সকালে যখন প্রথম সংবাদটা এই পোস্টের মাধ্যমেদেখলাম ব্লগে তখন থেকেই মনটা বেশ খারাপ লাগছিল । ব্যক্তিগত ভাবে পরিচয়
না থাকুক একই ব্লগে যেহেটু লেখালেখি করছি সেই ক্ষেত্রে শুধু আমারি না আমার মত উনার যত সহ ব্লগার আছে
সকলেরি খারাপ বা কষ্ট লাগার কথা।তার পরেও যত সময় যেতে যাচ্ছে ততই যেন ঘটনা আরো গভীর হতে লাগছে ।
বিশেষ করে বিকেলে যখন হাসান মাহাবুব ভাইয়ের দ্যা কিউরিয়াস কেস অফ সাহসী সন্তান, কী হয়েছে ব্লগার সাহসী সন্তানের? অনুসন্ধানী পোস্ট এই পোস্টটা পড়লাম তখনো জট
লাগতে ছিল।বিশেষ করে যখন হাসান মাহাবুব ভাইয়ের পোস্টে প্রিয় ব্লগার কাল্পনিক_ভালোবাসা ভাইয়ের মন্তব্য দেখলাম তখন
আমার মাথায় আরো জট লাগতে শুরু করল । মন্তব্যটি তুলে ধরা হলঃ
কাল্পনিক_ভালোবাসা বলেছেন: হাসান ভাই, আসলে ধন্যবাদ দেব না কি বলব ঠিক বুঝতে পারছি না। যে পরিস্থিতি আপনি আমাদের সকলের সামনে তুলে ধরলেন, সেটা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত এবং আমাদের সকলের জন্য বিব্রতকর।
গতকাল অপর্ণা আপার ফেসবুক পোস্টে যখন জানতে পারলাম, শান্তি মিশনে গিয়ে ব্লগার সাহসী সন্তান নিহত হয়েছেন, তখন প্রচন্ড খারাপ লাগা শুরু হয়। সেই প্রেক্ষাপট থেকে আমি এই ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য চেষ্টা চালাই। কারন অফিসিয়াল কোন স্টেটমেন্ট ছাড়া আমরা আনুষ্ঠানিক শোক প্রকাশও করতে পারব না।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ খোঁজ করতে জানা যায়, আফ্রিকার মালিতে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সময় গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের সাথে সন্ত্রাসীদের সংঘর্ষ হয় এবং আমাদের শান্তিরক্ষীরা সফলভাবে তাদের প্রতিহত করে। পরবর্তীতে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখ দায়িত্ব পালন শেষে ক্যাম্পে ফেরার পথে তারা আবার আরো শাক্তিশালী সন্ত্রাসীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়। সাহসীকতা ও সফলতার সাথে তারা পুনরায় সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করে। তবে, সংঘর্ষের এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীদের পুতে রাখা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইজ (আইইডি) বিস্ফোরণে ০৩ (তিন) জন বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী নিহত এবং ০৪ জন আহত হয়। নিহতদের নাম – সার্জেন্ট আলতাফ, ইএমই (দিনাজপুর), ল্যান্স কর্পোরাল জাকিরুল, আর্টিলারি (নেত্রোকোনা), সৈনিক মনোয়ার, ইষ্ট বেংগল (বরিশাল)। আহতদের নাম মেজর জাদিদ, পদাতিক (ঢাকা), কর্পোরাল মহিম, পদাতিক (নোয়াখালী), সৈনিক সবুজ, পদাতিক (নওগাঁ) এবং সৈনিক সরোয়ার, পদাতিক (যশোর)। আহতদের গাঁও শহরে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয়েছে। মালিতে নিয়োজিত বাংলাদেশী অন্যান্য শান্তিরক্ষীগণ নিরাপদে আছেন ।
এই পর্যায়ে আমি নৌ সদর দপ্তরে খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করি। সেখানে কর্মরত একজন পদস্থ কর্মকর্তার মাধ্যমে জানা গেলো, নৌ বাহিনীর কোন সদস্য কোন মিশনে গিয়ে আহত বা নিহত হয় নি। এই পর্যায়ে একটা গুরুত্বপূর্ন তথ্য জানতে পারি যা শুনে আমার মনে কিছুটা সন্দেহ বা দ্বিধা তৈরী হয়। তথ্যটি হচ্ছে, গত জুন মাসের ১৩ তারিখে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর ১৩৫ জন সদস্য লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ব্যানকন-৮ (ইউনিফিল) এ যোগদানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ত্যাগ করে এবং পরবর্তীতে উক্ত নৌ সদস্যগণ লেবাননে মোতায়েনকৃত নৌবাহিনী জাহাজ ‘আলী হায়দার’’ ও ‘নির্মূল’এ যোগদান করেন।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে প্রথমবারের মত নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধ জাহাজ সরাসরি লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ শুরু করে। যুদ্ধ জাহাজ দুটি ভূ-মধ্যসাগরে মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে ইউনিফিলে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত রয়েছে। জাহাজ দুটি লেবাননের ভূ-খন্ডে অবৈধ অস্ত্র এবং গোলাবারুদ অনুপ্রবেশ প্রতিহত করতে দক্ষতার সাথে কাজ করে চলেছে। পাশাপাশি লেবানীজ জলসীমায় উক্ত জাহাজ দুটি মেরিটাইম ইন্টারডিকশন অপারেশন, সন্দেহজনক জাহাজ ও এয়ারক্রাফটের ওপর গোয়েন্দা নজরদারী, দুর্ঘটনা কবলিত জাহাজে উদ্ধার তৎপরতা এবং লেবানীজ নৌসদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের কাজ করে যাচ্ছে।
এই অবস্থায় যখন জানতে পারলাম, সাহসী সন্তান প্যারা জাম্প করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন, তখন আসলে কিছুটা সন্দেহ তৈরী হয়। পরবর্তীতে আমার কাছে থাকা সাহসীর নাম্বারে আমি যোগাযোগ করলে, আমি প্রথমে জিজ্ঞেস করি, সরোয়ার কই? কি খবর ওর? প্রথমে ফোনের ওপাশে কিছুটা থতমত খেয়ে জী ভালো আছে টাইপের কিছু একটা বলা হয়। আমি তখন জিজ্ঞেস করি, সম্রাট কই? তখন বলা হয়, সে শান্তি মিশনে গিয়ে কয়েক মাস ধরে আহত অবস্থায় আছে এবং বর্তমানে নিউয়র্কের কোন এক সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। সামগ্রিক কথা বার্তা আমার কাছে খুবই হাস্যকর এবং বিভ্রান্তিমুলক লাগছে।
এখন জিজ্ঞেস করতে পারেন, সারোয়ার কে? সারোয়ার হচ্ছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সৈনিক যিনি গত ২৪ তারিখ সন্ত্রাসীদের আক্রমনে আহত হয়েছেন এবং যার বাড়ি হচ্ছে যশোর।
আরো অনেক কিছু ছিলো, অনেক প্রশ্ন ছিলো, এইগুলো ভদ্রতার কারনে প্রকাশ করতে পারছি না। তবে আমি ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপট থেকে এই বিষয়ে খোঁজ নেয়ার জন্য ডিফেন্সের কিছু বন্ধু এবং পুলিশ প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ ব্যক্তিকে অনুরোধ করব বলে ঠিক করেছি। ঘটনা সত্য মিথ্যা জানতে চাই।
পরিশেষে একটা কথা বলতে চাই, আমরা ব্লগার সাহসী সন্তানের সহ ব্লগার। তিনি ব্যক্তি জীবনে কি ছিলেন, সেটা নিয়ে মাথা ব্যাথা ছিলো না। আমরা তার পরিচয়ই খুশি ছিলাম এবং আছি। অনেক সময় মানুষ সামান্য খ্যাতির জন্য নিজের বিবেক বুদ্ধি বিসর্জন দেয়। এখনও বেশি দেরী হয় নি, আশা করব, সাহসী সন্তান ফিরে আসবে।
আমার মাথায় যে জট সেটা হল সব পোস্ট মন্তব্য পড়ে যা বুঝতে পারলাম আসলে আমাদের কোথাও তেমন বোধ হয়
মূল্যয়ায়নই করে না । না মানুষ জন্ম নিলে আবার একদিন মরতে হবে সেটা ঠিক আছে । আবার মানুষের জীবনে কোন দুর্ঘটনাও
বলে কয়ে আসেনা,সেটাও ঠিক আছে ।তাই বলে এমন না আমি বিদেশের মাটিতে ভালো কোন কাজ করতে গিয়ে মরে গেলাম বা
আহত হোলাম আর কৃতপক্ষ বেমালুম সেটাকে চাপিয়ে বা লুকিয়ে যাবে। বড় দুঃখ হয় আসলে আমি বলতে চাচ্ছি সাহসী ভাই এবং
অন্যান্য বাঙ্গালী যারা আহত বা নিহত হয়েছেন তারা যদি বাংলাদেশী না হয়ে অন্য কোন দেশের বা বিদেশী হত তাহলে তারা মানে যে
দেশের শান্তি মিশন বা প্যারা জাম্পে যাওয়া হয়েছে,সে দেশের প্রশাসন বা কৃতপক্ষ কি পারতো ঘটনা এভাবে এতটাদিন লুকিয়ে রাখতে ।
একবার ভাবলে শরীরে কাঁটা দিয়ে ওঠে,কতটা অনিশ্চয়তা নিয়ে একজন মানুষ এসব শান্তি মিশনে যান । কেহ মরল কি আহত হল
তার অতি আপনজন যারা তারা পযন্ত আসল খবরটি জানেন না বা তাদের পযন্ত জানানো হয় না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



