বাবা মা, তাদের দ্বিধা, সংশয়, সুররিয়েলিস্টিক উপন্যাসের ডিটেইলস এর মত দেয়ালে দেয়া দাগ - সবকিছু কতই না আপন!

'সে বড় মায়াবতী ছিল,
সে ছিল ছায়াময় বৃক্ষের মত':
'অর্ণা বন্ধু আমার' - কবিতার দুটো লাইন। দুটো লাইনে কী সুন্দরভাবে আমরা একজন মায়াবতীকে দেখি!!! আর এরকম বন্ধুর জন্য বুকের মধ্যে কতশত দীর্ঘশ্বাস জমা করি।

'আমার কোনোদিন দুধ চা খাওয়া হবে না' - গল্পটি সম্বন্ধে আমার কিছু বলার নেই। সেই যোগ্যতাও আমার নেই। আমার শব্দভাণ্ডার নি:শেষ করেও এর মূল্যায়ন করতে পারব না।
এই ব্লগের পাঠকরা মূল্যায়ন করেছেন গল্পটিকে ভালবেসে টপ রেটেড লিস্টে তুলে। বক্তব্যধর্মী পোস্টে যখন টপ রেটেড পোস্ট ভরে যায়, তখন নজমুল আলবাব এর গল্পটি একই লিস্টে দেখে অহংকার হয়। ভরসা পাই, সত্যিকারের সাহিত্য এখনও মূল্যহীন হয়ে যায়নি।

'আমাদের ক, খ, গ, ঘ এবং ঙ' - আরেকটি দুর্দান্ত গল্প। কতটা হতাশা থেকে এরকম একটি গল্প লেখা যায় - জানি না।

যে গল্প কেউ বলে না,
সেই গল্প যে বলে-----
সে ভূল সময়ের মর্মাহত বাউল হতে পারে । কিন্তু, এতে তার চরিত্রের পূর্ণ প্রকাশ আমরা পাই কি?

আমি অন্তত পাই না। তার জন্য আর একটি বিশেষণ আমি চোখ বন্ধ করে যোগ করে দেই - 'মরুর বুকে একনিষ্ঠ গোলাপ চাষী।'

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মে, ২০০৭ রাত ১০:৪১
৪২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলঃযাঁর হাত ধরে পাকিস্তানের জন্ম

লিখেছেন কিরকুট, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭



দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের ভূমিকা একদিকে যুগান্তকারী, অন্যদিকে গভীরভাবে বিতর্কিত। যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মপ্রক্রিয়ায় তিনি ছিলেন একেবারে কেন্দ্রীয় চরিত্র। অথচ কয়েক... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি অসভ্য জাতির রাজনীতি!

লিখেছেন শেরজা তপন, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:২১


সাল ২০০৮। ব্লগারদের দারুণ সমাগম আর চরম জোশ। ব্লগে ঝড় তুলে দুনিয়া পাল্টে দেওয়ার স্বপ্ন তখন সবার।
বিএনপি আর জামায়াত জোট তখন ভীষণ কোণঠাসা। কেউ একজন মুখ ফসকে ওদের পক্ষে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মাছে ভাতে বাঙালি - যায় না আর বলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০৫


মাছে ভাতে আমরা ছিলাম বাঙালি,
উনুন ঘরে থাকতো, রঙবাহারী মাছের ডালি
মলা ছিল -:ঢেলা ছিল, ছিল মাছ চেলা,
মাছে ভাতে ছিলাম বাঙালি মেয়েবেলা।

কই ছিল পুকুর ভরা, শিং ছিল ডোবায়
জলে হাঁটলেই মাছেরা - ছুঁয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃস্বঙ্গ এক গাংচিল এর জীবনাবসান

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৪৯

বিয়ের পর পর যখন সৌদি আরব গিয়েছিলাম নতুন বউ হিসেবে দারুন ওয়েলকাম পেয়েছিলাম যা কল্পনার বাইরে। ১০ দিনে মক্কা-মদিনা-তায়েফ-মক্কা জিয়ারাহ, ঘোরাফেরা এবং টুকটাক শপিং শেষে মক্কা থেকে জেদ্দা গাড়ীতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝগড়াটে মেটা এআই.....বেটা এআই X#(

লিখেছেন অপ্‌সরা, ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


আমি তখন প্রায় সারাদিনই শুয়ে শুয়ে দিন কাটাতে বাধ্য হয়েছি। হঠাৎ করে এমন অপ্রত্যাশিত থমকে যাওয়া মেনে নেওয়া তো দূরের কথা আমাকে যারা একটু আধটুও চেনে তারাও মানতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×